গত ১৭ বছরে প্রয়োজনীয় সংখ্যক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী নিয়োগ না হওয়ায় দেশে স্বাস্থ্যখাতে তীব্র জনবল সংকট তৈরি হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
রোববার (২৬ জুলাই) দুপুরে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল এবং তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী হাসপাতালের সার্বিক চিকিৎসাসেবা, পরিচ্ছন্নতা, ওয়াশরুম ও বাথরুম এবং রোগীদের খাবারের সার্বিক মান খতিয়ে দেখেন।

বিশেষ করে সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের রান্নাঘরে প্রবেশ করে রান্না করা তরকারি ও মাংসের ঝোল নিজে পরখ করে দেখেন তিনি। খাবারের গুণগত মান ও রান্নাঘরের পরিচ্ছন্নতায় সন্তোষ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। ল
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকদের হাজিরা খাতা পরীক্ষা করেন। এ সময় হাজিরা খাতায় অনেকের টানা ৮ থেকে ১০ দিনের স্বাক্ষর না থাকা এবং কয়েকজন ডাক্তার এর অনুপস্থিত দেখে তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে হুশিয়ারী উচ্চারণ করেন মন্ত্রী।
একই সঙ্গে জেলাব্যাপী হাসপাতালগুলোতে সঠিকভাবে পেশাগত তদারকি না করায় সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালামের অবহেলা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি। ভবিষ্যতে হাজিরা খাতায় স্বাক্ষর জালিয়াতি বা অনুপস্থিতিসহ এ ধরনের তদারকিজনিত গাফিলতি আর সহ্য করা হবে না মর্মে উপস্থিত সকলকে কড়া সতর্কবার্তা দেন মন্ত্রী।
হাসপাতালগুলোতে আকস্মিক পরিদর্শনের সময় অনিয়ম ও অবহেলার অভিযোগে মন্ত্রী কয়েকটি কঠোর পদক্ষেপ নেন:
তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স: সকাল ১০টায় পরিদর্শনের সময় দীর্ঘদিন অনুমতি ছাড়া কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকার অভিযোগে ডা. শাওলি নানজীবা তন্নির বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা ও বরখাস্তের নির্দেশনা দেন মন্ত্রী। একই সঙ্গে হাসপাতালে চুরির ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার দায়ে নাইট গার্ড মোস্তফাকে বরখাস্তের নির্দেশ দেওয়া হয়।
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল: দুপুর ১টার দিকে পরিদর্শনের সময় এক বছর এর বেশি সময় ধরে কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ডা. সোহানা সেলিম নামের অপর এক চিকিৎসককে তাৎক্ষণিক বরখাস্তের নির্দেশ দেন তিনি।
সংবাদকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, “দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার দ্রুত আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে নানা কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হচ্ছে।”
সরকারের গৃহীত বিভিন্ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি জানান ৫০ শয্যার উপজেলা হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার প্রক্রিয়া চলমান। প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৫০টি করে আধুনিক ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন করা হবে।
উপজেলা পর্যায়ে ডায়াগনস্টিক, প্যাথলজি ও ফিজিওথেরাপি সেবা সম্প্রসারণের পাশাপাশি পর্যায়ক্রমে ডায়ালাইসিস সুবিধা চালু করা হবে।ইউনিয়ন স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও পরিবার পরিকল্পনা কেন্দ্রগুলোকে শতভাগ কার্যকর ও আধুনিক রূপ দেওয়া হবে।
তিনি আরো বলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে খুব শিগগিরই দেশব্যাপী সমন্বিত ‘স্বাস্থ্য কার্ড’ (Health Card) বিতরণ কার্যক্রম শুরু হবে।
পরিদর্শনকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সঙ্গে আরও উপস্থিত ছিলেন- সাতক্ষীরা জেলা প্রশাসক কায়সার আজিজ, সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ ডা. কাজী আরিফ আহমেদ, মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. খুদরত-ই-খুদা, সিভিল সার্জন ডা. আব্দুস সালাম, জেলা পরিষদের প্রশাসক হাবিবুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব আবু জাহিদ ডাবলু, সাতক্ষীরা-২ আসনের সংসদ প্রার্থী আব্দুর রউফ, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি আবু রাইহান, সাধারণ সম্পাদক দুদায়েভ মাসুদ অর্ঘ্যসহ স্বাস্থ্য বিভাগ ও স্থানীয় প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।
আব্দুল মোমিন/এএস



