শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১৫ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

দর্শনার বিল্লাল হত্যা: সিআইডির প্রতিবেদনে বাদীর নারাজি, পুনঃতদন্তে পিবিআই

দর্শনার বিল্লাল হত্যা: সিআইডির প্রতিবেদনে বাদীর নারাজি, পুনঃতদন্তে পিবিআই

২০১৩ সালের ১১ আগস্ট চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার দর্শনায় বহুল আলোচিত পুলিশের কথিত বন্দুকযুদ্ধে বালু ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেন নিহত হওয়ার ঘটনায় প্রায় এক যুগ পর নতুন করে তদন্ত শুরু করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। আদালতে নিহতের বোন শালপোনা পারভীন বিল্লালকে পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে এই মর্মে সিআইডির তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি আবেদন দিলে আদালত তা গ্রহণ করে। এরপর আদালতের নির্দেশে মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান শুরু পিবিআই।

২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর চুয়াডাঙ্গার আদালতে চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের প্রভাবশালী সাবেক সংসদ সদস্য আলী আজগর টগর, চুয়াডাঙ্গার তৎকালীন পুলিশ সুপার আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরীসহ পুলিশ ও আওয়ামীলীগের ৯ নেতাকে আসামি করে মামলা করেন বিল্লালের বোন শালপনা খাতুন।

দণ্ডবিধির ১৪৩, ৩৪১, ৩৬৪, ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারা করা অভিযোগে বাদী জানান, বিল্লালকে পরিকল্পিতভাবে অপহরণ করে হত্যার পর ঘটনাটিকে পুলিশের ‘ক্রসফায়ার’ হিসেবে দেখানো হয়েছিল। সে সময় এ ঘটনায় মামলার পর আদালত মামলা তদন্তে ভার দেন চুয়াডাঙ্গা সিআইডিকে। দেড় বছর তদন্ত সিআইডি অভিযোগের সত্যতা পায়নি মর্মে প্রতিবেদন দিয়েছে।

মামলার বাদী শালপোনা পারভীন দাবি করেন, এই মামলার আসামিরা প্রভাবশালী ও অর্থবিত্তবান যার কারনে এই মামলা তদন্তে প্রভাব খাটিয়ে মামলার ফাইনাল রিপোর্ট করিয়েছে। যার কারনে নারাজি আবেদন করেলে বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালত, মামলাটি পুনরায় তদন্তের দায়িত্বভার দিয়েছে পিবিআই নিকট। পিবিআই মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধান শুরু করছে।

বিল্লাল হত্যার নথিপত্র পর্যালোচনায় এই মৃত্যুর ঘটনা ঘিরে একাধিক প্রশ্ন সামনে এসেছে। ২০১৩ সালের ঘটনায় পুলিশের করা তিন মামলায় পুলিশের বয়ান ছিলো- বিল্লালসহ একটি সশস্ত্র দল পুলিশের ওপর গুলি ও বিস্ফোরণ চালালে আত্মরক্ষার্থে পুলিশ পাল্টা গুলি চালায় এবং সেই ঘটনায় বিল্লাল নিহত হন। একই ঘটনার নির্বাহী তদন্তেও পুলিশের গুলিবর্ষণকে সে সময়ের পরিস্থিতিতে যথার্থ ও সঠিক, বলা হয়েছিল।

মামলা এজাহার সূত্রে জানা গেছে, বিল্লাল হোসেনের বোন শালপোনা পারভীন ২০২৪ সালের ১১ নভেম্বর আদালতে সিআর-৬৩৬/২০২৪ নম্বরে মামলাটি করেন। মামলায় দণ্ডবিধির- ১৪৩, ৩৪১, ৩৬৪, ৩০২, ২০১ ও ৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়। আদালত মামলাটি তদন্তের জন্য সিআইডিকে নির্দেশ দেন। বিল্লালের ক্রসফায়ারে ঘটনার সময় ও মামলা দায়েরের বিষয়টি একাধিক জাতীয় সংবাদমাধ্যমেও প্রকাশিত হয়েছিল।

মামলায় বলা হয়- বিল্লাল কে পরিকল্পিত হত্যার সাথে জড়িত ছিলেন সাবেক চুয়াডাঙ্গা-২ আসনের সাবেক সংসদ এমপি আলী আজগর টগর, দর্শনা পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর আওয়ামী লীগ নেতা জয়নাল আবেদীন নফর, সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আলী মুনসুর বাবু, আলীহীম,তৎকালীন দর্শনা তদন্ত কেন্দ্রের এসআই মিজানুর রহমান, চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার আব্দুর রহিম শাহ চৌধুরীর,দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি আহসান হাবিব, কনস্টেবল সাজেদুল, দেবাশীষে সহ অজ্ঞাতনামা আরও ৫-৬ জন।

বাদীর অভিযোগ, বিল্লাল দীর্ঘদিন বালুর ব্যবসা করতেন। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের পক্ষ থেকে তার কাছে চাঁদা দাবি করা হতো। এ বিষয়ে তিনি তৎকালীন পুলিশ কর্মকর্তাদের কাছে অভিযোগ করলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং বিষয়টি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক ব্যক্তিদের জানানো হয় বলে এজাহারে বলা হয়েছে। এরপর তাকে অপহরণ করে হত্যার পরিকল্পনা করা হয় বলে অভিযোগ বাদীর।

এজাহারে আরও বলা হয়, ২০১৩ সালের ১১ আগস্ট দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটের দিকে পুলিশের কয়েকজন সদস্য ও অন্য ব্যক্তিরা দক্ষিণ চাদপুরে সাক্ষীর বাড়িতে গিয়ে বিল্লালকে তুলে নিয়ে যান। পরে দক্ষিণ চাঁদপুর-উজলপুর সড়কের হররচারা মাঠের পাশে রাত প্রায় ৩টা ৫৫ মিনিটে গুলির শব্দ শোনা যায়। সেখানে বালি ব্যবসায়ি বিল্লালের গুলিবিদ্ধ মরদেহ পাওয়া যায়।

বাদীর দাবি অনুযায়ী , তার হাতে তখন হাতকড়া ছিল এবং শরীরের বিভিন্ন স্থানে গুলির পাশাপাশি ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল। এজাহারে আরও দাবি করা হয়, ঘটনাটিকে ভিন্ন খাতে নিতে ক্রসফায়ার-এর বয়ান তৈরি করা হয়েছিল।

এদিকে ২০১৩ সালের সরকারি নথির চিত্র ভিন্ন। সিআইডির অনুসন্ধান প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিল্লালের মৃত্যুর ঘটনায় চুয়াডাঙ্গা থানায় ১২ আগস্ট ২০১৩ তারিখে তিনটি পৃথক মামলা হয়েছিল। এর একটি অস্ত্র আইনে, একটি দণ্ডবিধির ৩৯৯/৪০২/৩৩২/৩৫৩/৩০৭/৩৪ ধারায় এবং অন্যটি বিস্ফোরক আইনে। এসব মামলার তদন্তে এজাহারে বর্ণিত ঘটনার সত্যতা পাওয়া যায় বলে সংশ্লিষ্ট তদন্তকারীরা মত দেন। তবে বিল্লাল মারা যাওয়ায় এবং অজ্ঞাতনামা আসামিদের শনাক্ত করা সম্ভব না হওয়ায় মামলাগুলোতে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়া হয়।

সিআইডির প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, বিল্লালের মৃত্যুর ঘটনায় তৎকালীন সময়ে নির্বাহী তদন্তও হয়েছিল। সেই তদন্তে এলাকায় বড় ধরনের অপরাধ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এবং জানমালের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কার কথা উল্লেখ করে পুলিশ সদস্যদের গুলিবর্ষণকে যথার্থ ও সঠিক বলা হয়।

সিআইডির অনুসন্ধানে বিল্লালের বিরুদ্ধে আগের একাধিক মামলা ও গ্রেফতারী পরোয়ানার তথ্যও তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে তার বিরুদ্ধে দামুড়হুদা ও চুয়াডাঙ্গা থানায় হত্যা, ডাকাতি, অস্ত্র, বিস্ফোরক, হামলা ও অন্যান্য ধারায় একাধিক মামলার উল্লেখ রয়েছে। স্থানীয়ভাবে তাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলেও সিআইডি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

কিন্তু এখানেই অনুসন্ধানটির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন সামনে আসে, যেমন সিআইডি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনাস্থলে পাওয়া গুলি ও গুলির খোসা পুলিশের সরকারি বরাদ্দকৃত গুলি ছিল না, এমন তথ্য আগের মামলা ও জব্দ তালিকা পর্যালোচনা করে পাওয়া গেছে। সেখান থেকে সিআইডি মত দেয়, বিল্লাল তার নিজের বাহিনীর সদস্যদের এলোপাতাড়ি গুলিতে নিহত হয়ে থাকতে পারেন।

কিন্তু প্রতিবেদনে ঘটনাস্থলের গুলি বা খোসার কোনো ব্যালিস্টিক/ফরেনসিক/অস্ত্রবিশেষজ্ঞ পরীক্ষার ফল উল্লেখ করা হয়নি। কোন অস্ত্র থেকে কোন গুলি ছোড়া হয়েছিল। ব্যবহৃত অস্ত্রের সঙ্গে গুলির মিল পাওয়া গেছে কি না। পুলিশের অস্ত্র থেকে গুলি ছোড়া হয়েছিল কি না। এসব বিষয়ে বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার কোনো ফল প্রতিবেদনে দৃশ্যমান নয়।

আরও একটি অসঙ্গতি রয়েছে সাক্ষ্যগ্রহণের ক্ষেত্রে। সিআইডি প্রতিবেদনের এক জায়গায় বলা হয়েছে, বাদীর মানিত সাতজন সাক্ষীর মধ্যে চারজনের এবং অনুসন্ধানকালে আরও চারজনসহ মোট আটজনের জবানবন্দি নেওয়া হয়েছে। একই অনুচ্ছেদে আবার ০৪ (পাচ) জন লেখা হয়েছে। এটি প্রতিবেদনের একটি স্পষ্ট সংখ্যাগত/লিপিগত অসঙ্গতি। অন্যদিকে বাদীর তালিকাভুক্ত তিনজন সাক্ষী সাক্ষ্য দিতে অস্বীকৃতি জানান এবং বাদী তাদের হাজির করতে পারেননি বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে।

মামলার সাক্ষীদের পরিচয় নিয়েও কিছু পরিবর্তন সামনে এসেছে। এজাহারে আট নম্বর আসামিকে ‘এএসআই দেবাশীষ’ হিসেবে উল্লেখ করা হলেও সিআইডির অনুসন্ধানে তৎকালীন দর্শনা তদন্ত কেন্দ্রে ‘এসআই দেবাশীষ’ নামে কোনো কর্মকর্তা কর্মরত ছিলেন না বলে জানানো হয়। তবে কনস্টেবল/৩৬৭ দেবাশীষ সেখানে কর্মরত ছিলেন বলে পুলিশি তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি উল্লেখ করেছে। এই পরিচয়গত পার্থক্যও পুনঃতদন্তে যাচাইয়ের দাবি রাখে।

ঘটনার সময় নিয়েও নথিতে একটি অসঙ্গতি রয়েছে। এজাহারের মূল বর্ণনায় ১১ আগস্ট ২০১৩ দিবাগত রাত ২টা ৩০ মিনিটে বিল্লালকে তুলে নেওয়ার কথা বলা হলেও পরবর্তী অংশে ১২ আগস্টের রাত ২টা ৩০ থেকে ৩টার সময়ের কথা এসেছে। যদিও সর্বশেষ ঘটনাস্থলে সময় ভোর ৩টা ৫৫ মিনিট বলা হয়েছে। ফলে ঘটনার তারিখ ও সময়ের সুনির্দিষ্ট ধারাবাহিকতা নির্ধারণও তদন্তের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ নথি হলো বিল্লালের বাবা আতিয়ার রহমানের করা আগের মামলা। সিআইডি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০ আগস্ট ২০১৩ তারিখে তৎকালীন দর্শনা তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমানকে আসামি করে অজ্ঞাতনামা ৭-৮ জনের বিরুদ্ধে পি-১৯৫/১৩ নম্বরে একটি মামলা করা হয়েছিল। সেখানে ৪৪৮/৩৬৪/৩০২/২০১ ধারায় একই ঘটনার অভিযোগ আনা হয়েছিল। পরে সেই মামলা প্রত্যাহার করা হয় বলে সিআইডি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট আদালতের রেকর্ডরুমের প্রত্যয়ন অনুযায়ী, মামলার নথি ২০২১ সালের ৫ অক্টোবর বিধি অনুযায়ী বিনষ্ট করা হয়।

ফলে প্রায় একই ঘটনার বিষয়ে ২০১৩ সালে নিহতের বাবা মামলা করেছিলেন, ২০১৩ সালের ঘটনাতেই পুলিশ তিনটি মামলা করেছিল এবং ২০২৪ সালে নিহতের বোন নতুন করে হত্যা মামলা করেন,এই ধারাবাহিকতাও মামলাটিকে ব্যতিক্রমী করে তুলেছে।

তবে সিআইডির প্রতিবেদনের সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণ অংশ হলো এর চূড়ান্ত মতামত। ২০২৬ সালের ১৫ মার্চ ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ সিআইডির অনুসন্ধান-সংক্রান্ত মতামতের সঙ্গে একমত পোষণ করার পর প্রতিবেদনটি আদালতে দাখিল করা হয়। এতে মামলায় নাম থাকা নয়জনের বিরুদ্ধে অভিযোগের ঘটনাকে ‘তথ্যগত ভুল’ বলে প্রতীয়মান হয়েছে এবং তাদের মামলা থেকে অব্যাহতির সুপারিশ করা হয়েছে।

এ প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে ১৯ মে ২০২৬ তারিখে বাদী শালপোনা পারভীন নারাজি আবেদন করেন। নারাজি আবেদনে বাদী অভিযোগ করেন, সিআইডি তদন্তকারী কর্মকর্তা মামলায় উল্লেখ করা সাক্ষীদের যথাযথভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করেননি এবং তাদের প্রকৃত বক্তব্যের পরিবর্তে মনগড়া জবানবন্দি তৈরি করেছেন। আসামিরা প্রভাবশালী হওয়ায় তদন্তকারী কর্মকর্তা তাদের দ্বারা প্রভাবিত হয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া যায়নি মর্মে প্রতিবেদন দিয়েছেন বলেও বাদী দাবি করেন।

বাদী শালপনার দাবি করেন, আমার ভাই বিল্লাল কে পরিকল্পিতভাবে হত্যার পর আমার বাবা হয়ে চুয়াডাঙ্গা আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। মামলার পরের দিন রাতে এসআই মিজান সঙ্গীয় ফোর্স নিয়ে আমার ছোট ভাই সাইফুল কে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে দর্শনা তদন্ত কেন্দ্রের মধ্যে আটকে রাখে। আমার বাবা মামলা তুলে না নিলে তার আর এক ভাই সাইফুলকে ক্রসফায়ার দেবে বলে হুমকি দেন। তখন বাধ্য হয়ে আমার বাবা মামলা প্রত্যহারের জন্য আবেদন করে। এসব বিষয়গুলো দর্শনার প্রায়ই মানুষেরই জানে। যেহেতু তারা সকলেই ক্ষমতাশীন দলের, সবকিছুই তাদের হাতে তাদের মত করে তারা সব আলামত সব কিছু নষ্ট করেছে।

বাদী আরও অভিযোগ করেছেন, আসামিপক্ষ থেকে বেশ কয়েকজনের পরিবার তার সঙ্গে একাধিকবার আপস-মীমাংসার চেষ্টা করা হয়েছে। তার বক্তব্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে মোবাইলে তার সাথে কথোপকথন হয়েছে বেশ কয়েকজনের সাথে তারা মীমাংসার জন্য প্রস্তাব দিয়েছেন আমাকে। কিন্তু আমি সেটা প্রত্যাখ্যান করে জানিয়ে দিয়েছি যা হবে আদালতে হবে। পিবিআই নিরপেক্ষ ভাবে তদন্ত করবে বলে আশা করছি এবং আদালতের ন্যায্য বিচার করবে

চুয়াডাঙ্গা সিআইডির তদন্তকারী কর্মকর্তা পরিদর্শক রফিকুল ইসলাম বলেন, বন্দুকযুদ্ধ ক্রসফায়ারে নিহত বিল্লালের বোন শালপনা বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। মামলা তদন্তে নিহত বিল্লালের হাতে হ্যান্ডকাফ পরা ছিল। শরীরের গুলি এবং বিভিন্ন আঘাতের চিহ্ন সুরতহাল রিপোর্টে প্রতিবেদনে পেয়েছি।

তিনি বলেন, ঘটনার পর বিল্লালের ক্রসফারে না পরিকল্পিত হত্যা করা হয়েছে মর্মে বিল্লালের বাবা বাদী হয়ে আদালতে একটি মামলা দায়ের করে। ক্রসফায়ারের ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে মামলা দায়ের করে। পরবর্তীতে বিল্লালের বাবা তার মামলা প্রত্যাহার করে নেন। এ ঘটনায় জুডিশিয়ালি একটি তদন্ত হয়। সেখানে পুলিশ ও অন্যান্য আসামীর সম্পৃক্ততা পায়নি। তদন্তের ১৩-১৪ বছরের পুরোনো ঘটনা হওয়ায় অন্য মামলার কোন নথি পাওয়া যাচ্ছে না। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট ফরেনসিক আলামত ছিল না। মামলা তদন্তে আসামিদের ঘটনার সাথে সম্পৃক্তা না পাওয়ায় আমরা ফাইনাল রিপোর্ট আদালতে পাঠিয়েছি।

জানতে চাইলে পিবিআই (পুলিশ ব্যুর ইনভেস্টিগেশন) এর পুলিশ সুপার গাজী রবিউল ইসলাম জানান, আনুমানিক এক দেড় মাস আগে চুয়াডাঙ্গা কোর্টের শালপনা বাদীর এই পুরোনো মামলাটি পিবিআই এর হাতে এসেছে। বর্তমানে এর তদন্ত কার্যক্রম চলমান রয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (আইও) এটি তদন্ত করছেন। পিবিআই মাঠপর্যায়ে কাজ করছে।

এর ফলে প্রায় ১৩ বছর আগে দর্শনায় বালু ব্যবসায়ী বিল্লাল হোসেনের মৃত্যু ঘিরে যে ‘ক্রসফায়ার’ বয়ান সামনে এসেছিল, সেটি এবং নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে করা পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগ—দুই ধরনের বক্তব্যই এখন নতুন করে তদন্তের আওতায় এসেছে। নতুন পিবিআইয়ের তদন্ত শেষ হওয়ার পরই এই ঘটনায় নতুন কোনো তথ্য বা আইনি সিদ্ধান্ত সামনে আসে কি না, সেটিই এখন দেখার বিষয়।

সিপি/এমএস/জেএন

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন