শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১লা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

হাইকোর্টের অনলাইন শুনানিতে চালু হয়ে গেলো পর্ন ভিডিও

হাইকোর্টের অনলাইন শুনানিতে চালু হয়ে গেলো পর্ন ভিডিও

ওএনবি ডেস্ক : শুনানি চলছে হাইকোর্টে। চলছে বাদী-বিবাদীর মধ্যে প্রশ্ন-উত্তরের পালা। ঠিক এমন পরিস্থিতিতে আচমকাই দেখা গেল, প্রত্যেকের সামনে থাকা ল্যাপটপে চালু হয়ে গেছে পর্ন ভিডিও।

অস্বস্তিকর ঘটনাটি ঘটেছে দিল্লি হাইকোর্টে। বুধবার (২৯ এপ্রিল) দিল্লি হাইকোর্টে প্রধান বিচারপতি দেবেন্দ্র কুমার উপাধ্যায় ও বিচারপতি তেজস কারিয়ার বেঞ্চে চলা ভার্চ্যুয়াল শুনানিতে এমন ঘটনা ঘটে।

শুনানিকালে এমন এই ঘটনা তিন তিনবার ঘটেছে। প্রথমবার ঘটে দুপুর ১২টা ৫৬ মিনিটের দিকে। এর পরে ভিডিও কনফারেন্সের শুনানি কিছুক্ষণের জন্য স্থগিত করে আবার শুরু করা হয়।

তবে, কয়েক মিনিট পরেই আবার ঘটে সেই ঘটনা। ফলে আদালত কার্যক্রম আরও দীর্ঘ সময়ের জন্য স্থগিত করতে বাধ্য হতে হয়। তৃতীয় দফায় শুনানি শুরুর কিছুক্ষণ পরেই ওই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।

ভিডিও চালু হলে ব্যাকগ্রাউন্ডে ভয়েস অজ্ঞাত কাউকে বলতে শোনা যায়, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্র থেকে হ্যাক করা হয়েছে। এখনই মিটিংটি বন্ধ করুন, আর চালু করবেন না। আপনার অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছেন।’

প্রতিবেদন অনুসারে, শ্রীধর সরবানোত ও শিতীজিৎ সিংয়ের মামলার শুনানি চলছিল। আচমকাই স্ক্রিনজুড়ে অশ্লীল ভিডিও চলতে শুরু করে।

সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয় হলো, মামলাকারীদের অ্যাকাউন্ট থেকেই চালানো হয়েছিল এই পর্ন ভিডিও। সঙ্গে সঙ্গে ভার্চ্যুয়াল শুনানি বন্ধ করে দেওয়া হয়। অভিযোগ দায়ের হয় দিল্লি পুলিশে। এ ঘটনায় শুরু হয়েছে তদন্তও।

দিল্লি পুলিশের সাইবার ক্রাইম বিভাগের জেরায় শিতীজিত জানান, তার অ্যাকাউন্টটি হ্যাক হয়েছে। সম্ভবত যুক্তরাষ্ট্র থেকে হ্যাক করা হয়েছে অ্যাকাউন্টটি।

শুনানির সময় হঠাৎ অশ্লীল ভিডিও চালু হলো কীভাবে, সেই নিয়ে শিতীজিত কিছুই জানেন না বলে দাবি করেন। আপাতত তার সেই দাবি মেনে নিয়েছে দিল্লি পুলিশ।

তদন্ত চলাকালীন জানা যায়, কেবল প্রধান বিচারপতির এজলাস নয়, আরও বেশ কয়েকটি এজলাসেও ভার্চ্যুয়াল শুনানি চলাকালীন স্ক্রিনে ভেসে ওঠে পর্ন ভিডিও।

গোটা ঘটনাক্রম নিয়ে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতি। স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই ভিডিও যারা দেখাচ্ছে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

প্রায় ছয় মাস আগে পর্নোগ্রাফি পুরোপুরি নিষিদ্ধের দাবিতে মামলা দায়ের হয়েছিল দেশটির সুপ্রিম কোর্টে। মামলাকারী আবেদন করেন, পর্নোগ্রাফি দেখায় নিষেধাজ্ঞা জারি করতে কেন্দ্রীয় সরকার একটি জাতীয় নীতি তৈরি করুক।

বিশেষ করে অপ্রাপ্তবয়স্করা যাতে করে পর্নোগ্রাফি না দেখে, সেই বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি প্রকাশ্যে পর্নোগ্রাফি দেখায় নিষেধাজ্ঞা জারির আবদারও জানান তিনি।

কিন্তু সেই আবেদনে সাড়া দেয়নি উচ্চ আদালত। তারপরে আদালতে শুনানি চলাকালীন আচমকাই ছড়িয়ে পড়ল অশ্লীল ভিডিও।

সুত্র- দ্য হিন্দুস্তান টাইমস।

 

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন