রবিবার, ২৭শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১২ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৬ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

তেল সংকটের সময় অবৈধ মজুদ অতিরিক্ত দামে বিক্রির নিউজ করায় সাংবাদিককে তেল দিলেন না ব্যবসায়ী

তেল সংকটের সময় অবৈধ মজুদ অতিরিক্ত দামে বিক্রির নিউজ করায় সাংবাদিককে তেল দিলেন না ব্যবসায়ী

চলতি বছরের মার্চ-এপ্রিল মাসে দেশে তীব্র জ্বালানি তেল পেট্রোল ও অকটেন ডিজেল সংকটের সময় অবৈধ মজুদ খুচরা পর্যায়ে অতিরিক্ত দামে বিক্রির অভিযোগে নিউজ প্রকাশের জের ধরে দৈনিক যুগান্তরের প্রতিনিধি ও দর্শনা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইকরামুল হক পিপুল কে তেল দিলেন না ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ কাজল।

তিনি দর্শনা বাসস্ট্যান্ডের রিনা-ইরা ফুয়েল ষ্টেশনের মালিক ও বাসস্ট্যান্ডে মাষ্টার পাড়ার মৃত আব্দুস সোবহান ছেলে।

গতকাল শুক্রবার বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে দর্শনা বাসস্ট্যান্ড সংলগ্ন আব্দুল্লাহ আল মাসুদ কাজলের দোকানে এই ঘটনা ঘটে। ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়েছে দর্শনা প্রেসক্লাব সহ বিভিন্ন প্রেসক্লাবের সাংবাদিক নেতৃবৃন্দ।

এ প্রসঙ্গে সাংবাদিক ইকরামুল হক পিপুল বলেন, আমার ব্যবহৃত মোটরসাইকেলের তেল শেষ হয়ে গেলে বাসস্যান্ডের রিনা-ইরা ফুয়েল ষ্টেশনে তেল কিনতে যায়। এ সময় তেল ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মাসুদ কাজল আমার নিকটা তেল বেচতে রাজি হননি।

তিনি বলেন, পরে মোটরসাইকেল মেকানিক খাজা কে ওই দোকান থেকে তেল এনে দিতে বলি। তখন মেকানিক ওই দোকানে গেলে তাকে বলে তেল সংকটের সময় ওই সাংবাদিক আমার নামে নিউজ করছিল এজন্য আমি ওকে তেল দিব না।

একথা শোনার পর, আমি এবার ওই দোকানের ভিডিও ধারণ করে তেল ব্যবসায়ীকে কেন তেল দেবেন না, এমন প্রশ্ন করলে তিনি জানান রোজার ঈদের মধ্যে তেল সংকটের সময় আমার বিরুদ্ধে অবৈধ তেল মজুদ বেশি টাকায় তেল বিক্রি করার অভিযোগে ভুল সংবাদ প্রকাশ করেছেন এজন্য আপনার কাছে তেল বিক্রি করব না।

পিপুল ল বলেন, আমি তাকে বলেছি, আমার প্রকাশিত সংবাদটি যদি মিথ্যা হয়ে থাকে, তাহলে আমার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতে পারেন। কিন্তু আপনি আমার বিরুদ্ধে কোনো আইনগত ব্যবস্থা নেননি কেন। এমন প্রশ্নের তিনি বলেন আমি এমনি কোন কোন কিছু করিনি। আমি একজন ভোক্তা হিসেবে আপনার কাছ থেকে তেল নিতে এসেছি এমন প্রশ্নে। তিনি রাগান্বিত হয়ে তিনি বলেন আমি আপনাকে তেল দিব না।

উল্লেখ্য, গত মার্চ এপ্রিল মাসে দেশে তীব্র তেল সংকটের সময় আব্দুল্লাহ আল মাসুদের বিরুদ্ধে পেট্রোল, ডিজেল ও অকটেন মজুদ এবং খুচরা পর্যায়ে নির্ধারিত দামের চেয়ে লিটারে অতিরিক্ত ২০ টাকা দরে বিক্রির অভিযোগ নিয়ে দৈনিক যুগান্তরে সহ বিভিন্ন পত্রিকায় সংবাদ ও অনলাইনে সংবাদ প্রকাশিত হয়।

সংবাদে তেল না পাওয়া কৃষক ও মোটরসাইকেল চালকদের ভুক্তভোগী ব্যক্তিদের ধারনকৃত ভিডিও বক্তব্যের বরাত দিয়েই নিউজটি প্রকাশ করা হয়েছিল।

এ বিষয়ে ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ আল মাসদ কাজল বলেন, দেশের তেল সংকটের মধ্যে রোজার শেষের দিকে সময় তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক ইকরামুল হক পিপুল অতিরিক্ত দামে পেট্রোলিয়াম বিক্রয়ের সংবাদ পরিবেশন করেছিল যে সংবাদটি সঠিক ছিল না।

তিনি বলেন,ওই সংবাদের কারণে আমার মনে কষ্ট ছিল। সে কারণেই পরে তার কাছে তেল বিক্রয় করতে চাইনি। ব্যবসা করতে গেলে রাগ করে থাকা ঠিক হয়নি,তেল না দেওয়া আমার ভুল হয়েছে বলে স্বীকার করেন।

এদিকে স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, তেল সংকটের সময় ওই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে তেল মজুদ ও অতিরিক্ত দামে বিক্রিসহ একাধিক অভিযোগ উঠেছিল।

তাদেদের কেউ কেউ দাবি করেন, আব্দুল্লাহ আল মাসুদ স্থানীয় জামায়াতের এক ওয়ার্ড সভাপতির ভাতিজা হওয়ায় প্রভাব খাটানোর সুযোগ পান।

তেল সংকটের মতো জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট সময়ে জ্বালানি মজুদ, নির্ধারিত মূল্যের অতিরিক্ত দামে বিক্রি এবং ক্রেতাকে তেল না দেওয়ার মতো অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি ও আইনগত পদক্ষেপের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়েছেন- দর্শনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন, দর্শনা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি মোহাম্মদ আওয়াল হোসেন, সাধারণ সম্পাদক মাসুম বিল্লাহ, চুয়াডাঙ্গা জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি অ্যাডভোকেট মানিক আকবর, সাধারণ সম্পাদক কামরুজ্জামান সেলিম, দামুড়হুদা প্রেসক্লাবের সভাপতি শামসুদ্দোহা পলাশ, সাধারণ সম্পাদক তানজিল হোসেন, জীবননগর প্রেসক্লাবের সভাপতি ফয়সাল মাহাতাব মানিক, সাধারণ সম্পাদক মোঃ রিপন হোসেন।

এ ব্যাপারে দামড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার লাভলী ইয়াসমিন বলেন, নিউজ করার কারণে একজন ভোক্তা কে তার পণ্য না দেওয়া এটা অপরাধ। ঘটনার সত্যতা পেলে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।

ইএইচপি/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন