ঢাকা: সুপ্ত, গুপ্ত ও পতিত স্বৈরাচারের লোক প্রশাসনসহ রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ন নানা জায়গায় এখনও বহাল থাকায় সরকার তার কাঙ্ক্ষিত গতিতে কাজ করতে পারছে না বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
গতকাল সোমবার রাতে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় যুগপৎ আন্দোলনের শরিক দলের নেতাদের বৈঠকে এ কথা জানান তিনি।
এসময় জাতীয় ঐক্য ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিতে দলগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান বিএনপি চেয়ারম্যান।

বৈঠকে সরকারের সাম্প্রতিক কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশল, নির্বাচনি অঙ্গীকার বাস্তবায়নের অগ্রগতি এবং শরিক দলগুলোর প্রত্যাশা ও পরামর্শ গুরুত্ব পায়।
প্রধানমন্ত্রী জাতীয় ঐক্য, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা এবং সমন্বিতভাবে সামনে এগিয়ে যেতে শরীক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়ন করছে তার সরকার।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি গুপ্তবাহিনী ৫ তারিখের পর ধীরে ধীরে আত্মপ্রকাশ করেছিলো। তারা ১২ তারিখের নির্বাচন এবং এর আগে ঠিক স্বৈরাচারী কায়দায় ভিন্নভাবে ডিজিটালভাবে তারা তাদের কাজ চালিয়েছিলো, তারা চেষ্টা করেছিলো বাংলাদেশের জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য। তবে এটা ঐতিহাসিকভাবে সত্য যে, বাংলাদেশের জনগণ যখনই স্বাধীনভাবে তাদের মতামত দেয়ার সুযোগ পেয়েছে, তারা সবসময় দেশের পক্ষে, জনগণের পক্ষে সিদ্ধান্ত নিতে কখনো ভুল করেনি।
তিনি বলেন, কাঙ্ক্ষিত গতিতে কিন্তু আমরা আমাদের কাজগুলো পরিচালনা করতে পারছি না। আমরা শুরু করেছি, কিন্তু আমাদের কাজগুলো ধীরে ধীরে রোল করছে। এর কারণ, সেই সুপ্ত-গুপ্তই বলুন আর স্বৈরাচার বলুন, এদের অনেক লোকজন এখনও প্রশাসনে এবং বিভিন্ন জায়গায় তারা বাধাগ্রস্ত করছে।
৩৪টি রাজনৈতিক দলের ১৯৬ জন প্রতিনিধি বিএনপি চেয়ারম্যানের সঙ্গে বৈঠক ও নৈশভোজে অংশ নেন।
উল্লেখ্য, বিএনপির নেতৃত্বে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও নির্দলীয় তত্ত্বাবধায়ক সরকারের দাবিতে ফ্যাসিবাদবিরোধী শরিক দলগুলোর যুগপৎ আন্দোলন আনুষ্ঠানিকভাবে ২০২২ সালের ২৪শে ডিসেম্বর থেকে শুরু হয়।
অভিন্ন দাবি ও কর্মসূচির মাধ্যমে রাজপথের আন্দোলন জোরদারে ভূমিকা রাখাসহ পরবর্তীতে জাতীয় নির্বাচনেও যৌথ ভূমিকা রাখে দলগুলো।
সরকার গঠনের পর, প্রথমবারের মতো যুগপৎ আন্দোলনে অংশ নেয়া শরীক দলগুলোকে নিয়ে একসঙ্গে বসলেন বিএনপি চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী।
ওএনবি/আরপি/জেএন



