ঢাকা: জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে রাজপথে হাজার হাজার ছাত্র-জনতাকে গুলি করে হত্যা করে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার বাহিনী। আন্দোলন দমাতে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সবচেয়ে বেশি ব্যবহার করেছে ৭ দশমিক ৬২ ক্যালিবারের বুলেট, যা মূলত ব্যবহার করা হয় সামরিক রাইফেলে।
সেসময় ঢাকা মেডিকেলে থাকা ১৩০টি মরদেহ নিয়ে জাতিসংঘের মানবাধিকার দপ্তরের অনুসন্ধান বলছে, ৬৬ শতাংশেরই মৃত্যু হয়েছে সামরিক অস্ত্রের গুলিতে। বাকি ১২ শতাংশ শর্টগান, ২ শতাংশ পিস্তল এবং ২০ শতাংশ মারা যান মারধরসহ অন্যান্য কারণে।
জানা গেছে, ২০১৪ সালে একতরফা ভোটের পর পুলিশ বাহিনীকে আধুনিকায়নের নামে অত্যাধুনিক মারণাস্ত্র যুক্ত করার তোড়জোড় শুরু হয়। কেনা হয় চাইনিজ রাইফেল, এসএমজি, এলএমজি, বিডি-৮ অ্যাসল্ট রাইফেল, টরাস ৯ এমএমসহ নানা অত্যাধুনিক অস্ত্র। ইতালি থেকে এসব অত্যাধুনিক অস্ত্রের প্রথম চালান আসে ২০১৫ সালে।

এ বিষয়ে সামরিক বিশেষজ্ঞ কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ আবদুল হক বলেন, সামরিক অস্ত্র শুধু সামরিক সদস্যদের কাছেই থাকবে, এটি অন্য কারও কাছে থাকার কথা না। সামরিক অস্ত্র শুধু যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করা হবে। কোনোভাবেই এই প্রাণঘাতী অস্ত্র তারা ব্যবহার করতে পারে না। সাংবিধানিকভাবে এটি নিষিদ্ধ।
সামরিক বিশেষজ্ঞ মে. জে. (অব.) নাঈম আশফাক চৌধুরী বলেন, বাংলাদেশের সমরাস্ত্র কারখানায় যে গোলাবারুদ তৈরি হয়, তার একটি অংশ বাংলাদেশ পুলিশের কাছেও যায়। যেহেতু তারা ৭ দশমিক ৬২ মিলিমিটার গোলাবারুদ নেন, তাই বলতে হবে, তাদের কাছে ৭ দশমিক ৬২ মিলিমিটার অস্ত্র আছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের সাবেক চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম বলেন, ক্রাইমস অ্যাগেইনস্ট হিউম্যানিটির ক্ষেত্রে অপরাধের যারা মূল পরিকল্পনাকারী, নির্দেশ দিয়েছে এবং বাস্তবায়ন করেছে—তাদেরই মূল দায়।
তিনি বলেন, কনস্টেবল পর্যায়ের যারা গিয়ে মাঠে গুলি করেছে, তাদের অনেক ক্ষেত্রে উপায় ছিল না। সে ক্ষেত্রে আদালতও একেবারে নিম্নপদস্থ বা সাধারণ সৈনিক কিংবা সাধারণ পুলিশ সদস্যদের কম শাস্তি দিয়েছেন। ন্যায়বিচারের স্বাভাবিক কারণেই তা দেয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, এখন যারা প্রধান অপরাধী, স্বাভাবিকভাবেই তারা পালিয়ে গেছে। তারা তো জানে, আদালতে বিচার হলে তাদের কী সাজা হবে। এখন এর অর্থ এই নয় যে, শুধু পালিয়ে গেছে বলেই তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে—তা নয়। তার অপরাধের গুরুতরতা বিবেচনায় তাকে মৃত্যুদণ্ড দেয়া হয়েছে।

জুলাই আন্দোলনে ব্যবহৃত অস্ত্রের ব্যবহার নিয়ে সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ব্রি. জে. (অব.) সাখাওয়াত হোসেন বলেন, মারণাস্ত্র বলতে যদি কোনো কিছু বোঝানো যায়, ইট ইজ দ্যাট। আমি দেখেছি, ৭ দশমিক ৬২ রাইফেলের একটি বুলেট লেগে একটি ছেলের পুরো হাত ভেঙে গেছে।
তিনি আরও বলেন, পুলিশের কাছে ৭ দশমিক ৬২ রাইফেল কারা দিয়েছে, এটা প্রথম আমি তদন্ত করব। হাউ ইট কেম? সিভিলিয়ানদের হাতেও আমি এই রাইফেল দেখেছি। দে ওয়্যার পার্ট অব পুলিশ।
এদিকে একটি সুত্রে দাবি, জুলাই আন্দোলনের ৩ মাস আগেও ৫০টি মারণাস্ত্রের জন্য দরপত্র আহ্বান করে পুলিশ।
আরপি/এএস



