গাজীপুর : গত শনিবার সকালে গাজীপুরের কাপাসিয়ার রাউৎকোনা গ্রামের একটি বাড়ি থেকে শারমিন আক্তার, মেয়ে মীম খানম (১৫), উম্মে হাবিবা (৮), ফারিয়া (২) ও শ্যালক রসুল মিয়ার (২২) মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
এ ঘটনার পর থেকে নিহত শারমিনেরর স্বামী ফোরকান পলাতক রয়েছেন। পুলিশের ধারণা, পলাতক ফোরকানই এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে আত্মগোপনে রয়েছেন।
এদিকে স্ত্রী, তিন সন্তানসহ পাঁচজনকে হত্যার রাতে অভিযুক্ত ফোরকান মিয়া যেসব কাজ করেছিলেন তা তার প্রতিবেশীদের ভাষ্যে উঠে এসেছে।

জানা গেছে, সেদিন ফোরকানের বাড়িতে মেহমান ছিল। বাড়ির পাশের দোকান থেকে তিনি পোলাওয়ের চাল এবং কিশমিশ কেনেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাশের বাড়ির একজন বলেন, আমি লোকজনের কাছে শুনেছি, শুক্রবার রাতে ফোরকান দীর্ঘক্ষণ বাড়ির পাশের সড়ক দিয়ে হাঁটাহাঁটি করেন। তিনি মোবাইলে কারো কথা বলেছিলেন। এ সময় তার কোলে ছোট মেয়ে ফারিয়া এবং হাত ধরা ছিল মেজ মেয়ে মারিয়া।
আরেক প্রতিবেশী বলেন, রাত ৮টার দিকে ফোরকান বাড়িতে আসেন। এ সময় তার প্রাইভেটকার ছাড়াও আরও একটি প্রাইভেট কার আসে। ওই গাড়ি থেকে কয়েকজন লোক নামেন।
এক মুদিদোকানি বলেন, শুক্রবার রাত ৯টার দিকে ফোরকান ছোট মেয়েকে নিয়ে দোকানে আসেন। এসেই জিজ্ঞাসা করেন, ভাবি কিশমিশ আছে? পরে ২টা চিপস নেন মেয়ের জন্য।
তিনি বলেন, এ সময় তার হাতে কাপড়ের একটা ব্যাগ ছিল। বাড়িতে এলেই ছোট মেয়েকে সঙ্গে নিয়ে আসতেন। তিনি তার মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করতে পারেন, এটা বিশ্বাস হচ্ছে না।
বাড়ির পাশের আরেক মুদিদোকানি বলেন, শুক্রবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ফোরকানকে সড়ক দিয়ে হাঁটতে দেখেছি। তখন তার কোলে ছোট মেয়ে এবং সঙ্গে মেজ মেয়ে মারিয়াও ছিল। অবিশ্বাসের মতোই লাগে। বাবা তার সন্তানদের কীভাবে মারে?
স্থানীয় এক নারী বলেন, স্ত্রী ভুল করে থাকলে তাকে ছেড়ে (ডিভোর্স) দিত কিন্তু তার মেয়ে এবং শ্যালকের কী দোষ ছিল? বাবা হয়ে মেয়েদের এভাবে হত্যা করতে পারে না। ।
জানতে চাইলে গাজীপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম) মো. আশফাক বলেন, আমাদের একাধিক টিম ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটন এবং আসামিকে গ্রেপ্তারে কাজ করছে। তদন্তের স্বার্থে আর কিছু বলা যাচ্ছে না আপাতত।
এনডি/জেএফজে



