ঢাকা : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাহনেওয়াজ ছাত্রাবাসের সামনে বটতলায় খন্দকার নাঈম আহমেদ টিটনকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। হত্যার ২৪ ঘন্টার মধ্যেই হত্যার মোটিভ উন্মোচন করে আইনশৃঙ্খলা বাহীনি।
এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ‘শীর্ষ সন্ত্রাসী’ টিটনকে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ডিবি প্রধান শফিকুল ইসলাম।
বুধবার (২৯ এপ্রিল) ডিএমপি মিডিয়া সেন্টারে অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানান তিনি।

তিনি বলেন, ‘নিহত শীর্ষ সন্ত্রাসী টিটনের হত্যায় কারা জড়িত দ্রুত তাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া বিদেশে পালিয়ে থাকা সন্ত্রাসীদের ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনে ইন্টারপোলের সহায়তা নেয়া হবে।’
হত্যাকাণ্ডের পর অতিরিক্ত কমিশনার নজরুল ইসলাম গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ৫২ বছর বয়সী টিটন দুই দশকেরও বেশি সময় কারাগারে ছিলেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি কারামুক্ত হন।
তিনি বলেন, টিটন ঢাকার রায়েরবাজার ও হাজারীবাগ এলাকায় আধিপত্য বিস্তার করতেন। তার বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার একাধিক মামলা রয়েছে।
ঘটনার সময় সেখানে থাকা প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে পুলিশ জানায়, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাত ৮টার দিকে নিউমার্কেট ১ নম্বর গেট ও শহিদ শাহ নেওয়াজ হল সংলগ্ন রাস্তায় মোটরসাইকেলে আসা দুই দুর্বৃত্ত টিটনকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলি ছোড়ে। এতে সে গুলিবিদ্ধ হয়ে রাস্তায় লুটিয়ে পড়ে।
পরে স্থানীয়রা দুর্বৃত্তদের ধাওয়া করলে তারা আতঙ্ক সৃষ্টির জন্য ফাঁকা গুলি ছুড়তে ছুড়তে মোটরসাইকেল নিয়ে পালিয়ে যায়। পরে টিটনকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নিয়ে আসেন স্থানীয়রা। সেখানকার দায়িত্বরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
তথ্য অনুযায়ী, টিটনের জন্ম ১৯৬৬ সালে। তার বাবার নাম কে এম ফখরুদ্দিন ও মায়ের নাম আকলিমা বেগম।২০০১ সালে সরকার ঘোষিত ২৩ শীর্ষ সন্ত্রাসীর তালিকার ২ নম্বরে টিটনের নাম ছিল।
পিএস/এনডি/এএস



