কথাকাটাকাটির জেরে চুয়াডাঙ্গার আলমডাঙ্গায় এক বন্ধুর লাঠির আঘাতে আরেক বন্ধুর মৃত্যু হয়েছে। মৃতের নাম ইমদাদুল হক (২২)। অভিযুক্ত বন্ধুর নাম নাইস খন্দকার (২৫)। গতকাল বুধবার দিবাগত রাত আনুমানিক ১০ টার দিকে উপজেলার গোবিন্দপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
মৃত ইমদাদুল হক আলমডাঙ্গা পৌর এলাকার নওদাবন্ডবিল গ্রামের রেজাউল করিমের ছেলে। অভিযুক্ত নাইস খন্দকার একই এলাকার মৃত মজনু খন্দকারের ছেলে।
জানা গেছে, বুধবার রাত ৯টার দিকে গোবিন্দপুর নতুন বাসস্ট্যান্ড এলাকার একটি চায়ের দোকানে বসেছিলেন ইমদাদুল ও নাইস। এ সময় বিভিন্ন বিষয় নিয়ে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে বন্ধুর আচরণে ক্ষুব্ধ হয়ে ইমদাদুল তার মায়ের কাছে অভিযোগ জানানোর সিদ্ধান্ত নেন।

নাইসকে রাস্তায় দাঁড় করিয়ে রেখে তার বাড়িতে যান ইমদাদুল। সেখানে নাইসের মায়ের কাছে ছেলের আচরণ নিয়ে অভিযোগ করেন তিনি। এ সময় তাদের মধ্যে আবারও কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। নাইস হাতে বাটাম নিয়ে ইমদাদুলকে ধাওয়া করেন।
পালানোর সময় ইমদাদুল বাড়ির ভেতরে পড়ে গেলে তার মাথায় বাটাম দিয়ে আঘাত করেন নাইস। এতে গুরুতর আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকেন ইমদাদুল। ইমদাদুল বাড়ি থেকে বের না হওয়ায় স্বজনেরা তার খোঁজ করতে গিয়ে বাড়ির ভেতরে টিউবওয়েল ও ঘরের মাঝখানে বেড়ার পাশে তাকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
পরে তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে নেয়া হয়। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অ্যাম্বুলেন্সে করে উন্নত চিকিৎসার জন্য কুষ্টিয়ার উদ্দেশে রওনা হন স্বজনেরা। তবে পথেই খাজানগর এলাকায় তার মৃত্যু হয়।

নাইসের মা জানান, ইমদাদুল তার বাড়িতে এসে ছেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে ইমদাদুল একটি লাঠি দিয়ে নাইসকে আঘাত করে পালানোর চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি পড়ে গেলে নাইস বাটাম দিয়ে তার মাথায় আঘাত করেন।
ঘটনার পর নাইস বাড়ি থেকে পালিয়ে লালব্রিজ এলাকায় চলে যান। সেখানে স্থানীয় কয়েকজন যুবক তাকে দেখতে পেয়ে আটক করার চেষ্টা করেন। এ সময় তিনি পাশের বধ্যভূমির দিকে দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করলে তাকে আটক করা হয়। পরে বুধবার রাতেই তাকে আলমডাঙ্গা থানা-পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন স্থানীয়রা।
আলমডাঙ্গা থানার ওসি মোহাম্মদ রাকিবুল ইসলাম জানান, নওদাবন্ডবিল গ্রামের ইমদাদুল নামের এক যুবক আরেক যুবকের বাটামের আঘাতে নিহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে আলামত জব্দ করেছে। এ ঘটনায় অভিযুক্তকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এমভি/এএস



