, || ||

কক্সবাজারের উত্তাল ঢেউ কেড়ে নিল আবিরের প্রাণ

কক্সবাজারের উত্তাল ঢেউ কেড়ে নিল আবিরের প্রাণ

কক্সবাজার : বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের আনন্দ ভাগাভাগি করতে কক্সবাজার ভ্রমণে এসে আর ঘরে ফেরা হলো না তরুণ আবিরের। কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের উত্তাল ঢেউ ও প্রবল স্রোত কেড়ে নিল তার প্রাণ।

উদ্বেগ, উৎকন্ঠা আর দীর্ঘ অপেক্ষার মধ্যেই নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর সোমবার (১ জুন) সকালে শহরের নাজিরার টেক সৈকতের বালিয়াড়িতে ভেসে ওঠে তার নিথর মরদেহ।

সোমবার (১ জুন) সকালে সমিতিপাড়ার নাজিরার টেক সৈকত পয়েন্টের বালিয়াড়িতে একটি মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা।

খবর পেয়ে সি-সেইফ লাইফগার্ড কর্মী ও পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মরদেহটি উদ্ধার করে কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। পরে মরদেহটি নিখোঁজ আবিরের বলে শনাক্ত করা হয়।

আবিরের বন্ধু ইমন জানান, ঢাকা থেকে ঘুরতে আসা নয়জন বন্ধু রবিবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে সুগন্ধা সৈকত পয়েন্টে সমুদ্রে গোসল করতে নামেন। আনন্দমুখর সেই মুহূর্তেই ঘটে বিপর্যয়। অসতর্কতাবশত প্রবল স্রোতের টানে টিউব থেকে ছিটকে পড়েন দুই বন্ধু।

একজনকে দ্রুত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও আবিরকে আর খুঁজে পাওয়া যায়নি। মুহূর্তের মধ্যেই সে হারিয়ে যায় উত্তাল ঢেউয়ের মাঝে। এরপর শুরু হয় স্বজন ও বন্ধুদের উৎকণ্ঠার প্রহর। লাইফ গার্ডের উদ্ধারকর্মীরা দিনভর তল্লাশি চালালেও তার কোনো সন্ধান মেলেনি।

অবশেষে সোমবার সকালে নাজিরার টেক সৈকতের বালুচরে ভেসে ওঠে আবিরের নিথর দেহ, যা শোকের ছায়া নামিয়ে আনে পরিবার, বন্ধু ও স্বজনদের মাঝে।

জানা গেছে, নিহত আবির পুরান ঢাকার লালবাগের শহীদ নগর এলাকার বাসিন্দা এবং ইলিয়াস মুন্সির ছেলে। বন্ধুদের সঙ্গে ঈদের ছুটিতে আনন্দ কাটাতে এসে এমন মর্মান্তিক পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না তার স্বজনরা।

কক্সবাজারের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক শাহিদুল আলম বলেন, আবির ও তার বন্ধুরা লাইফগার্ডদের নজরদারির বাইরের এলাকায় সমুদ্রে নামার কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। সমুদ্রস্নানের সময় নিরাপত্তা নির্দেশনা মেনে চলার আহ্বান জানান তিনি।

পুলিশ জানায়, মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য কক্সবাজার সদর হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

একটি আনন্দভ্রমণ মুহূর্তেই পরিণত হলো শোকে। বন্ধুদের সঙ্গে হাসি-আনন্দে কাটানোর স্বপ্ন নিয়ে সমুদ্রের কাছে এসেছিল আবির, কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই সমুদ্রই হয়ে উঠল তার শেষ ঠিকানা।

শাহজাহান চৌধুরী শাহীন/এনডি/এএস
‎

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন