রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

বর্ষার আগেই বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ

বর্ষার আগেই বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ

ঢাকা : বর্ষা শুরু হয়নি এখনও পুরোপুরি ভাবে। তবে এরইমধ্যে দেশ জুড়ে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় জমে থাকা পানিতে বাড়ছে এডিস মশার বিস্তার। বিশেষজ্ঞদের দাবি, হামের মতো ডেঙ্গু যেন বৃদ্ধি না পায়- সেজন্য সরকার ও সিটিগুলোকে সমন্বিত উদ্যোগ নিতে হবে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে প্রায় ২ হাজার ৯০০ জনে। এরমধ্যে মৃত্যু হয়েছে ৫ জনের। বেশি আক্রান্ত ঢাকা বিভাগে। আক্রান্তদের প্রায় ৬৩ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৭ শতাংশ নারী।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরকারের পাশাপাশি নাগরিক সচেতনতা তৈরি না হলে ডেঙ্গু মোকাবিলা সম্ভব নয়।

আক্রান্তরা জানান, প্রথমে জ্বর আসছে, আবার আমরা ডাক্তার দেখিয়ে ওষুধ খাচ্ছি। ভাবছি ভালো হয়ে যাবে। মাঝখানে দুই দিন গ্যাপ গেলো, জ্বর গেলো না, আবার পরীক্ষাতে ধরা পড়লো ডেঙ্গু। সাধারণ জনগণ হিসেবে, সচেতন জনগণ হিসেবে আমাদেরও দায়িত্ব আমাদের চারপাশ, আমাদের পরিবেশ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন রাখা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এবছর হামের সাথে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব বাড়লে দুর্যোগ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে। তাই মৌসুমভেদে না করে সিটি করপোরেশনগুলোকে বছরব্যাপী কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান তাদের।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ডা. লেলিন চৌধুরী বলেন, সারা দেশে একযোগে দুই থেকে তিন দিনের একটি কর্মসূচি নিতে হবে যেখানে ডেঙ্গুর বাহক যে এডিস মশার দুটো ধরন, দুটোকেই দুটোর বাসস্থান এবং ডিম পাড়ার জায়গাটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন করার জন্য। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কম বয়সীদের জন্য একটি ডেঙ্গুর টিকা অনুমোদন দিয়েছে, সেটি যতটা সম্ভব টার্গেট গ্রুপকে দেয়া।

তিনি বলেন, ডেঙ্গু এখন আর শুধু মৌসুমি রোগ নয়, বরং নগর ব্যবস্থাপনা ও জনসচেতনতার বড় একটি চ্যালেঞ্জ। গত কয়েক বছরের ভয়াবহ অভিজ্ঞতা বলছে, ডেঙ্গু ইস্যুতে অবহেলার সুযোগ নেই। বর্ষা সামনে রেখে এখনই সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে আক্রান্তের সংখ্যা বাড়তে পারে। গত বছরের মতো পরিস্থিতি আবারও ভয়াবহ হতে পারে। তাই সরকারকে এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান বিশেষজ্ঞদের।

তথ্য অনুযায়ী গত তিন বছর ধরে দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। এরমধ্যে ২০২৩ সালে রেকর্ড তিন লাখের বেশি মানুষ আক্রান্ত হন আর প্রাণ হারান ১ হাজার ৭০৫ জন।

রাশেদ প্লাবন/এনডি/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন