কুষ্টিয়া : ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বিধানসভা নির্বাচনের পর হিংসতা ও রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের কুষ্টিয়া সীমান্তে সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)।
শনিবার দুপুরে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর সীমান্ত সংলগ্ন বিভিন্ন গ্রামে জনসাধারণের উদ্দেশ্যে মাইকিং ও সতর্কতামূলক প্রচারণা চালায় কুষ্টিয়া ব্যাটালিয়ন (৪৭ বিজিবি)।
সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং যেকোনো ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি এড়াতে বিজিবির পক্ষ থেকে বেশ কিছু কঠোর নির্দেশনা জারি করা হয়েছে:

বিজিবি জানিয়েছে- প্রতিদিন বিকেল ৫টার পর সীমান্তের ১৫০ গজ এলাকা বা শূন্য লাইনের (Zero Line) ভেতরে প্রবেশ সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
সীমান্ত সংলগ্ন জমিতে কাজ করা বা গবাদিপশু চরানোর ক্ষেত্রে কৃষকদের সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানানো হয়েছে।
সীমান্ত দিয়ে কোনো ধরনের ‘পুশ-ইন’ বা অবৈধ অনুপ্রবেশের তথ্য পাওয়ামাত্রই বিজিবি ক্যাম্পে জানানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মাদক, অস্ত্র ও চোরাচালান প্রতিরোধে স্থানীয়দের সচেতন থাকার এবং সন্দেহজনক কার্যকলাপ দেখলেই বিজিবিকে অবহিত করার অনুরোধ করা হয়েছে।
পশ্চিমবঙ্গের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রভাব যেন বাংলাদেশে না পড়ে, সে লক্ষ্যে সীমান্ত এলাকায় টহল বৃদ্ধি ও অতিরিক্ত জনবল মোতায়েন করা হয়েছে।
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল রাশেদ কামাল রনি বলেন,”সীমান্তে জনসাধারণের উদ্দেশ্যে মাইকিং করে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। পাশাপাশি নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। পরিস্থিতি এখন পর্যন্ত স্বাভাবিক রয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের সহিংসতা মূলত শহরকেন্দ্রিক হলেও আমরা যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বদা প্রস্তুত রয়েছি।”
বিজিবি জানিয়েছে, শুধুমাত্র টহল জোরদারই নয়, সীমান্তবর্তী গ্রামগুলোর সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাদকদ্রব্য ও অবৈধ মালামাল প্রবেশ ঠেকাতে কঠোর অবস্থানে রয়েছে।
নির্ধারিত সময়ের পর কোনো বাংলাদেশী নাগরিক যেন সীমান্ত এলাকায় অবস্থান না করেন, সে বিষয়ে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমেও তদারকি করা হচ্ছে।
ইয়াসির আরাফাত/এনডি/এএস



