টিকটকে পরিচয়, এরপর প্রেমে জড়িয়ে পড়েন কুষ্টিয়ার মিরপুরে ৪ কিশোরী। সেই প্রেমের সম্পর্কের সূত্র ধরে একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেয় চার কিশোরী। এরপর বাড়ি ছাড়েন তারা। ঢাকার হেমায়েতপুরের বাসা ভাড়া নিয়ে ‘বিয়ে’ করে একসঙ্গে বসবাস শুরু করে।
তবে পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় ওই ৪ কিশোরী উদ্ধার করেছে পুলিশ। উদ্ধার হওয়া চার কিশোরীর বয়স ১৫ থেকে ১৭ বছরের মধ্যে। মিরপুর থানার ওসি শহিদুল ইসলাম এসব তথ্য জানিয়েছেন।
পুলিশ জানিয়েছে, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার গোপীনাথপুর এলাকার তিন কিশোরী গত ৫ অক্টোবর পরিবারের কাউকে না জানিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যায়। নিখোঁজের পর মিরপুর থানা পুলিশ অনুসন্ধানে জানতে পারে টিকটকের মাধ্যমে মিরপুরের এক কিশোরীর সঙ্গে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জ এলাকার এক কিশোরীর পরিচয় হয়।

পরে তাদের মধ্যে সমকামী প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। একইভাবে মিরপুরের অপর দুই কিশোরীর মধ্যেও টিকটকের মাধ্যমে সম্পর্ক তৈরি হয়। সম্পর্কের পর চার কিশোরী একসঙ্গে থাকার সিদ্ধান্ত নেয়। এ জন্য তারা ঢাকার আশুলিয়া এলাকায় একটি বাসা ভাড়া নেয়।
গত ৫ অক্টোবর মিরপুরের তিন কিশোরী সেখানে গিয়ে নারায়ণগঞ্জের কিশোরীর সঙ্গে অবস্থান নেয়। হেমায়েতপুরের ওই বাসায় দুই কিশোরী নিজেদের মধ্যে সমকামী বিয়ের সিদ্ধান্ত নিয়ে পবিত্র কোরআন স্পর্শ করে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করে। এরপর তারা স্বামী-স্ত্রীর মতো একসঙ্গে থাকার দাবি করে।
অপর দুই কিশোরীও নিজেদের সম্পর্কের ভিত্তিতে একই বাসায় একসঙ্গে বসবাস করতে থাকে। এভাবে কয়েকদিন একসঙ্গে থাকার পর তাদের অবস্থান শনাক্ত করে মিরপুর থানা পুলিশ। পরে মিরপুর থানা পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রোববার সন্ধ্যায় ঢাকার হেমায়েতপুর এলাকায় অভিযান চালিয়ে চার কিশোরীকে উদ্ধার করে পুলিশ।
মিরপুর থানার ওসি মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, মিরপুর থানা থেকে নিখোঁজ তিন কিশোরীকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় আমরা ঢাকার আশুলিয়া থেকে উদ্ধার করতে সক্ষম হই। একই সময় নারায়ণগঞ্জের এক তরুণীকেও ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করা হয়। আমরা তাদের উদ্ধার করে আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিজ্ঞ আদালতে পাঠিয়েছি।
কে/জেএন



