ঢাকা: জুলাই শুধু গণঅভ্যুত্থান নয়, বাংলাদেশের সব গণতান্ত্রিক আন্দোলনের প্রতিচ্ছবি ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর’পরবর্তী প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (৫ আগস্ট) জুলাই গণঅভ্যুত্থানের স্মৃতি সম্বলিত জুলাই স্মৃতি জাদুঘর উদ্বোধন শেষে তিনি এ কথা বলেন।
চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান কোনো একক দল বা গোষ্ঠীর নয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই স্মৃতি জাদুঘর কোনো দল, গোষ্ঠী বা ব্যক্তির একক রাজনৈতিক ভাষ্য প্রতিষ্ঠার স্থান হবে না। জুলাই জাদুঘর ভবিষ্যৎ প্রজন্মের সামনে তাদের পূর্বসূরিদের ইতিহাস তুলে ধরবে, উন্মোচন হবে ফ্যসিবাদের মুখোশ।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসন আমলে গুম, খুন, অপহরণকে স্বাভাবিক নিয়মে পরিণত করা হয়েছিল। দেড় দশকের নৃশংসতা শুধুমাত্র স্বাধীনতা পরবর্তী দুঃশাসনের সঙ্গে তুলনা চলে।
জুলাই জাদুঘরে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক আন্দোলনের ইতিহাস সংরক্ষিত থাকা জরুরী উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই জাদুঘর জনগণের সংগ্রাম, আত্মত্যাগ, বেদনা সাহস, গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে জাতীয় স্মৃতিতে স্থায়ীভাবে ধারণ করার এক ঐতিহাসিক উদ্যোগ।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে কেউ কেউ অহেতুক ইস্যু তৈরি করে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির অপচেষ্টা তৈরি করছে। এতে নিজেদের অজান্তেই পরাজিত স্বৈরাচারের পুনরুত্থানের পথ সুগম করছে কি না ভেবে দেখা প্রয়োজন।
বিচারের প্রসঙ্গে তিনি বলেন, পর্যায়ক্রমে আইনের যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করে অপরাধীদের বিচার হবে। আইনের শাসন নিশ্চিত করার জন্যই প্রতিটি বিচার হওয়া জরুরি।
জুলাই যোদ্ধাদের চিকিৎসার বিষয়ে তিনি বলেন, আহতদের সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ৫০ জন জুলাই যোদ্ধাদের বিদেশে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। ১৩ হাজারের বেশি জুলাই যোদ্ধাদের ক্যাটাগরি অনুযায়ী ভাতা দেয়া হচ্ছে। জুলাই যোদ্ধাদের সহায়তার বিষয়ে সরকার আন্তরিক।
দেশ আর কখনো তাবেদারি রাষ্ট্রে পরিণত হবে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, শহিদদের কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে ৩১ দফার পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে জুলাই সনদ বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে সরকার।
তিনি আরও বলেন, শহিদ জিয়াউর রহমান বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার ইতিহাস জুলাই জাদুঘরে সংরক্ষণ করা হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম উপকৃত হবে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ ছিলো স্বাধীনতা অর্জনের, ২৪ গণঅভ্যুত্থান দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার। মুক্তিযুদ্ধের মতো চব্বিশের শহিদদের কখনো ভুলবে না দেশের জনগণ।
পরিশেষে গণতন্ত্র ও জনগণের পক্ষে অবস্থান গ্রহণের জন্য সশস্ত্র বাহিনীকে ধন্যবাদ জানান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এসএস/এএস



