, || ||

জীবননগরের মানিকপুর গ্রামের দুইভাই রাজা-সেলিমের রমরমা মাদক কারবার

জীবননগরের মানিকপুর গ্রামের দুইভাই রাজা-সেলিমের রমরমা মাদক কারবার

মাদক পাচারের অন্যতম নিরাপদ রুট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে ভারত সীমান্তবর্তী চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মানিকপুর গ্রাম। এই রুটে মাদক ও চোরাচালানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন এই গ্রামের আজিমুল হকের (মক্কা) ছেলে একাধিক মাদক মামলার আসামি মো. রাজা মিয়া (২৮) ও মো. সেলিম হোসেন (৪০)

চুয়াডাঙ্গা পোস্টের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, চোরাচালান ও মাদক কারবারি একাধিক মাদক মামলার আসামি মো. রাজা মিয়া (২৮) ও সহযোগী হিসেবে কাজা করা রাজার বড়ো ভাই মো. সেলিম হোসেন (৪০) বিরাট এক সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করেন। রাজা সিন্ডিকেটের সাথে ভারতের চোরাকারবারি গলা ও মান্নানের সাথে সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।

অনুসন্ধানের একটি সূত্রের খবর, রাজার নেতৃত্বে মানিকপুর একাধিক ব্যক্তি রাজার মাদকদ্রব্য বহনের সাথে যুক্ত রয়েছে। কেউ মাদকদ্রব্য বহন করেন, আবার কেউ লাইন ক্লিয়ার করার জন্য গ্রামীণ রাস্তা-মাঠ/ দোকান পাটে বসে বিজিবি আসছে কিনা সেই তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেন।

সূত্রটি বলছে, মাদকদ্রব্য ভারত সীমান্ত (কাঁটাতার) থেকে বহন করে মানিকপুর পার করে দিলে হাজিরা মেলে দেড় থেকে ২ হাজার টাকা। আর এমন লোভনীয় সুযোগ হাতছাড়া না করে মাদক পাচারের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন স্থানীয়দের অনেকেই।

অভিযোগ রয়েছে, মরণব্যাধি মাদক চোরাচালানের নেতৃত্ব দেয়া মো. রাজা মিয়া একটি ভিডিওতে নিজেকে মাদক ব্যবসায়ী হিসেবে স্বীকারোক্তি দেন। কিন্তু এখনও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে দেদারসে চলছে তার মাদকব্যবসা। রাজার দাপটে মুখ খুলতে ভায় পান গ্রামের সাধারণ মানুষজন।

বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর ফেন্সিডিল সহ আটক হন রাজা। মানিকপুর গ্রামের বটতলা তিন রাস্তার মোড়-এর পাকা রাস্তার উপর হতে মো. রাজা মিয়ার কাছ থেকে ২০ বতল ফেন্সিডিল সহ জীবননগর থানা পুলিশ গ্রেফতার করেন। সূত্র গত (১৮ ডিসেম্বর) ২০২৩, অপরাধ তথ্যচিত্র পোর্টালে সংবাদ প্রকাশ।

মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে ভারতীয় নেশাজাতীয় সিরাপ ‘উইনসেরেক্স’ ও ‘ব্ল‍্যাক হান্ট’ মদসহ শওকত হোসেনকে আটক করে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিবি)। চলতি বছরের (১৮ই মার্চ) বিকালে উপজেলার মানিকপুর গ্রামে অভিযান চালিয়ে নিজ বাড়ি হতে তাকে আটক করা হয়।

এ ঘটনায় শওকত হোসেনকে আটক, মো. রাজা মিয়াকে এবং মো. নজরুল ইসলাম (নজু) কে পলাতক দেখিয়ে জীবননগর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু করা হয়েছে। সূত্র আপডেট- বিডিনিউজ ২৪।

একই বছরের (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আকন্দবাড়িয়া গ্রামে মাদক নির্মূল কমিটির ৩৫ পিস স্ক্যাফ সিরাপসহ একটি টিভিএস ব্র্যান্ডের অ্যাপাচি (আরটিয়ার) মোটরসাইকেল আটক হয় এবং মোটরসাইকেল থাকা দুই ব্যক্তি পালিয়ে যায়, পরবর্তীতে মাদকদ্রব্য ও মোটরসাইকেল দর্শনা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করেন।

এ ঘটনায় পালিয়ে যাওয়া ব্যক্তি মানিকপুরের মো. রাজা মিয়া (২৮) ও আকন্দবাড়িয়া গ্রামের আশরাফুলের ছেলে মো. বিকাশকে (৩০) শনাক্ত করে পুলিশ ও মাদক নির্মূল কমিটির সদস্যরা। সূত্র দৈনিক বাংলাদেশের চিত্র।

উক্ত ঘটনার মাধ্যমেই আলোচনা আসেন মাদক সম্রাট রাজা মিয়া। আকন্দবাড়িয়া মাদক নির্মূল কমিটির হাত থেকে মাদক ছাড়াতে টাকা নেওয়ার অভিযোগ তোলেন তিনি, এবং মাদক ৩৫ পিসের জাগায় ১৩২ পিস ছিল বলে দাবি করেন তিনি। যা, জাতীয়, স্থানীয় ও অনলাইনসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশ হয়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয়রা বলেন, মানিকপুর গ্রামকে কেন্দ্র করে মাদক ও চোরাচালানের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হোক। অপরাধীদের শনাক্ত এবং তাঁদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।

তার আরও আক্ষেপ নিয়ে বলেন, মানিকপুরের সাথেই রাজাপুর বিওপি ক্যাম্প, তারপরও হরহামেশাই চলছে চোরাকারবারিদের ব্যাবসা। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে কার্যকর নজরদারি, গোয়েন্দা তৎপরতা এবং স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা বাড়ানো জরুরি।

মাদককারবারের কথা স্বীকার করে মুঠোফোনে রাজা বলেন, আমি স্বীকার করছি এক সময় মাদকের ব্যবসা করেছি। আগে নিজে ৫/৬ পাতা করে মাল আনতাম আর বেচতাম। আমি ছোট ব্যবসা করতাম এখন করি না। আমাকে না ধরে বড় বড় রাঘব বোয়াল আছে এলাকায় তাদের ধরেন।

বড় বড় রাঘব বোয়াল কারা জানতে চাইলে রাজা বলেন, দুই চিহ্নিত মাদককারবারির নাম করেন (ওই নাম দুইটি আগামী পর্বে প্রকাশিত সংবাদে প্রকাশিত হবে)। বলেন আমি তাদের জন হিসেবে কাজ করতাম একসময়। এরপর নিজেই মাদক আনা শুরু করেন।

আপনি নিজেই এখন একজন বড় মাদককারবারি সঙ্গে আপনার ভাই সেলিমও যুক্ত এমন প্রশ্নে রাজা বলেন, এক সময় ব্যবসা করলেও এখন ভালো হতে চান। মাদক ব্যবসা ছেড়ে দিতে চান তিনি।

চুয়াডাঙ্গা পোস্টের অনুসন্ধানে উঠে আসা রাজার মাদক ব্যবসার ভারতীয় অংশীদারদের নাম প্রকাশ করলে রাজা জানান, ভাই স্বীকার করলাম তো যে আমি মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিলাম। তবে বড় না ছোট ব্যবসা আমার। পরে আপনার সাথে কথা বলছি বলে ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।

মাদক পাচার প্রসঙ্গে জীবননগর থানার ওসি শেখ সোলায়মান বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশ সবসময় জিরো টলারেন্স। আমরা নিয়োমিত মাদক বিরোধী অভিযান পচালনা করছি। মাদক উদ্ধারও সন্তোষজনক। বড়বড় মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা দিচ্ছি। মাদক ব্যব্বসায়ী যত শক্তিশালীই হোকনা কেন কোনো ছাড় দেয়া হবে না।

এএএম

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন