চুয়াডাঙ্গা: চুয়াডাঙ্গার জীবননগরে শ্বশুরবাড়িতে এসে স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টার অভিযোগে রাতুল নামে এক যুবককে আটক করেছে পুলিশ। আহত স্ত্রী রোজিনা খাতুন (১৮) বর্তমানে জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
রবিবার(২৮ জুন) ভোরে উপজেলার রায়পুর ইউনিয়নের বালিহুদার যষ্ঠীতলা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
আহত রোজিনা খাতুন একই গ্রামের নজরুল ইসলামের মেয়ে। প্রায় এক বছর আগে গড়াইটুপি গ্রামের বাসিন্দা রাতুলের সঙ্গে তার বিয়ে হয়।

পরিবারের অভিযোগ, বিয়ের পর থেকেই বিভিন্ন অজুহাতে রোজিনার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে আসছিলেন রাতুল। নির্যাতনের কারণে প্রায় দুই মাস আগে রোজিনা বাবার বাড়িতে চলে আসেন এবং সেখানেই অবস্থান করছিলেন।
স্বজনরা জানান, শনিবার সন্ধ্যায় রাতুল শ্বশুরবাড়িতে আসেন। পরিবারের সদস্যরা তাকে আপ্যায়ন করে রাতে বাড়িতেই থাকার ব্যবস্থা করেন। গভীর রাতে পরিবারের সবাই ঘুমিয়ে পড়লে রাতুল ধারালো অস্ত্র দিয়ে ঘুমন্ত রোজিনার ওপর অতর্কিত হামলা চালান। এতে তার শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুরুতর জখম হয়।
রোজিনার চিৎকার শুনে তার বাবা-মা ও আশপাশের লোকজন ছুটে এসে রাতুলকে আটক করেন। পরে খবর পেয়ে জীবননগর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাকে হেফাজতে নেয়। আহত রোজিনাকে দ্রুত জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।
রোজিনার মা রেশমা খাতুন বলেন, “বিয়ের পর থেকেই আমার মেয়ের ওপর নির্যাতন চলছিল। শনিবার রাতে ঘুমন্ত অবস্থায় তাকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে গুরুতর জখম করা হয়েছে।”
জীবননগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. হাসিব জানান, আহত রোজিনার শরীরের বিভিন্ন স্থানে রক্তাক্ত আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর আঘাতের প্রকৃত মাত্রা সম্পর্কে নিশ্চিতভাবে বলা যাবে।
এ বিষয়ে জীবননগর থানার ওসি সোলয়মান শেখ বলেন, অভিযুক্ত রাতুল পুলিশ হেফাজতে রয়েছে। প্রাথমিক তদন্তের অংশ হিসেবে পুলিশের একটি দল হাসপাতালে গিয়ে আহত রোজিনার সঙ্গে কথা বলেছে। এখনো পর্যন্ত ভুক্তভোগীর পরিবারের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ওএনবি/এআরডি/এনডি/এএস



