দামুড়হুদার কার্পাসডাঙ্গায় প্রকাশ্য দিবালোকে ফল ব্যবসায়ী মো. মধু হত্যার ৩৬ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও অভিযুক্ত মামুনকে গ্রেফতার করতে পারেনি পুলিশ। এদিকে ঘটনার একদিন পার হলেও থানায় এখনো কোনো মামলা দায়ের করেনি ভুক্তভোগীর পরিবার। তবে নিহতের পরিবার মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
অভিযুক্ত মামুন গাঢাকা দিলেও পুলিশ তাকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে পুলিশ। তবে ঘটনার পর একদিন পার হলেও তাকে আটক করতে না পারায় স্থানীয়দের মাঝে চরম অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়েছে। নিহত মো. মধু (৬০) কার্পাসডাঙ্গা ইউনিয়নের আরামডাঙ্গা গ্রামের মৃত সিরাজুল ইসলামের ছেলে। তিনি মুচির বটতলা এলাকায় ভ্রাম্যমাণভাবে ফল বিক্রি করতেন।
জানা গেছে, মধুর ছেলে শামীমের কাছে একই বাজারের মোবাইল ব্যবসায়ী সোহাগ কিছু টাকা পাওনা ছিলেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় মুচির বটতলা এলাকায় সোহাগ পাওনা টাকা চাইতে গেলে শামীম ৫০০ টাকা দেয়ার কথা বলেন। এ নিয়ে দুজনের কথা কাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে সেখানে উপস্থিত কার্পাসডাঙ্গা মাঝপাড়ার ইসাহক ওরফে ‘নেতা বাঙাল’-এর ছেলে মামুন অনাকাঙ্ক্ষিতভাবে হস্তক্ষেপ করেন। একইসাথে শামীমকে মারধর শুরু করেন। ছেলেকে রক্ষা করতে প্রবীণ বাবা মধু এগিয়ে এলে মামুন আরও হিংস্র রূপ নেন।
কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে মামুন কাছে থাকা ধারালো ছুরি দিয়ে মধুর বুকে সরাসরি আঘাত করেন। ছুরিকাঘাতে মারাত্মক আহত হয়ে ঘটনাস্থলেই মাটিতে লুটিয়ে পড়েন মধু। রক্তাক্ত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে দামুড়হুদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পৌঁছালে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
গতকাল শনিবার চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতাল মর্গে ময়নাতদন্ত শেষে দুপুরের পর মধুর মরদেহ আরামডাঙ্গা গ্রামের নিজ বাড়িতে পৌঁছায়। এ সময় এক হৃদয়বিদারক পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়; স্বজনদের আহাজারি ও স্বজনহারা পরিবারের কান্নায় পুরো এলাকায় শোকের ছায়া নেমে আসে। পরে আসরের নামাজ শেষে আরামডাঙ্গা কবরস্থানে জানাজা অনুষ্ঠিত হয় এবং দাফন সম্পন্ন করা হয়।
জানতে চাইলে দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি শেখ মেসবাহ উদ্দিন বলেন, এ ঘটনায় এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মামলা হয়নি। তবে নিহতের পরিবার মামলা দায়ের করবেন। হত্যাকাণ্ডের পর থেকেই অভিযুক্ত গাঢাকা দিয়ে আছে। তবে তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। আশা করি শিগগিরই তাকে গ্রেফতার করতে স্বক্ষম হব।
এনডি/এএস



