, || ||

চুয়াডাঙ্গায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণীর ভাতার টাকা হাতিয়ে নিলো বিকাশ প্রতারক চক্র

চুয়াডাঙ্গায় বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণীর ভাতার টাকা হাতিয়ে নিলো বিকাশ প্রতারক চক্র

চুয়াডাঙ্গায় সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয়ে প্রতারণার মাধ্যমে বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর নিয়ে এক বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণীর ভাতার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে বিকাশ প্রতারক চক্রের বিরুদ্ধে।

ভুক্তভোগী তরুণীর মায়ের অভিযোগ, গত সোমবার রাত ১২টার দিকে তাঁদের মোবাইল ফোনে কল করে এক ব্যক্তি নিজেকে সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে বলেন, তাঁদের মোবাইলের বিকাশ অ্যাকাউন্টে ২ হাজার ১০০ টাকা পাঠানো হয়েছে।

টাকাটি এসেছে কি না, তা যাচাই করতে মোবাইলের এসএমএস দেখতে বলেন ওই ব্যক্তি। তার কথায় এসএমএস চেক করে টাকা পাঠানোর বার্তা দেখতে পান তাঁরা। এরপর আরও ৩০০ ও ১৫০ টাকা পাঠানোর এসএমএস আসে।

একপর্যায়ে প্রতারক চক্রটি বিকাশ অ্যাকাউন্টের পিন নম্বর জানতে চায়। সরল বিশ্বাসে তাঁদের কথামতো পিন নম্বর জানিয়ে দেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। পরে বিকাশের ব্যালেন্স চেক করতে বললে দেখা যায়, অ্যাকাউন্টে থাকা ২ হাজার ৫০০ টাকাই উধাও হয়ে যায়!

পরবর্তীতে তাঁরা বুঝতে পারেন, প্রতারকদের পাঠানো ২ হাজার ৫৫০ টাকা জমা হওয়ার এসএমএসগুলো ছিল সম্পূর্ণ ভুয়া। সমাজসেবা অধিদপ্তরের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে প্রতারণার ফাঁদ পেতে তাঁদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, একজন বুদ্ধিপ্রতিবন্ধী তরুণীর জন্য প্রতিবন্ধী ভাতার সামান্য এই অর্থ যে কতটা গুরুত্বপূর্ণ, তা ভুক্তভোগী পরিবারই ভালো জানে। রাষ্ট্রীয় সহায়তার এই সামান্য অর্থই ছিল তাঁদের কাছে এক ধরনের ভরসা। অথচ সেই অসহায় পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর পরিবর্তে প্রতারণার মাধ্যমে তাঁদের শেষ সম্বলটুকুও কেড়ে নেওয়া হলো। এ ঘটনায় এলাকায় ক্ষোভ ও হতাশার সৃষ্টি হয়েছে।

এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মনে প্রশ্ন জাগে, একজন অসহায় মানুষের ভাতার টাকাও যদি প্রতারকদের হাত থেকে নিরাপদ না থাকে, তাহলে এসব মানুষের নিরাপত্তা কোথায়?

এদিকে, ভুক্তভোগী পরিবার সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। একই সঙ্গে প্রতারক চক্রকে শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা এবং হাতিয়ে নেওয়া টাকা উদ্ধারের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।

এমভি

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন