ঢাকা: ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ, জমি দখলসহ নানা কেলেঙ্কারি সামনে এলে গোপনে সপরিবারে দেশ ছেড়ে পালান বাংলাদেশের সাবেক পুলিশপ্রধান বেনজীর আহমেদ ।
অবশেষে ইন্টারপোলের রেড নোটিশের ভিত্তিতে তাকে দুবাই থেকে গ্রেপ্তার করেছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের পুলিশ। দুর্নীতির মামলায় বেনজীর গ্রেপ্তার হওয়ার পর তার অবৈধভাবে অর্জিত সম্পদ নিয়ে আবারও আলোচনা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে তার ও তার পরিবারের সদস্যদের বিদেশে অর্থপাচার ও সম্পদ গড়া নিয়ে আরব আমিরাত, মালয়েশিয়া, পর্তুগালসহ বিভিন্ন দেশে নানা কানাঘুষা চলছে।

তদন্ত সূত্র বলছে, বাংলাদেশ ছাড়াও বেনজীরের কাছে পর্তুগালের পাসপোর্ট আছে। ‘গোল্ডেন ভিসা’র মাধ্যমে পর্তুগালের নাগরিকত্ব নেন বেনজীর। পূর্ব ইউরোপের আটলান্টিক মহাসাগর উপকূলবর্তী দেশটির গোল্ডেন ভিসা পেতে পাঁচ লাখ ইউরো বিনিয়োগ করতে হয়, যা বাংলাদেশি টাকায় ৭ কোটিরও বেশি। এছাড়া তার কাছে সংযুক্ত আরব আমিরাতে বসবাসের অনুমতিপত্র ছিল।
পর্তুগালের কয়েকটি সূত্র বলছে, দেশটিতে বেনজীর আহমেদের অঢেল সম্পত্তি রয়েছে। তার অন্তত ৫২টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও পাঁচটি বিলাসবহুল বাড়ির খবর পাওয়া যায়। এসব সম্পত্তি বেনজীর আহমেদের চাচাতো ভাই ও কতিপয় আওয়ামীপন্থী প্রবাসী সাংবাদিক দেখভাল করেন।
তবে বেনজীর আহমেদের এসব সম্পদের বিষয় নিয়ে সরাসরি কেউ নাম প্রকাশ করে সংবাদ মাধ্যমের সঙ্গে কথা বলতে চাননি।
এদিকে গত ১৫ জুন পর্তুগালের রাজধানী লিসবনের একটি রেস্টুরেন্টে পর্তুগাল বাংলা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়ে অংশ নেন প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সরকারী ড. এস এম জিয়া উদ্দিন হায়দার।
সেখানে পর্তুগালে বেনজীরকে অবৈধ সম্পদ বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেবে কিনা, সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী জানান, বাংলাদেশ সরকার এ ব্যাপারে কাজ করবে। শুধু পর্তুগাল নয়, বিশ্বের যে কোনো প্রান্তে সাবেক আইজিপি বেনজীর আহমেদের সম্পত্তি ফিরিয়ে নেওয়ার ব্যাপারে সরকার কাজ করবে।
এদিকে বেনজীর গ্রেপ্তার হওয়ার পর সোমবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, কত ফ্ল্যাট, কত জায়গা, কত জমি আছে তার স্ত্রীর নামে, তার সন্তানদের নামে। তার বিরুদ্ধে শত শত কোটি টাকার সন্ধান পাওয়া যায় দেশে-বিদেশে। এমন কোনো কুকীর্তি নেই, যেটা বেনজীর আহমেদ করেননি।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, আমরা এক সময় জানতাম তিনি সারা বাংলাদেশকে চালাচ্ছেন। তার ওপরে কাউকে মানুষ মনে হতো না। তার যে দম্ভোক্তি, তার যে বডি ল্যাংগুয়েজ সব কিছু মিলিয়ে তখন বাংলাদেশে কোনো কোনো জায়গায় শেখ হাসিনার চেয়েও বেশি পরিচিত ছিলেন বেনজীর আহমেদ। এ পরিচিতির কারণ হলো তিনি হেন কোনো দুষ্কর্ম নাই যেটা তিনি তার কর্মজীবনে করেন নাই।
তিনি আরও বলেন, আমরা ধারণা করি আওয়ামী লীগের শেষ আমলে তাদের কোনো অভ্যন্তরীণ কোন্দলে তাদের কোনো কুশীলব তার এ কুকীর্তি প্রকাশ করে দেয়।
এআইএন/এনডি/এএস



