ঢাকা: আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ‘একক প্রার্থী’ নিশ্চিত করার কৌশল নিয়েছে বিএনপি হাইকমান্ড। একই সঙ্গে দেশজুড়ে মূল দল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনগুলোর মেয়াদোত্তীর্ণ কমিটি বিলুপ্ত করে দ্রুত নতুন কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
দলীয় সূত্র জানায়, নির্বাচনকে সামনে রেখে তৃণমূল পর্যায়ে নিজেদের সাংগঠনিক ভিত ঢেলে সাজানোর ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে। এছাড়া স্থানীয় সরকার নির্বাচনের পর জাতীয় পর্যায়ের সম্মেলনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বিএনপি। এর আগে দলের ভেতরের স্থবিরতা ও কোন্দল দূর করতে শতভাগ ইতিবাচক সাংগঠনিক পুনর্বিন্যাসের তাগিদ দিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, তৃণমূলকে শক্তিশালী না করে নির্বাচনে অংশ নিলে সাংগঠনিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। তাই নির্বাচনি বৈতরণী পার হতে এবং আগামী দিনের আন্দোলন-সংগ্রামে দলকে সুসংগঠিত রাখতে এ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার বিকল্প নেই।

শনিবার রাতে গুলশানে চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে রংপুর বিভাগের তিন জেলার নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেখানে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, স্থায়ী কমিটির সদস্য ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী ও সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক সূত্র জানায়, দলের চেয়ারম্যান স্থানীয় নির্বাচন এবং সাংগঠনিক পুনর্গঠন নিয়ে দিকনির্দেশনা দেন। এবার স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলীয় প্রতীক ছাড়া সম্পূর্ণ নির্দলীয় ও প্রভাবমুক্ত পরিবেশে হওয়ার কথা রয়েছে। তবে প্রতীক না থাকলেও দলীয় সমর্থনের ক্ষেত্রে যাতে কোনো বিভেদ সৃষ্টি না হয়, সেদিকে কঠোর নজর রাখছে বিএনপি।
গত জাতীয় নির্বাচনে অর্ধশতাধিক আসনে দলের নেতারা ‘বিদ্রোহী প্রার্থী’ হওয়ায় তৃণমূলের অনেক জায়গায় কোন্দল ও বিভক্তি তৈরি হয়েছিল। সেই অভিজ্ঞতার আলোকেই এবার তারেক রহমান নেতাদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে, দলীয় প্রতীক না থাকলেও স্থানীয় নির্বাচনে প্রার্থীদের বিষয়ে দলের সিদ্ধান্ত যেন সামষ্টিক হয় এবং একক প্রার্থীর পক্ষে সবাই একযোগে কাজ করেন। তৃণমূল থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত ঝুলে থাকা সাংগঠনিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে দলে নতুন গতি সঞ্চার করা।
এছাড়া তড়িঘড়ি করে কমিটি গঠন করতে গিয়ে যাতে কোনো বিতর্কিত বা অন্য দলের অনুপ্রবেশকারী স্থান না পায়, তা নিশ্চিত করা। মাঠপর্যায়ে তুলনামূলক তরুণ, সক্রিয় ও ত্যাগী নেতাদের গুরুত্বপূর্ণ নেতৃত্বে নিয়ে আসতে দায়িত্বশীল নেতাদের নির্দেশনা দিয়েছেন বলেও বৈঠক সূত্রে জানা গেছে।
ওএনবি/পিএস/জেএফজে



