শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১লা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে ফের ৮ জেলেকে অপহরণ

সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ থেকে ফের ৮ জেলেকে অপহরণ

সাতক্ষীরা : সুন্দরবনে একের পর এক অপহরণের ঘটনায় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন উপকূলের বনজীবীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা পর্যন্ত পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জ এলাকায় আরও আট বনজীবীকে অপহরণের খবর পাওয়া গেছে।

অভিযোগ রয়েছে, ‘নানাভাই/ডন’ ও ছোট জাহাঙ্গীর বাহিনীর সদস্যরা অস্ত্রের মুখে তাদের অপহরণ করেছে। মোবাইল ফোনে দাবি করা হচ্ছে মুক্তিপণ।

অপহৃত বনজীবীরা হলেন– মুন্সিগঞ্জের মীরগাঙ এলাকার বারি তরফদারের ছেলে নজরুল তরফদার (৪৫), আমির আলী গাজীর ছেলে আব্দুর রহমান (৩৫), ছোট ভেটখালী এলাকার ছবেদ আলী মোড়লের ছেলে আব্দুল হামিদ মোড়ল (৫০), আটুলিয়া ইউনিয়নের ভড়ভড়িয়া এলাকার আব্দুর রহিম গাজীর ছেলে আব্দুল আলিম (৪০), একই এলাকার ইব্রাহিম গাজীর ছেলে হাবিবুর রহমান (৪৮), শামসুর গাজীর ছেলে আনোয়ারুল ইসলাম (৪২), খুলনার কয়রা এলাকার আব্দুস সাত্তার ও শাহিনুর রহমান।

অপহৃত বনজীবীদের কয়েকজন সহযোগী ও তাদের মহাজন জানায়, পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের চুনকুড়ি নদীর সুবদের খাল, গুবদের খাল ও ধ্যানোখালির চর এলাকা থেকে তাদেরকে অপহরণ করা হয়েছে।

তাদের দাবি, অপহৃত প্রত্যেক বনজীবীকে মুক্ত করতে ২০ হাজার থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছে। বনদস্যুরা একটি মোবাইল নম্বর ব্যবহার করে যোগাযোগ করছে এবং মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে টাকা গ্রহণের কথা জানিয়েছে।

বনজীবীদের মহাজনদের অভিযোগ, এর আগেও সুন্দরবনে অপহৃত জেলে ও মৌয়ালদের মুক্ত করতে একই নম্বরে যোগাযোগ করে বিকাশের মাধ্যমে টাকা পাঠানো হয়েছে। এমনকি মধু আহরণ মৌসুম শুরুর আগেও মৌয়ালদের কাছ থেকে অগ্রিম চাঁদা নেওয়া হয়। টাকা পরিশোধের পরই অনেককে বনে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হতো।

বনজীবী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, সুন্দরবনে বনদস্যু দমনে কোস্ট গার্ডের নেতৃত্বে যৌথ বাহিনীর অভিযান চললেও বনদস্যুদের দৌরাত্ম্য কমছে না। বরং বনজীবীদের নিরাপত্তাহীনতা দিন দিন বাড়ছে। তাদের ভাষ্য, সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ কিছু এলাকা এখন কার্যত দস্যুদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে।

এ বিষয়ে পশ্চিম সুন্দরবনের সাতক্ষীরা রেঞ্জের আওতাধীন কদমতলা ফরেস্ট স্টেশনের স্টেশন কর্মকর্তা মনিরুল করিম বলেন, বনজীবী অপহরণের বিষয়ে আমরা এখন পর্যন্ত কোনো তথ্য পাইনি। বিষয়টি খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। অভিযোগ পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

শ্যামনগর থানার ওসি খালেদুর রহমান বলেন, সুন্দরবনে বনজীবী অপহরণের বিষয়ে এখনও কোনো ভুক্তভোগী পরিবার বা স্বজন থানায় অভিযোগ করেননি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এর আগে গত ৪ ও ৫ মে ‘আলিফ ওরফে আলিম বাহিনী’ ও ‘নানাভাই/ডন বাহিনী’র পরিচয়ে অস্ত্রধারী দস্যুরা সুন্দরবনের গোয়াল বুনিয়া দুনের মুখ, ধানোখালীর খাল, মামুন্দো নদীর মাধভাঙা খাল এবং মালঞ্চ নদীর চালতে বেড়ের খাল এলাকা থেকে ২০ জন জেলে ও মৌয়ালকে অপহরণ করে।

পরে তাদের পরিবার, সহযোগী ও মহাজনদের কাছে মোবাইল ফোনে মুক্তিপণ দাবি করা হয়। পরে প্রায় সাত লাখ টাকা মুক্তিপণ দেওয়ার পর তারা মুক্তি পান।

আব্দুল মোমিন/এনডি/জেএফজে

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন