, || ||

চুয়াডাঙ্গায় দেয়ালে ‘জয় হাসিনা’, ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বরে’ স্লোগান, সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ৬ ছাত্রীর সম্পৃক্ততা

চুয়াডাঙ্গায় দেয়ালে ‘জয় হাসিনা’, ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বরে’ স্লোগান, সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ৬ ছাত্রীর সম্পৃক্ততা

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয় সংলগ্ন শেখপাড়ার একটি বসতবাড়ির প্রাচীরে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় বঙ্গবন্ধু’, ‘জয় হাসিনা’ ও ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বরে’সহ বিভিন্ন রাজনৈতিক স্লোগান এবং অশ্লিল শব্দ লেখার ঘটনায় এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেলে স্থানীয় বাসিন্দাদের বিষয়টি নজরে আসে।

ঘটনাটি জানাজানি হলে চুয়াডাঙ্গা সদর থানা-পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে। পরে দেয়াল থেকে লেখাগুলো মুছে ফেলা হয়। পুলিশ বলছে, সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণে স্লোগান লেখার ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রীর সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে।

সরেজমিনে দেখা যায়, শেখপাড়ার ওই গলির একটি বসতবাড়ির প্রাচীরে কালো ও সাদা রঙের স্প্রে দিয়ে ‘জয় বাংলা’, ‘জয় হাসিনা’, ‘মুজিব সেনা’ ও ‘ফিরছি আবার ডিসেম্বর’ লেখা ছিল। এসব স্লোগানকে আওয়ামী লীগ ও দলটির রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট স্লোগান হিসেবে দেখা হয়।

স্থানীয়দের দাবী, গত বুধবার (৪ নভেম্বর) দিনের বেলায় বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রী জন্মদিন উদযাপন করতে ওই গলিতে যায়। পরে তারাই বসতবাড়ির দেয়ালে এসব স্লোগান লেখে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, দিনের বেলায় স্কুলের ছাত্রীরা এসে দেয়ালে এসব স্লোগান লিখেছে। একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এমন কাজ করবে, তা মোটেও আশা করা যায় না। এ ঘটনায় এলাকার মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শেখ রেজাউল করিম মুঠোফোনে বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর জেলা প্রশাসক মহোদয়ের নির্দেশে লেখাগুলো মুছে ফেলা হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ দেখে কয়েকজন ছাত্রীকে শনাক্ত করা গেছে। ছাত্রীরা কেন এমন কাজ করেছে, তা তদন্ত করে দেখা হবে। তদন্তের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

চুয়াডাঙ্গা সদর থানার তদন্ত কর্মকর্তা হিমেল রানা বলেন, ‘ঘটনাটি জানার পর পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে এ ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কয়েকজন ছাত্রীর সম্পৃক্ততার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। কারও নির্দেশনা বা প্ররোচণায় তারা দেয়ালে এসব স্লোগান লিখেছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।’

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের মধ্যে রাজনৈতিক সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার বিকাশের পরিবর্তে এ ধরনের কর্মকাণ্ডের পেছনে কোনো প্ররোচণা বা প্রভাব কাজ করেছে কি না, তা খতিয়ে দেখা জরুরি। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও সামাজিক দায়িত্ববোধ জোরদারে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।

এসএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন