ঢাকা : ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিপুল ব্যবধানে জয়ের পর তারেক রহমানের নেতৃত্বে সরকার গঠন করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি।
দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে নানা কারণে অস্বস্তিতে রয়েছে বিএনপি সরকার। সেই সঙ্গে আছে বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট আর আওয়ামী লীগ সরকারের রেখে যাওয়া বিপুল ঋণের বোঝা।
বিএনপি সরকারের দুএকটি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের ‘বেফাঁস মন্তব্যে’ বেশ বিব্রত সরকার। এমন পরিস্থিতিতে ভাবমূর্তি রক্ষায় মন্ত্রিসভায় আসতে পারে রদবদল।

বিএনপি ও সরকারের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, মন্ত্রীদের অতি উৎসাহী বক্তব্যে দল বিব্রত। মন্ত্রিসভায় বেশ কয়েকজন প্রবীণ ও বর্ষীয়ান রাজনীতিবিদ যুক্ত হতে পারেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিএনপির নীতিনির্ধারণী ফোরামের এক নেতা বলেন, মন্ত্রীদের অতি উৎসাহী বক্তব্যের বিষয়টি খোদ প্রধানমন্ত্রীরও দৃষ্টি এড়ায়নি। সঙ্গত কারণেই বেশ কিছু মন্ত্রীর দায়িত্ব পুনর্বণ্টন হওয়ার বিষয়ে আলাপ-আলোচনা চলছে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, অনেকের ওপর হয়তো অধিক দায়িত্বের বোঝা চেপে আছে। যাদের হাতে দুই থেকে তিনটি মন্ত্রণালয় রয়েছে তাদের ক্ষমতা কমবে।
মন্ত্রিসভা থেকে কেউ বাদ পড়ছেন কিনা এমন প্রশ্নে সরাসরি জবাব না দিয়ে বিএনপির এই প্রভাবশালী নেতা বলেন, একথা বলা যায় নতুন মুখ আসছে।
বিএনপি ও সরকারের একাধিক সূত্র জানায়, মন্ত্রিপরিষদে জায়গা পেতে যাচ্ছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আবদুল মঈন খান এবং সেলিমা রহমান।
এ ছাড়া বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির প্রশিক্ষণ সম্পাদক এবিএম মোশাররফ হোসেন, তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আজিজুল বারী হেলাল ও সাবেক আন্তর্জাতিক সম্পাদক ও বর্তমান চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহিদুর রহমানের নামও শোনা যাচ্ছে।
প্রসঙ্গত, বিএনপি সরকারের মন্ত্রিসভার নবীন এবং প্রবীণ বেশ কয়েকজন মন্ত্রীর বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মহলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
সম্প্রতি লোডশেডিং এবং বিদ্যুতের চাহিদা নিয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু’র বক্তব্য নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল হয়।
বিশেষ করে গ্রামে লোডশেডিং নিয়ে তার বক্তব্য বিভিন্ন মহলে ‘হাস্যরসের’ খোরাক জোগায়।
গত ৫ মে গ্রামে লোডশেডিং নিয়ে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, গ্রামে কোনো লোডশেডিং নেই, যেটা হয় সেটা পল্লীবিদ্যুতের লম্বা লাইনের জন্য। কারণ সেখানে ত্রুটি হলে খুঁজে সংস্কার করতে সময় লাগে। এ জন্য বিদ্যুৎটা আসে না। আবার লাইন ঠিক হয়ে গেলে বিদ্যুৎ চলে আসে।
গরমে তীব্র লোডশেডিংয়ে গ্রাম এলাকার মানুষের মধ্যে ক্ষোভেরও জন্ম দেয়। অনেকে এটিকে গ্রামের মানুষের কষ্টের সঙ্গে মশকরা বলেও অভিহিত করেন।
এর আগে সংসদে বিদ্যুৎ মন্ত্রী বলেছিলেন, চাহিদা অনুযায়ী বর্তমানে দেশে বিদ্যুতের কোনো ঘাটতি নেই।
দায়িত্ব নেওয়ার পরপরই পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি নিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলমের একটি বক্তব্য ব্যাপক সমালোচনার জন্ম দেয়।
তিনি বলেছিলেন, পরিবহন খাতে মালিক-শ্রমিক সংগঠনের নামে টাকা তোলা-কে সরাসরি ‘চাঁদাবাজি’ বলা ঠিক হবে না। এটি মূলত সংগঠন পরিচালনার জন্য একটি ‘সার্ভিস চার্জ’।
সড়কে দীর্ঘদিনের সিন্ডিকেট ও চাঁদাবাজিতে অতিষ্ঠ গাড়িচালক থেকে শুরু করে সাধারণ মানুষ মন্ত্রীর এই ধরনের বক্তব্যে হতাশ ও ক্ষুব্ধ হয়।
ঈদুল ফিতরের আগেও ‘ঈদযাত্রায় কোথাও বেশি ভাড়া নেওয়া হচ্ছে না’ বক্তব্য দিয়ে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েন সড়ক মন্ত্রী।
গত ১৫ মার্চ রাজধানীর মহাখালী বাস টার্মিনাল পরিদর্শনে গিয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, কোথাও কেউ বেশি ভাড়া নিচ্ছে না। অনেক ক্ষেত্রে যাত্রীদের কাছ থেকে সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও ২০, ৩০ বা ৫০ টাকা কম নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রীর ওই বক্তব্যের পর সাধারণ যাত্রী, ভোক্তা অধিকার সংগঠন এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখায়।
সে সময় সাধারণ যাত্রীরা প্রতিটি রুটেই নির্ধারিত ভাড়ার চেয়ে ২০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বাড়তি নেওয়ার অভিযোগ করেছিলেন।
শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলনের এই তোমরা কেমন আছো? ভালো? পড়ালেখা কর তো? করতে হবে, নকল আর হবে না। এই বক্তব্য নিয়েও ব্যাপক ট্রল হয়।
বর্তমান শিক্ষা ব্যবস্থায় অতীতের মতো নকলের কোনো সুযোগ না থাকলেও, মন্ত্রীর গৎবাঁধা বক্তব্যে অভিভাবক ও শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন মহলে হাস্যরসের সৃষ্টি হয়।
হাসানুজ্জামান/এনডি/এএস



