, || ||

আলিফ ফার্মেসির ওষুধ সেবনের পর শিশু অসুস্থ, বিপুল পরিমান মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ উদ্ধার; ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

আলিফ ফার্মেসির ওষুধ সেবনের পর শিশু অসুস্থ, বিপুল পরিমান মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ উদ্ধার; ভ্রাম্যমাণ আদালতের জরিমানা

আলিফ ফার্মেসির ওষুধ সেবনের চুয়াডাঙ্গার দর্শনা পারকৃষ্ণপুর বাজারে মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ বিক্রি ও অনুমোদনহীন চিকিৎসা দেওয়ার অভিযোগে আবুল কালাম আজাদের আলিফ ফার্মেসিতে অভিযান চালিয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় ফার্মেসি থেকে দুই বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। পরে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করে তাকে ৯ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

এর আগে ওই ফার্মেসি থেকে দেওয়া ওষুধ সেবনের পর এক মাস বয়সী শিশু রাব্বি হাসান গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়ে। শিশুটিকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়। বর্তমানে সে অনেকটাই আশঙ্কামুক্ত।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বেগমপুর ডিহিকৃষ্ণপুর গ্রামের আসাদুজ্জামান আসাদের স্ত্রী জামেনা খাতুন সন্তান প্রসবের পর থেকে বাবার বাড়ি দর্শনার পারকৃষ্ণপুরে অবস্থান করছেন। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় তার এক মাস বয়সী শিশু সন্তান অসুস্থ হয়ে পড়লে চিকিৎসার জন্য পারকৃষ্ণপুর বাজারের আলিফ ফার্মেসিতে যান। ফার্মেসির মালিক আবুল কালাম আজাদ শিশুটিকে ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি দুটি মেয়াদোত্তীর্ণ সিরাপ দেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

ওষুধ সেবনের পর শিশুটির শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি ঘটে। পরে রাত সাড়ে ১০টার দিকে তাকে চুয়াডাঙ্গার একজন শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসক ভুল চিকিৎসা ও মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধের বিষয়টি বুঝতে পেরে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে শিশুটিকে চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে পাঠান। সেখানে রাতভর চিকিৎসার পর শিশুটির অবস্থার উন্নতি হয়।

ঘটনাটি দামুড়হুদা উপজেলা প্রশাসনকে অবহিত করেন আসাদুজ্জামান। অভিযোগের ভিত্তিতে বুধবার বিকেলে দামুড়হুদা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ হোসেন আলিফ ফার্মেসিতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করেন।

এ সময় ফার্মেসিটি তল্লাশি করে দুই বস্তা মেয়াদোত্তীর্ণ ওষুধ ও বিপুল পরিমাণ যৌন উত্তেজক ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়। ফার্মেসির প্রয়োজনীয় কাগজপত্র যাচাইয়ের সময় মেয়াদোত্তীর্ণ ফার্মেসির লাইসেন্স পাওয়া গেলেও চিকিৎসা দেওয়ার কোনো অনুমোদনপত্র দেখাতে পারেননি আবুল কালাম আজাদ।

পরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের বিচারক সাজ্জাদ হোসেন তাকে ৯ হাজার টাকা অর্থদণ্ড প্রদান করেন এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ড থেকে বিরত থাকার জন্য কঠোরভাবে সতর্ক করেন।

এ বিষয়ে সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাজ্জাদ হোসেন বলেন, এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে। পাশাপাশি অনিয়ম ও অবৈধ কর্মকাণ্ডের তথ্য দিয়ে প্রশাসনকে সহযোগিতা করার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানান।

এমএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন