রবিবার, ১৩ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৯শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ২রা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

মহররমের প্রথম দিন আজ, শুরু হলো হিজরি নববর্ষ

মহররমের প্রথম দিন আজ, শুরু হলো হিজরি নববর্ষ

ঢাকা: ১৪৪৮ হিজরি সনের পবিত্র মহররম মাসের চাঁদ দেখা গেছে বাংলাদেশের আকাশে। বুধবার (১৭ জুন) থেকে নতুন হিজরি বছরের প্রথম মাস মহররম গণনা শুরু হবে।

প্রতি বছর বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান একটি নতুন বছরের সূচনা উদযাপন করেন। নতুন হিজরি বছরের আগমন মুসলমানদের কাছে শুধু একটি নতুন তারিখের শুরু নয় বরং আত্মসমালোচনা, আত্মশুদ্ধি এবং নতুনভাবে জীবন গুছিয়ে নেওয়ারও একটি উপলক্ষ।

হিজরি সনের সূচনা জড়িয়ে আছে ইসলামের ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার সঙ্গে। ৬২২ খ্রিস্টাব্দে মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) মক্কা থেকে মদিনায় হিজরত বা স্থানান্তরিত হন। ইসলামের ইতিহাসে এই ঘটনাকে বলা হয় হিজরত।

এই হিজরত মুসলিম সমাজের জন্য ছিল একটি নতুন যুগের সূচনা। পরবর্তীতে দ্বিতীয় খলিফা হজরত উমর (রা.) রাষ্ট্রীয় কাজের সুবিধার জন্য একটি পৃথক ইসলামি ক্যালেন্ডার চালুর সিদ্ধান্ত নেন। তখন মহানবীর হিজরতের ঘটনাকে ভিত্তি করে হিজরি সনের গণনা শুরু করা হয়। সেই থেকেই ইসলামি ক্যালেন্ডারের নাম হয় হিজরি সন।

ইসলামি নববর্ষের গুরুত্ব শুধু একটি নতুন বছর শুরু হওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। এটি মুসলমানদের জন্য অতীতের কাজগুলো পর্যালোচনা করার এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন পরিকল্পনা গ্রহণের সময়।

অনেক ইসলামি চিন্তাবিদ মনে করেন, নতুন হিজরি বছর মানুষকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে সময় খুবই মূল্যবান। জীবনের প্রতিটি দিন অর্থবহ ও কল্যাণকর কাজে ব্যয় করা উচিত। তাই ইসলামি নববর্ষকে অনেকে আত্মশুদ্ধি ও আত্মউন্নয়নের একটি সুযোগ হিসেবে দেখেন।

মহররম ইসলামি ক্যালেন্ডারের অন্যতম পবিত্র মাস। ইসলামে চারটি সম্মানিত মাসের একটি হলো মহররম। কোরআন ও হাদিসে এই মাসের বিশেষ মর্যাদার কথা উল্লেখ রয়েছে।

মহররম মাসে নফল রোজা রাখারও বিশেষ ফজিলত রয়েছে। বিশেষ করে আশুরার দিন, অর্থাৎ ১০ মহররম, মুসলমানদের কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও ধর্মীয় ঘটনার কারণে দিনটি বিশেষ গুরুত্ব বহন করে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশে ইসলামি নববর্ষ পালনের ধরনে কিছু পার্থক্য দেখা যায়। কোথাও ধর্মীয় আলোচনা, কোরআন তেলাওয়াত ও দোয়ার আয়োজন করা হয়। আবার কোথাও বিশেষ সভা, সেমিনার কিংবা সাংস্কৃতিক কর্মসূচির মাধ্যমে হিজরতের শিক্ষা তুলে ধরা হয়।

হিজরি নববর্ষ আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে পরিবর্তন ও উন্নতির জন্য কখনও দেরি হয়ে যায় না। মহানবী (সা.)-এর হিজরত ছিল সংগ্রাম, ত্যাগ, ধৈর্য এবং আল্লাহর ওপর আস্থার এক অনন্য উদাহরণ। নতুন বছর সেই শিক্ষাগুলো আবারও স্মরণ করার সুযোগ এনে দেয়।

নতুন হিজরি বছরের শুরুতে অনেকেই নিজেদের ভুল-ত্রুটি সংশোধনের সংকল্প নেন, পরিবার ও সমাজের প্রতি দায়িত্ব পালনের অঙ্গীকার করেন এবং আরও ভালো মানুষ হওয়ার চেষ্টা করেন।

জেএফজে

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন