শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১লা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে পর্নোগ্রাফি বৈধ করার উদ্যোগ ইউক্রেনের

যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে পর্নোগ্রাফি বৈধ করার উদ্যোগ ইউক্রেনের

ঢাকা: রাশিয়ার সঙ্গে চলমান যুদ্ধের ব্যয় মেটাতে পর্নোগ্রাফি বৈধ করার উদ্যোগ নিয়েছে ইউক্রেন সরকার। দেশটির পার্লামেন্টে উত্থাপিত একটি বিলের মাধ্যমে প্রাপ্তবয়স্ক বিনোদন শিল্পকে বৈধ অর্থনীতির আওতায় এনে বছরে প্রায় ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার কর রাজস্ব আদায়ের আশা করছে দেশটি।

বিলটির অন্যতম উদ্যোক্তা ও ইউক্রেনীয় পার্লামেন্টের অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান ইয়ারোস্লাভ ঝেলেজনিয়াকের হিসাব অনুযায়ী, সম্ভাব্য এই রাজস্ব দিয়ে প্রায় ৩০ হাজার ড্রোন কেনার অর্থ জোগাড় হতে পারে। দ্য ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদনে এমনই তথ্য উঠে এসেছে।

বর্তমানে ইউক্রেনে পর্নোগ্রাফি তৈরি, সংরক্ষণ ও বিতরণ আইনত অপরাধ। এ ধরনের কর্মকাণ্ডের জন্য সর্বোচ্চ সাত বছর পর্যন্ত কারাদণ্ডের বিধান রয়েছে। তবে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও দেশটিতে অনলাইন প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্টের বাজার দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে।

যুদ্ধের সময়ে সরকার রাজস্ব বাড়াতে অনলাইন প্ল্যাটফর্মে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট তৈরি করা ব্যক্তিদের কাছ থেকে কর আদায়ের উদ্যোগ নেয়। কিন্তু এতে নতুন আইনি জটিলতা তৈরি হয়েছে। কারণ আয় ঘোষণা করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের এমন কর্মকাণ্ডের তথ্য প্রকাশ হয়ে যাচ্ছে, যা দেশটির প্রচলিত আইনে এখনও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত।

ইউক্রেনের পার্লামেন্টের অর্থ কমিটির চেয়ারম্যান ইয়ারোস্লাভ জেলেজনিয়াক পর্নোগ্রাফি বৈধ করার একটি বিলের পক্ষে কাজ করছেন। তার হিসাব অনুযায়ী, এ খাত বৈধ করা হলে ইউক্রেন বছরে সর্বোচ্চ ২ কোটি ৫০ লাখ ডলার কর রাজস্ব পেতে পারে। এই অর্থ যুদ্ধের কাজে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালকে জেলেজনিয়াক বলেন, বর্তমানে প্রাপ্তবয়স্ক কনটেন্ট নির্মাতাদের জন্য পরিস্থিতি একটি ‘দুঃখজনক ও হাস্যকর’ অবস্থায় দাঁড়িয়েছে। কারণ তারা কর নাদিলে কর ফাঁকির অভিযোগে অপরাধের মুখোমুখি হচ্ছেন, আবার কর দিলে পর্নোগ্রাফি আইনের আওতায় অপরাধের অভিযোগ উঠছে।

ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৩ সালে ইউক্রেনের প্রায় ৭ হাজার ৯০০ মানুষ অনলি ফ্যানস থেকে মোট ১৩ কোটি ১০ লাখ ডলারের বেশি আয় করেছেন। অনলি ফ্যানসের মূল প্রতিষ্ঠান ফেনিক্স ইন্টারন্যাশনালের তথ্যের ভিত্তিতে এই হিসাব দেওয়া হয়েছে।

প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি পার্লামেন্টকে পর্নোগ্রাফি বৈধ করার বিষয়ে জেলেজনিয়াকের বিলটি বিবেচনার কথা বলেন। জেলেজনিয়াকসহ কয়েকজন আইনপ্রণেতার যৌথভাবে তৈরি করা বিলটি চলতি বছরের জুলাইয়ে ইউক্রেনের পার্লামেন্টে প্রথম দফার ভোটে পাস হয়েছে। এখন বিলটির দ্বিতীয় দফা পাঠের অপেক্ষা রয়েছে।

জেএন

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন