, || ||

প্রশংসায় ভাসছে মিরাজের পারফরম্যান্স

প্রশংসায় ভাসছে মিরাজের পারফরম্যান্স

ঢাকা: অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে প্রথমবারের মতো টেস্ট জিতে ইতিহাস গড়েছে বাংলাদেশ। দলের জয়ে ব্যাটে-বলে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা মেহেদী হাসান মিরাজও পেয়েছেন দারুণ স্বীকৃতি। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক ক্রিকেটার থেকে শুরু করে ধারাভাষ্যকার ও বিশ্লেষকদের প্রশংসায় ভাসছে তার পারফরম্যান্স। বিশ্বমানের ক্রিকেটারদের কাছ থেকে এমন প্রশংসা পেয়ে স্বাভাবিকভাবেই আনন্দিত মিরাজ।

ঐতিহাসিক জয়ের পর নিজেদের অনুভূতির কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ড্রেসিংরুমে সবাই অনেক উপভোগ করছে, সবাই অনেক খুশি। গ্যালারি থেকে অনেক সাপোর্ট পেয়েছি। বাংলাদেশের হয়ে ম্যাচ জিতলে আমাদেরও ভালো লাগে। বাংলাদেশের প্রশংসা করছে বিশ্বমানের ক্রিকেটাররা। এটা আমার কাছে অনেক বড় ব্যাপার।

সিরিজ জেতা নিয়ে মিরাজ বলেছেন, যেভাবে আমরা চিন্তা করেছি, সেভাবেই ভাবতে চাচ্ছি। প্রথম ম্যাচ জিতেছি। যেহেতু সামনে অনেক চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে। আমরা এই মোমেন্টামে আছি, সামনে আরও পরিকল্পনা করবো ম্যাচ নিয়ে।

তবে অসংখ্য প্রশংসার মধ্যেও একটি নাম মিরাজের কাছে আলাদা গুরুত্ব পেয়েছে। অস্ট্রেলিয়ার কিংবদন্তি অ্যাডাম গিলক্রিস্ট তার পাঁচ উইকেট পাওয়ার পর সাক্ষাৎকার নিয়েছিলেন। সেই মুহূর্তটি এখনো মনে দাগ কেটে আছে মিরাজের।

অনেকের প্রশংসার মধ্যে একজনেরটা আলাদা চোখে দেখছেন এই অলরাউন্ডার, অনেক লিজেন্ডারি প্লেয়ার ছিল এখানে। সবাই বেশ ভালো কথা বলেছে। এর মধ্যে অ্যাডাম গিলক্রিস্ট ছিলেন, পাঁচ উইকেট পাওয়ার পর আমার ইন্টারভিউ নিলেন। অনেক ভালো লেগেছে। অনেক খুশি। বারবার আমাকে অভিনন্দন জানিয়েছেন, বাংলাদেশের তোমরা সবাই অনেক ভালো ক্রিকেট খেলেছে, আমাদের সবাইকে অবাক করে দিয়েছ। আমরা কখনও ভাবিনি তোমরা এভাবে ক্রিকেট খেলতে পারো।

গিলক্রিস্টের মতো একজন কিংবদন্তির কাছ থেকে পুরো দলকে নিয়ে এমন প্রশংসা পাওয়া মিরাজের কাছে বিশেষ কিছু। অন্য সাবেক ক্রিকেটারদের কাছ থেকেও প্রশংসা পাওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, এরকম একজন লিজেন্ডারি প্লেয়ার যদি দল নিয়ে এত ভালো কথা বলেন, নিজের কাছে ভালো লাগে। আরও যারা আছেন, অনেক প্লেয়াররা ছিলেন। আপনারাও ভালো জানেন। কারণ আমরা মাঠে খেলেছি। ভালো লাগে, যখন এরকম কথা বলে।

শুধু মাঠের ক্রিকেট নয়, অস্ট্রেলিয়ান দর্শকদের কাছ থেকেও পাওয়া ভালোবাসা মিরাজকে ছুঁয়ে গেছে। দ্বিতীয় দিন বাংলাদেশের ভালো পারফরম্যান্সের পর এক প্রবীণ অস্ট্রেলিয়ান নারী তাকে অভিনন্দন জানানোয় সেই ঘটনা বিশেষভাবে মনে রেখেছেন তিনি।

অস্ট্রেলিয়ান দর্শকদের নিয়ে মিরাজ বলেছেন, আমার একটা ঘটনা মনে আছে। যখন আমরা নাস্তা করতে আসি। আসলে এখানে তো অনেক বিদেশি আছে। দুই দিন আগে যখন দ্বিতীয় দিন ভালো খেললাম। ৯০ বছরের বেশি বয়সী একজন মহিলা এসে আমাকে বলছেন, ‘অভিনন্দন, অভিনন্দন।’

এমনভাবে বলছেন আমার অনেক ভালো লেগেছে। তারা অনেক খেলা দেখে এবং সমর্থন করে। ভালোটাকে মূল্যায়ন করে এবং খারাপ হলেও সাপোর্ট করে যে সামনের বার হবে। এই জিনিসটা ভালো লাগে।

দলের ঐতিহাসিক জয়ে নিজের অবদান নিয়ে অবশ্য ব্যক্তিগত কৃতিত্বকে বড় করে দেখছেন না মিরাজ। বরাবরের মতোই দলের প্রয়োজন অনুযায়ী ভূমিকা রাখাই তার মূল লক্ষ্য। অতীতে তাকে নিয়ে নানা আলোচনা-সমালোচনা হলেও সেসবকে গুরুত্ব না দিয়ে বাংলাদেশের জন্য অবদান রাখতেই চান তিনি।

নিজের পারফরম্যান্স নিয়ে মিরাজ বলেন, আমি সবসময় দলের জন্য খেলি। অনেক সময় অনেক কথা শুনেছি। এগুলোর আসলে কোনো ভিত্তি নেই। আমি সবসময় চেষ্টা করি দলে অবদান রাখতে। অধিনায়ক থাকতেও আমি সেই চেষ্টা করেছি। আমি না থাকলেও এটাই চেষ্টা করবো। কারণ দিন শেষে তো বাংলাদেশ, এখানে তো আলাদা কোনো প্লেয়ার না।

জেএন

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন