শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১লা রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

জীবননগরের দালাল নাজমুলের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব কয়েকটি পরিবার

জীবননগরের দালাল নাজমুলের খপ্পরে পড়ে নিঃস্ব কয়েকটি পরিবার

জীবননগর: মুখে মিষ্টি কথা, ভালো বেতনের চাকরি আর আয়েশী জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে জীবননগরের বেশ কয়েকজন যুবককে সৌদি আরবে নেন নাজমুল হোসেন নামে এক প্রবাসী। সহজ সরল এসব যুবকেরা একটি নিশ্চিত ভবিষ্যতের আশায় তিলতিল করে গোছানো লাখ লাখ টাকা বিশ্বাসে তুলে দেন নাজমুলের হাতে। নাজমুল ওই সব যুবকদের নিয়েও যান সৌদি আরবে।

তবে তার পর পাল্টে যায় গল্পের দৃশ্যপট। দালাল নাজমুলের ভয়াবহ প্রতারণার ফাঁদে পা দিয়ে সৌদি আরবে মানবেতর জীবন কাটাচ্ছেন জীবননগরের ৪ যুবক। পেয়ারাতলা কাজীপাড়ার সৌদি প্রবাসী মো. নাজমুল হোসেনের খপ্পরে পড়ে সর্বস্বান্ত হয়েছেন তারা। দুই বছর আগে সৌদিতে যাওয়া এই দালাল জীবননগর থেকে বিভিন্ন ব্যক্তিকে ভুয়া আশ্বাসে দেশটিতে নিয়ে গেলেও কাউকেই দিতে পারেনি কোনো স্থায়ী কাজ।

ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, নাজমুল হোসেনের সাথে চুক্তি ছিল সৌদি যাওয়ার এক মাসের মধ্যে কাজ পাইয়ে দেওয়ার। এমনকি দেশ ছাড়ার আগে নাজমুলের পরিবারের সাথে কথা বললে তারাও যেকোনো সমস্যায় পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছিলেন। অথচ প্রবাসে পৌঁছানোর পর থেকে নাজমুল তো বটেই, তার দেশের বাড়ি থাকা পরিবারও এখন আর কোনো খোঁজখবর নিচ্ছে না, এড়িয়ে চলছে সব ধরনের যোগাযোগ। দালাল নাজমুল চারজনকে ১০ থেকে ১৫ হাজার রিয়ালে ভিন্ন ভিন্ন কফিলের (মালিক) কাছে বিক্রি করে দিয়েছে!

শুধু জীবননগরের পেয়ারাতলা এলাকার মো. অমি ও এক বছর ধরে কাজ না পেয়ে ঘুরে বেড়ানো হৃদয়সহ আরও বেশ কয়েকজন যুবক একই ধরনের প্রতারণা শিকার হয়েছেন। এর মধ্যে দুজন ইতিমধ্যে আইনি মামলায় পড়ে চরম বিপাকে আছেন। চুক্তি অনুযায়ী লাইসেন্স করে দেওয়ার কথা থাকলেও তা না দেওয়ায় যুবকরা বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে টাকা এনে নিজের খরচে লাইসেন্স করেছেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হয়নি।

এ বিষয়ে ভুক্তভোগী প্রবাসী মো. অমি জানান, “নাজমুল আমাদের বলেছিল এক মাসের মধ্যে ভালো কাজ দেবে। কিন্তু ছয় মাস ধরে আমাদের শুধু ঘুরিয়েছে। পরে সে আমাদের চারজনকে ১০ থেকে ১৫ হাজার রিয়ালে কফিলের কাছে বিক্রি করে দেয়। কফিলের সাথে টাকার ঝামেলা হওয়ায় সেই কফিল আমাদের দুই মাস ধরে কোনো খাবার খরচ দিচ্ছে না। বাধ্য হয়ে বাড়ি থেকে টাকা এনে খাচ্ছি। কাজ করলেও আমাদের কোনো বেতন দেওয়া হয়নি।”

পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে, কফিলের কাছে মানবপাচারের শিকার হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে এসব প্রবাসী ও অমির। কাজের বকেয়া বেতন তো দূরের কথা, গত দুই মাস ধরে কফিল কোনো খাবার খরচও দিচ্ছে না। উল্টো দালালের ফাঁদে আটকে থাকায় ওই কফিলের কবল থেকে বের হতেও পারছেন না তারা। ফলে পেটের দায়ে পরিবার থেকে টাকা আনিয়ে চলতে হচ্ছে তাঁদের।

দালাল নাজমুলের মিথ্যা আশ্বাসে জীবননগর থেকে সৌদি গিয়ে আজ সর্বস্বান্ত যুবকেরা। কাজ নেই, বেতন নেই, উল্টো পরবাসে বন্দিদশা। এই বিষয়ে জড়িত দালাল ও তার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে দ্রুত কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর।

এদিকে অভিযুক্ত প্রবাসী মো. নাজমুল হোসেনের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তার বিরুদ্ধে ওঠা সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করেন।

আর

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন