পাঁচ বছর আগে ভাগ্যের চাকা ঘোরাতে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার কুতুবপুর ইউনিয়নের বোয়ালিয়া গ্রামের ওসমান গনি (৩৫)। পরিবারের অভাব-অনটন দূর করে সচ্ছল জীবনের স্বপ্নে বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে সৌদি আরবে যান তিনি।
কিন্তু ওসমানের সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না। প্রবাসের মাটিতে রহস্যজনক মৃত্যু হয়েছে তার। গত শনিবার বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টার দিকে সৌদি আরবে অবস্থানরত ওসমান গনি মারা যান। তার মৃত্যুর খবর বাড়িতে পৌঁছানোর পর থেকেই পরিবারজুড়ে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। ওসমানের পরিবারের দাবি, সে আত্মহত্যা করার মতো মানুষ ছিলেন না। বরং তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে তারা সন্দেহ করছেন।
মৃতের মা জানান, সংসারের অভাব-অনটন দূর করার আশায় বিভিন্ন জায়গা থেকে ঋণ নিয়ে প্রায় পাঁচ বছর আগে সৌদি আরবে যান তার ছেলে। সেখানে প্রায় সাত মাস বেকার থাকার পর কয়েকদিন আগে একটি কাজ পান। তিনি ফোরম্যান হিসেবে কাজ করছিলেন। কিন্তু কাজ পাওয়ার অল্প সময়ের মধ্যেই আসে তার মৃত্যুর খবর।

তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমার ছেলে খুবই ভালো ছেলে ছিল। শান্ত স্বভাবের মানুষ ছিল। আমার ছেলে আত্মহত্যা করার মতো না। আমার ছেলেকে ওখানকার লোকজন হত্যা করেছে বলে আমরা মনে করি। পরে তারা বলছে, সে আত্মহত্যা করেছে। কেন আমার ছেলের সঙ্গে এমন করা হলো, তা আমরা বুঝতে পারছি না।’
ওসমান গনির মামা ইব্রাহিম জানান, প্রবাসে গিয়ে পরিবারের ভাগ্য বদলের স্বপ্ন দেখেছিলেন ওসমান গনি। ঋণের বোঝা কাঁধে নিয়ে বছরের পর বছর বিদেশের মাটিতে পরিশ্রম করেছেন। দেশে ফেরার কথা ছিল স্বজনদের মুখে হাসি ফোটানোর। কিন্তু সেই অপেক্ষার অবসান হলো লাশের মধ্য দিয়ে।
তিনি আরও বলেন, আমার ভাগনের লাশ বাংলাদেশে আনার জন্য বিভিন্ন প্রক্রিয়া চলছে। প্রক্রিয়া শেষ হলে লাশ দেশে আনা হবে। ওসমান গনির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ দ্রুত উদঘাটন, সংশ্লিষ্টদের জিজ্ঞাসাবাদ এবং ঘটনার নিরপেক্ষ ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানাচ্ছি।
পরিবারের এমন অভিযোগে ওসমান গনির মৃত্যুর ঘটনাকে ঘিরে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন। তার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ কী—এ নিয়ে পরিবারের মধ্যে দেখা দিয়েছে গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা। ওসমান গনি বোয়ালিয়া গ্রামের মৃত আব্দুর রশিদের ছেলে। তিনি এক ছেলে ও এক মেয়ের বাবা।
সিপি/এএস



