শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১লা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

নিহত জেলে আমিনুরের পরিবারের পাশে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা

নিহত জেলে আমিনুরের পরিবারের পাশে বিএনপি-জামায়াতের নেতাকর্মীরা

সাতক্ষীরা : সাতক্ষীরার শ্যামনগরে সুন্দরবনের অভয়ারণ্য এলাকায় কাঁকড়া ধরতে গিয়ে বন কর্মকর্তার গুলিতে নিহত জেলে আমিনুর রহমান গাজীর পরিবারের পাশে দাঁড়িয়েছেন সরকারের প্রতিনিধি, বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতারা।

মঙ্গলবার (১৯শে) মে সকালে সাতক্ষীরা জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ড. মনিরুজ্জামানের নেতৃত্বে উপজেলা বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা গাবুরা ইউনিয়নের ৯ নম্বর সোরা গ্রামে আমিনুর রহমানের বাড়িতে যান।

এ সময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন প্রতিমন্ত্রী ড. শেখ ফরিদুল ইসলাম ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে নিহতের পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন এবং সমবেদনা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সুন্দরবনে জেলে নিহতের ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক ও হৃদয়বিদারক। সরকার নিহতের পরিবারের পাশে থাকবে এবং ঘটনার সঠিক ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা হবে।

নিহত আমিনুর রহমান পাঁচ সন্তান রেখে গেছেন। বিএনপির পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয় এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের দায়িত্বে পাশে থাকার আশ্বাস দেন নেতারা।

ড. মনিরুজ্জামান বলেন, বৈধ পাস নিয়ে জীবিকার তাগিদে বনে যাওয়া একজন অসহায় জেলের ওপর এভাবে গুলি চালানো কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। বিএনপি সবসময় এই পরিবারের পাশে থাকবে এবং নিহতের এতিম সন্তানদের সহায়তায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে।

অন্যদিকে দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিহতের বাড়িতে যান বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর একটি প্রতিনিধি দল। এসময় শ্যামনগর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা আব্দুর রহমান নিহতের পরিবারের হাতে আর্থিক সহায়তা তুলে দেন।

তিনি বলেন, পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারিয়ে পরিবারটি অসহায় হয়ে পড়েছে। জামায়াতে ইসলামী সবসময় নির্যাতিত ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে থাকে। নিহতের সন্তানদের দায়িত্ব নিতে এবং ভবিষ্যতে পরিবারের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।

উল্লেখ্য , গত ১৩ মে সাতক্ষীরা রেঞ্জের বুড়িগোয়ালিনী স্টেশন থেকে বৈধ পাস নিয়ে সুন্দরবনে প্রবেশ করেন আমিনুরসহ চার জেলে। ১৮মে সোমবার সকাল ৭টার দিকে খুলনা রেঞ্জের নলিয়ান স্টেশনের পাটকোস্টা হেলাবাসী অভয়ারণ্য এলাকায় কাঁকড়া আহরণের সময় বনবিভাগের স্মার্ট পেট্রোলিং টিম তাদের লক্ষ্য করে গুলি ছোড়ে। এতে ঘটনাস্থলেই নিহত হন আমিনুর রহমান গাজী।

এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সোমবার বিকেলে শত শত বনজীবী ও স্থানীয় বাসিন্দা মরদেহ নিয়ে বুড়িগোয়ালিনী এলাকায় বনবিভাগের সাতক্ষীরা রেঞ্জ অফিস ও স্টেশন অফিসে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে যান।

একপর্যায়ে তারা অফিসে হামলা, ভাঙচুর ও বনকর্মীদের মারধর করেন বলে অভিযোগ ওঠে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিক্ষুব্ধ জনতা অফিসের আসবাবপত্র ভাঙচুরের পাশাপাশি কর্মীদের খুঁজে বের করে মারধর করে। এতে বনকর্মী তপন, মেজবাহ, ফারুক, এখলাছুর ও ফায়জুর আহত হন।

খবর পেয়ে বিজিবি ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং আহত বনকর্মীদের উদ্ধার করে শ্যামনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করে।

আব্দুল মোমিন/এনডি/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন