, || ||

ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে গিয়ে তোপের মুখে এমপি আমির হামজা

ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে গিয়ে তোপের মুখে এমপি আমির হামজা

কুষ্টিয়া : কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে আন্তঃবিভাগ ফুটবল টুর্নামেন্ট উদ্বোধন করতে গিয়ে শিক্ষার্থীদের তোপের মুখে পড়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য (এমপি) মুফতি আমির হামজা।

ক্যাম্পাসজুড়ে নির্বিচারে গাছ কাটার প্রতিবাদে শিক্ষার্থীরা তাকে উদ্দেশ্য করে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দেন। একপর্যায়ে পরিস্থিতি এমন দাঁড়ায় যে, পুলিশের সহায়তায় এমপি আমির হামজাকে ক্যাম্পাস ত্যাগ করতে হয়।

বৃহস্পতিবার (০৭ মে) সকালে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ ক্যাম্পাসে এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, কুষ্টিয়া সরকারি কলেজে আন্তঃবিভাগ মিনি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মুফতি আমির হামজা। এমপি যখন উদ্বোধনী মঞ্চে বক্তব্য দিতে দাঁড়ান, তখন শিক্ষার্থীরা উত্তেজিত হয়ে ‘ভুয়া ভুয়া’ স্লোগান দিতে শুরু করেন। এমনকি তাঁর পুরো বক্তব্যের সময়জুড়ে এই স্লোগান দেয়।

বক্তব্যের একপর্যায়ে এমপি আমির হামজা শিক্ষার্থীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, বাকি যারা যা করছেন মনে করছেন, আমি লেবাস পরে আছি। মনে করছেন আমি হুজুর… আমি এগুলোর তালিকা নিয়ে যাব আজ। গিয়ে আপনাদের যা করা লাগে আমি তাই করব। এর পেছনে কারা আছে আমি তাও জানি। নালিশ একবারে উপরে দেব।

পরবর্তীতে তিনি গণমাধ্যমকে জানান, বড় কোনো ঘটনা ঘটেনি, সামান্য হট্টগোল হয়েছিল। পরে কলেজ থেকে তিনি নিরাপদেই বের হয়ে গেছেন।

অনুষ্ঠান শেষে কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক মোল্লা মো. রুহুল আমীনের কার্যালয়ে যান এমপি। সেখানেও উত্তেজিত শিক্ষার্থীরা কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন। পরিস্থিতি বেগতিক দেখে কার্যালয়ের কলাপসিবল গেট আটকে দিয়ে বাইরে পুলিশ অবস্থান নেয়। দীর্ঘ সময় পর পুলিশের কড়া পাহারায় তিনি ক্যাম্পাস ত্যাগ করেন।

কুষ্টিয়া মডেল থানার ওসি কবির হোসেন মাতুব্বর অবশ্য অবরুদ্ধ থাকার বিষয়টি অস্বীকার করে বলেন, এমপি তাঁর সঙ্গেই স্বাভাবিকভাবে বেরিয়ে গেছেন।

কলেজ সূত্রে জানা গেছে, গত ৪ মে রাতের আঁধারে টুর্নামেন্টের প্যান্ডেল তৈরির অজুহাতে কলেজের ২০টির মতো গাছ কেটে ফেলা হয়। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষকরা নিজ হাতে লাগানো এসব গাছের পরিচর্যা করতেন। বড় খেলার মাঠ থাকা সত্ত্বেও এভাবে গাছ কাটার ঘটনায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের মধ্যে চরম ক্ষোভ বিরাজ করছে।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, অধ্যক্ষের একক সিদ্ধান্তেই এই পরিবেশবিরোধী কাজ করা হয়েছে। এ ঘটনায় ইতিমধ্যে শিক্ষকরা লিখিত প্রতিবাদ জানিয়েছেন এবং কলেজ কর্তৃপক্ষ এক সদস্যবিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছে।

এদিকে পরিবেশ রক্ষা ও বৃক্ষনিধনের বিচার না হওয়া পর্যন্ত শিক্ষার্থীরা তাদের প্রতিবাদ কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

ইয়াসির আরাফাত/এনডি/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন