ঢাকা : রাজধানীর মুগদা এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া খণ্ডিত মরদেহের রহস্য উদঘাটন করেছে র্যাব। সেই সাথে নিহত ব্যক্তির পরিচয়ও শনাক্ত হয়েছে। নিহতের নামা নাম মুকাররম হোসেন, তিনি সৌদি প্রবাসী।
এ ঘটনায় জড়িত একজনকে গ্রেফতারও করা হয়েছে। তার দেওয়া তথ্যমতে নিহত ব্যক্তির মাথা উদ্ধার করা হয়। অভিযোগ উঠেছে, পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের জেরে প্রেমিকা ও তার এক বান্ধবী মিলে মুকাররমকে হত্যা করেছে।
র্যাব জানায়, সৌদি প্রবাসী মুকাররম পরকিয়া প্রেমে আসক্ত ছিলেন। প্রেমিকা কৌশলে তাকে ঢাকায় এনে বান্ধবীর বাসায় উঠে। এরপর ঘুমের ওষুধ খাওয়ালে মুকাররম জ্ঞান হারিয়ে ফেলে। পরে বান্ধবী হত্যার উদ্দেশে আঘাত করে। এরপর তারা ঠান্ডা মাথায় শরীরের বিভিন্ন অংশ কেটে টুকরা টুকরা করে ফেলে।

র্যাব আরও জানায়, পাঁচ লাখ টাকা আত্মসাৎ করে পরকিয়া প্রেমিকা ও বান্ধবী মিলে মোকাররমকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে নৃশংসভাবে হত্যা করে তার মরদেহ আট টুকরা করে ময়লার মধ্যে ফেলে দেয়।
এর আগে রোববার (১৭ মে) বিকেলে মান্ডা আবদুল গনি রোডের শাহনাজ ভিলার সামনের একটি বেজমেন্টের নিচ থেকে পলিথিনে মোড়ানো অবস্থায় মরদেহের সাতটি খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করা হয়। টুকরাগুলো অর্ধগলিত, তবে মরদেহের মাথা পাওয়া যায়নি।
র্যাব-৩ এর কর্মকর্তা অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মেহেদী ইমরান সিদ্দিকী জানান, ঘটনা প্রকাশ পাওয়ার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই রহস্য উদঘাটন ও এক আসামিকে গ্রেফতার করা হয়েছে। আরও একজনকে গ্রেফতারে অভিযান চলমান। এ কারণে গ্রেফতারকারীর নাম প্রকাশ করা হচ্ছে না।
মুগদা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মো. আবু রায়হান জানান, স্থানীয় লোকজন দুর্গন্ধ থেকে বিষয়টি টের পান। পরে তারা পুলিশে খবর দেন। ধারণা করা হচ্ছে, অজ্ঞাত দুষ্কৃতকারীরা ওই ব্যক্তিকে হত্যা করে হাত-পাসহ শরীর সাত টুকরা করে সেখানে ফেলে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহের খণ্ডিত অংশ ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
প্রসঙ্গত, রবিবার বিকালে মুগদার মান্ডা প্রথম গলি থেকে খণ্ডিত পুরুষের আলাদা করে পলিথিনে মোড়ানো সাত টুকরা মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
রাশেদ প্লাবন/এনডি/এএস



