শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১লা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

মদ বিক্রিতে কেরুর রেকর্ড মুনাফা, চিনিতে লোকসান

মদ বিক্রিতে কেরুর রেকর্ড মুনাফা, চিনিতে লোকসান

চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় অবস্থিত দেশের সবচে বড় চিনিকল কেরু অ্যান্ড কোম্পানি (বাংলাদেশ) লিমিটেডে চিনি উৎপাদনে এবারও বড় অঙ্কের লোকসান হয়েছে। তবে মদ বিক্রি করে রেকর্ড ২২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা মুনাফা করেছে প্রতিষ্ঠানটি।  ভ্যাট ও আয়কর বাদে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে কেরুর নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৬৫ কোটি ২৪ লাখ টাকা।

এর আগে গেল ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির নিট মুনাফা ছিল ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬১৫ টাকা। সে হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে কেরুর নিট মুনাফা বেড়েছে প্রায় ৩৬ কোটি টাকা।

কেরু অ্যান্ড কোম্পানির ২০২৫-২৬ অর্থবছরের লাভ-ক্ষতির হিসাব এবং ২০২৪-২৫ অর্থবছরের আর্থিক বিবরণী থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

তথ্য অনুযায়ী, কেরু অ্যান্ড কোম্পানি ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারী কোষাগারে প্রায় ১৪০ কোটি টাকা ভ্যাট ও আয়কর জমা দেয়। আর ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এ খাতে জমার পরিমাণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে প্রায় ১৫৩ কোটি টাকা।

জানা গেছে, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে কেরুর বিভিন্ন ইউনিটের মধ্যে চিনি ইউনিটে ৬২ কোটি ১৮ লাখ ২২ হাজার ৪৫১ টাকা লোকসান হয়। তবে ডিস্টিলারি ইউনিটে মুনাফা হয় ১৯০ কোটি ৮ লাখ ২৯ হাজার ৮৬৮ টাকা।

এ ছাড়া বাণিজ্যিক খামারে ৩৮ লাখ ৯ হাজার ৭১২ টাকা, আকন্দবাড়ীয়া খামারে ৩২ লাখ ৮৮ হাজার ৬২৫ টাকা, বায়ো ফার্টিলাইজার ইউনিটে ৭৮ লাখ ৫২ হাজার ৫৬৯ টাকা এবং ডিস্টিলারি ফার্মা ইউনিটে ৫ লাখ ২০ হাজার ৪৭৬ টাকা মুনাফা হয়।

সব মিলিয়ে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির মোট নিট মুনাফা দাঁড়ায় ১২৯ কোটি ৪৪ লাখ ৭৮ হাজার ৬১৫ টাকা। অন্যদিকে, সদ্য শেষ হওয়া ২০২৫-২৬ অর্থবছরেও চিনি ইউনিটে লোকসান অব্যাহত রয়েছে।

প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, এ ইউনিটে ৬০ কোটি ১৯ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। তবে ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে ২২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা মুনাফা হয়েছে, যা কেরুর ইতিহাসে ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে সর্বোচ্চ মুনাফা বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এ ছাড়া বাণিজ্যিক খামার, আকন্দবাড়ীয়া ইউনিট, বায়ো ফার্টিলাইজার এবং ডিস্টিলারি ফার্মা ইউনিট থেকেও মুনাফা হয়েছে। সব ইউনিট মিলিয়ে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ভ্যাট ও আয়কর বাদে কেরুর নিট মুনাফা দাঁড়িয়েছে ১৬৫ কোটি ২৯ লাখ ৫০০ টাকা।

কেরুর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রাব্বিক হাসান বলেন, সদ্য শেষ হওয়া অর্থবছরে ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে ভ্যাট ও আয়কর বাদ দিয়ে ২২৩ কোটি ৭৯ লাখ ৩২ হাজার টাকা মুনাফা হয়েছে। কোম্পানির ইতিহাসে ডিস্টিলারি ইউনিট থেকে এত বেশি মুনাফা আর কখনো হয়নি।

তিনি আরও বলেন, ‘কারখানার অভ্যন্তরীণ ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং ডিস্টিলারি ইউনিটের বকেয়া পাওনা আদায়ের মতো বেশ কিছু উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা মুনাফার প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে পেরেছি।’

চিনি ইউনিটে ধারাবাহিক লোকসানের বিষয়ে রাব্বিক হাসান বলেন, ‘আমরা বাজারের চাহিদা অনুযায়ী চিনি উৎপাদন করতে পারছি না। ফলে আখ মাড়াই করে উৎপাদিত চিনিতে বড় ধরনের লোকসান হচ্ছে। এর সঙ্গে ঋণের উচ্চ সুদ চিনি ইউনিটের লোকসানকে আরও বাড়িয়ে তুলছে।’

১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৭২ সালে জাতীয়করণ করা কেরু অ্যান্ড কোম্পানি মূলত একটি চিনিকল পরিচালনা করে। তবে চিনির পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির ডিস্টিলারি, বায়ো ফার্টিলাইজার, বাণিজ্যিক খামার এবং ফার্মাসিউটিক্যাল ইউনিট রয়েছে।

ওএনবি

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন