চুয়াডাঙ্গার দামুড়হুদা উপজেলার জুড়ানপুর গ্রামে মণ্টু সর্দ্দার নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে গরুর সঙ্গে বিকৃত যৌনাচারের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনার পর থেকে অভিযুক্ত মণ্টু সর্দ্দার গ্রাম ছাড়া।
এদিকে অভিযোগ উঠেছে ঘটনার তিন দিন পর গত রোববার সমাজের কয়েকজন ব্যক্তির উদ্যোগে ওই গরুটিকে হত্যার মাটিতে পুঁতে ফেলেছে। এই ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, গত ২২ সেপ্টেম্বর জুড়ানপুর গ্রামের মাদ্রাসা পাড়ার পটু সদ্দারের ছেলে মণ্টু সদ্দার দিনের বেলায় গরুর গোয়াল ঘরে তার নিজের গরুর সঙ্গে যৌনাচার করেন।

ঘটনাটি জানাজানি হলে গ্রামের উৎসুক জনতা পরিবারটির প্রতি অবজ্ঞা করে। একই সাথে ভয়-ভীতি প্রদর্শন করে। সমাজের ভয় ও লজ্জায় অভিযুক্ত মণ্টু সদ্দার বাড়ি ছাড়া হয়েছেন।
অন্যদিকে, গত রোববার সমাজের কতিপয় উৎসুক মানুষের উদ্যোগে জীবিত গরুটিকে রাতে হত্যা করে মাটিতে পুঁতে ফেলেন। গরুটির আনুমানিক মূল্য ৫০ থেকে ৫৫ হাজার টাকা বলে জানা গেছে।
বাংলাদেশের প্রচলিত আইন অনুযায়ী,পশুর সাথে বিকৃত যৌন আচরণ একটি মারাত্মক ও দণ্ডনীয় অপরাধ। এছাড়া প্রাণি কল্যাণ আইনে প্রাণির প্রতি নিষ্ঠুরতার জন্য কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে।
তাছাড়া ইসলামি ফিকাহ অনুযায়ীও প্রাণির সাথে এমন বিকৃত যৌন আচরণ চরম ঘৃণ্য অপরাধ। এক্ষেত্রে আইন নিজের হাতে না তুলে অপরাধীর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ বা মামলা দায়ের করা উচিত ছিল।
সচেতন মহলের দাবী, অপরাধ করেছে মানুষ, অথচ কোনো অপরাধ না করেই গরুটিকে হত্যা করা হয়েছে, যা আইনত অপরাধ এবং সম্পদ নষ্ট করার শামিল। আইনি বিচারে পশুটি ছিল একটি গুরুত্বপূর্ণ আলামত, যা ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে।
এলাকাবাসী বলছেন যে, অপরাধ করেছে তার দৃষ্টান্তমূলক বিচার হওয়া উচিত ছিল, কিন্তু মধ্যযুগীয় কায়দায় একটি জীবিত গরু হত্যা করে মাটিতে পুঁতে রাখা কতটা যুক্তিযুক্ত হয়েছে তা প্রশাসনের খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।
এ বিষয়ে দামুড়হুদা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) লাভলী ইয়াসমিন বলেন, দামুড়হুদা মডেল থানার ওসিকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বলা হয়েছে।
এনডি/এএস



