শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১লা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

হিলি ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষার সময় কাটাতে কৃষক মিটিং

হিলি ফিলিং স্টেশনে অপেক্ষার সময় কাটাতে কৃষক মিটিং

দিনাজপুরের হাকিমপুর উপজেলার হিলি ফিলিং স্টেশনে দীর্ঘ লাইনে অপেক্ষার সময় কাটাতে ব্যতিক্রমি উদ্যোগ দেখা গেছে। কীটনাশক ঔষধ কোম্পানি এসি আই কতৃক কৃষক মিটিং করতে দেখা গেছে।

ইদানিং জ্বালানি তেল পেট্রোল ও ডিজেল এর সংকটের কারণে পাম্পে সৃষ্টি হয়েছে দীর্ঘ লাইন। যেখানে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও মিলছে না চাহিদা মতো কাঙ্ক্ষিত তেল।

গতকাল বুধবার হিলি ফিলিং স্টেশনে এ দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যেই দেখা যায় এক ব্যতিক্রমি উদ্যোগ। পাম্পে তেল নিতে আসা লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা শতাধিক মোটরসাইকেল চালক ও কৃষকদের নিয়ে এসিআই ফার্টিলাইজার ও প্রোমোটার নিয়ে আলোচনা প্রতিনিধি ইয়াসিন আলী।

এসিআই কোম্পানির প্রতিনিধি ইয়াসিন আলী বলেন, এখানে এসে দেখি তেল নেওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে আছে অনেকে। অপেক্ষার সময় কাটাতে চায় না। তাই এই সময়টিকে কাজে লাগিয়ে কৃষকদের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কিছু বিষয় নিয়ে আলোচনা করা যায়।

মিটিংয়ে অংশ নেওয়া কৃষকেরা তাদের নানা সমস্যার কথা তুলে ধরেন এবং নতুন কিছু অভিজ্ঞতা লাভ করেন।
কৃষকরা জানান, তেল সংকটের কারণে কৃষিকাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে সামনের দিকে।

একজন কৃষক বলেন,আমরা তেল নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করছি। তেল দিতে আরও এক দেড় ঘন্টা দেরি আছে তাই এসিআই কোম্পানির ফ্রাটিলাইজার ও প্রোমোটার নিয়ে কিছু আলোচনা শুনলাম। এতে আমাদের সময়টা কেটে গেলো এবং অভিজ্ঞতা অর্জন করলাম।

আরেকজন কৃষক বলেন, তেল নেওয়ার জন্য গতকাল রাত থেকে সিরিয়াল নিয়ে আছি। আজকে কৃষক মিটিং এ নতুন একটা জিনিস জানলাম প্রোমোটার জমিতে ব্যবহার করলে পাতায় পানি জমে থাকে না। আমি এটা কাজে লাগাবো। তেলের দাম বাড়ানোর পরও যদি এমন দুর্ভোগ পোহাতে হয়, তাহলে সাধারণ মানুষের কষ্ট আরও বেড়ে যায়।

সরেজমিনে দেখা যায়, তেল পেতে অপেক্ষা করতে করতে অনেকেই ক্লান্ত হয়ে পড়েছেন। কেউ ট্রাকের পেছনে বিছানা পেতে শুয়ে বিশ্রাম নিচ্ছেন, আবার কেউ মোটরসাইকেলের ওপর বসেই সময় কাটাচ্ছেন। দীর্ঘ অপেক্ষা এখন যেন নিয়মিত চিত্রে পরিণত হয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, দ্রুত তেল সরবরাহ স্বাভাবিক করা না হলে এই ভোগান্তি আরও বাড়বে। আর কয়েক দিন পরে ধান কাঁটা শুরু হবে। তখন একট ধান মাড়াই অটো মিশনে প্রতি দিন ১৫-২০ লিটার তেল লাগবে। সেখানে তিন চার লিটার তেল দিয়ে কি হবে। সরকার খোলা বাজারে তেল সরবরাহ না করা পর্যন্ত এই সমস্যার সমাধান হবে না। পাম্পে ট্রাকে ট্রাকে তেল দিলেও লাভ হবে না। তারা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

হিলি ফিলিং স্টেশনের তদারকি অফিসার উপজেলা একাডেমিক সুপার ভাইজার সাখাওয়াত হোসেন জানান, আগে পেট্রোল ও অকটেন এর সংকট ছিলো। এখন ডিজেল এর সংকট দেখা দিয়েছে। আজ ডিজেল ৫ হাজার লিটার এবং ২ হাজার লিটার বরাদ্দ পেয়েছি। উপজেলা নির্বাহী অফিসার মহোদয়ের নির্দেশনা মোতাবেক সিরিয়াল মতে প্রতিটি বাইকে ৩০০ টাকার পেট্রোল দেওয়া হয়েছে। বিকেল তিনটার মধ্যে তেল শেষ হওয়ায় তেল দেওয়া বন্ধ করে দিয়েছি।

হাকিমপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার অশোক বিক্রম চাকমা জানান, হিলি ফিলিং স্টেশনে পুলিশ প্রশাসন ও তদারকি অফিসার নিয়োগের মধ্য দিয়ে সিরিয়াল অনুযায়ী তেল বিতরণ করা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সার্বক্ষণিক তৎপর রয়েছে। আমি নিজে উপস্থিত থেকে ও তদারকি করি। পাশাপাশি খুব শিগগিরই ফুয়েল কার্ড চালু করা হবে যাতে ভোগান্তি কমে আসে। আমরা পৌরসভা ও তিনটি ইউনিয়নের ফুয়েল কার্ড এর কালার আলাদা করবো। যাতে করে বরাদ্দকৃত তেল দুই দিনে দিতে পারি। এতে সিরিয়াল ও কম হবে এবং ভোগান্তি ও কমবে বলে আশা করছি।

গোলাম রববানী/এনডি/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন