শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১লা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে নতুন সমীকরণে জামায়াত-এনসিপি

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে ঘিরে নতুন সমীকরণে জামায়াত-এনসিপি

ঢাকা : সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ইঙ্গিত দিয়েছেন এ বছরের শেষে স্থানীয় সরকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে স্থানীয় সরকারের কোন কাঠামোর নির্বাচন আগে হবে সে বিষয়টি এখনো নিশ্চিত নয়।

স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে জামায়াতে ইসলামী ও জাতীয় নাগরিক পার্টি-এনসিপির মধ্যে নতুন রাজনৈতিক সমীকরণ তৈরি হয়েছে। জাতীয় নির্বাচনে একসঙ্গে থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আলাদা কৌশলে এগোচ্ছে দুদল।

ইতোমধ্যে দুই দলই পৃথকভাবে প্রার্থী ঘোষণা ও মাঠপর্যায়ে প্রস্তুতি শুরু করায় ১১ দলীয় জোটের ভেতরে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

তবে নেতারা বলছেন, ভিন্ন কৌশল থাকলেও এতে জোটের সম্পর্কে এখনই কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি।

জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সভাপতি মাওলানা এটিএম মাছুম জানান, স্থানীয় সরকার নির্বাচন দলগতভাবেই হবে। জোট আমরা করেছি জাতীয় নির্বাচনের জন্য, স্থানীয় নির্বাচনের জন্য নয়।

১১ দলীয় লিয়াজোঁ কমিটির সমন্বয়ক ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সিটি করপোরেশন নির্বাচন জোটে হবে না। এককভাবেই হবে। অন্যান্য স্থানীয় সরকার নির্বাচনে স্থানীয়ভাবে সমঝোতা হতে পারে। তবে সেটা প্রার্থী বুঝে।

এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন এমপি বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচন আমাদের জন্য আরেকটি চ্যালেঞ্জ। এখন পর্যন্ত দলীয় সিদ্ধান্ত, এনসিপি এককভাবেই স্থানীয় নির্বাচন করবে। আমরা এককভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার লক্ষ্যেই প্রার্থীর নাম ঘোষণা চূড়ান্ত করছি।

তিনি আরও বলেন, নির্বাচনে কৌশল পরিবর্তন হয়। স্থানীয় সরকার নির্বাচনের প্রেক্ষাপটে যদি কোনো বোঝাপড়ার জায়গা তৈরি হয় এবং ১১ দলের মতো জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়, সেদিকে লক্ষ্য রেখে আমরা আলোচনা উন্মুক্ত রেখেছি।

দলটির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিনের দাবি, এনসিপি সময়ের সঙ্গে আরও সুসংগঠিত দল হিসাবে এগিয়ে যাচ্ছে। রাজনৈতিক দলে নিশ্চয়ই ভিন্ন ভিন্ন কৌশল থাকে এবং সে কৌশলী সিদ্ধান্ত নিতেই হয়। একক নির্বাচনের পথেই দুটি দল এগোচ্ছে। জোট হবে কিনা সেটা সময়ই বলে দেবে।

১১ দলের শরিক বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির আল্লামা মামুনুল হক জানান, যেহেতু আমরা জোটে আছি সেহেতু মনে করি স্থানীয় নির্বাচনও জোটগতভাবে হওয়া উচিত। যেভাবে জাতীয় নির্বাচনে আমরা জোটগতভাবে প্রার্থী দিয়েছি, একইভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও ১১ দলের পক্ষে একক প্রার্থী হতে পারে।

দলটির মহাসচিব ড. আহমদ আব্দুল কাদের জানান, এ বিষয়ে ১১ দলে কোনো আলোচনা হয়নি। তবে সবাই যে যার মতো প্রস্তুতি নিচ্ছে।

এলডিপির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক ওমর ফারুক জানান, তাদের দলেরও কেউ কেউ প্রস্তুতি নিচ্ছেন। স্থানীয়ভাবেই প্রার্থীরা সক্রিয় রয়েছেন। তবে এটা নিয়ে জোটে কোনো আলোচনা হয়েছে কিনা সে বিষয়ে তার কিছু জানা নেই।

১১ দলীয় জোটের শরিক বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান বলেন, স্থানীয় নির্বাচন যার যার অবস্থান থেকে এককভাবেই করা উচিত। এতে সব দল তাদের সক্ষমতা যাচাইয়ের সুযোগ পাবে।

উল্লেখ্য, স্থানীয় সরকার নির্বাচন নিয়ে ১১ জোটের তৎপরতা বেড়ে যায়। ১১ দলের অন্যতম শরিক এনসিপি ১০ মে ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করে। এর মধ্যে উপজেলা পরিষদ, পৌরসভা চেয়ারম্যান ও মেয়র পদের প্রার্থীও রয়েছেন। ২৫ মের মধ্যে আরও ১০০ প্রার্থীর নাম ঘোষণা করবে।

অন্যদিকে, জামায়াত আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা না করলেও সারা দেশে সব পর্যায়ের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে তাদের সম্ভাব্য প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেছে এবং তারা মাঠে সক্রিয় রয়েছেন। তবে ১১ দলের শরিক অন্য কোনো দল গতকাল পর্যন্ত কোনো প্রার্থীর নাম ঘোষণা করেনি।

সরকারের নির্ভরযোগ্য সূত্রগুলো জানিয়েছে, ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন আগে অনুষ্ঠিত হতে পারে।

রাশেদ প্লাবন/এনডি/এএস

 

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন