শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১লা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

জীবননগরে ভেঙে যাওয়া ৪ ব্রিজ সংস্কার হয়নি এক বছরেও

জীবননগরে ভেঙে যাওয়া ৪ ব্রিজ সংস্কার হয়নি এক বছরেও

চুয়াডাঙ্গা: গেলো বছর অতিভারী বর্ষণে ধসে পড়েছিল চুয়াডাঙ্গা জেলার জীবননগর উপজেলার চার-চারটি গুরুত্বপূর্ণ ব্রিজ। দেখতে দেখতে একটি বছর পেরিয়ে গেলেও উপজেলার মনোহরপুর, সন্তোষপুর, রাঙ্গিয়ার পোতা ও সিংনগর এলাকার সেতুগুলো পুনর্নির্মাণের কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেয়া হয়নি।

এই চার ব্রিজের সংযোগস্থলগুলোতে কয়েক গ্রামের হাজার হাজার মানুষের নিত্যদিনের যাতায়াতে দুর্ভোগ এখন স্থায়ী রূপ নিয়েছে। স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের দাবি, ধসে পড়া ব্রিজের স্থানে নতুন সেতু নির্মাণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার চিঠি দেয়া হয়েছে। কিন্তু বাজেট অনুমোদন ও প্রশাসনিক জটিলতার কারণে কাজ থমকে আছে।

স্থানীয়রা জানান, গত বছর বৃষ্টির তীব্র শ্রোতে উপজেলার মনোহরপুর, সন্তোষপুর, রাঙ্গিয়ার পোতা এবং সিংনগর সংলগ্ন যোগাযোগের মূল সেতুগুলো একে একে ধসে পড়ে। দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাস দিলেও গত এক বছরে কাজের কাজ কিছুই হয়নি। স্থানীয়রা ঝুঁকিনিয়েই যাতায়াত করছেন, আর ভারী যানবাহন চলাচল একেবারেই বন্ধ রয়েছে।

সেতুগুলো বিচ্ছিন্ন থাকায় সবচেয়ে বেশি বিপাকে পড়েছেন কৃষক, স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী ও জরুরি রোগীরা। কৃষিপ্রধান এই অঞ্চলের উৎপাদিত ধান, সবজি ও অন্যান্য ফসল বাজারে নিতে গুণতে হচ্ছে দ্বিগুণ পরিবহন খরচ। অসুস্থ রোগীদের সময়মতো হাসপাতালে পৌঁছানো যেখানে জীবন-মরনের প্রশ্ন, সেখানে ঘুরতি পথে পথ পাড়ি দিতে গিয়ে চরম বিপদে পড়ছেন স্থানীয়রা। শিক্ষার্থীরা প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো পেরিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যাচ্ছে।

মনোহরপুর এলাকার এক বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ব্রজগুলো যখন ভাঙল, তখন অনেকেই এসে দেখে গেল আর মেপে গেল। বলা হলো খুব দ্রুত কাজ শুরু হবে। অথচ আজ পুরো একটা বছর শেষ, আমাদের ভোগান্তি যেখানকার সেখানেই রয়ে গেছে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন ভুক্তভোগী এলাকাবাসী। তাদের দাবি-অনতিবিলম্বে ধসে পড়া ৪টি ব্রিজ পুনর্নির্মাণ করে বিচ্ছিন্ন হয়ে যাওয়া যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনর্বহাল করা হোক এবং হাজার হাজার মানুষের এই দীর্ঘস্থায়ী দুর্ভোগের অবসান ঘটানো হোক।

এ বিষয়ে জীবননগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুমাইয়া সুলতানা এ্যানী বলেন, বিষয়টি আমরা কার্যতালিকার অন্তর্ভুক্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার কাছে পাঠিয়েছি। অনুমোদন পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।

ওএফ/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন