ওএনবি ডেস্ক : ইউক্রেনের বিরুদ্ধে যুদ্ধে অংশ নিতে রাশিয়ায় বিদেশি নাগরিকদের পাচারের অভিযোগে নতুন করে নিষেধাজ্ঞা ঘোষণা করেছে ব্রিটিশ সরকার। মঙ্গলবার (৫ মে) ঘোষিত এই পদক্ষেপে মোট ৩৫ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে দেশটি। যার মধ্যে একটি বাংলাদেশি ট্রাভেল কোম্পানি রয়েছে ।
যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধ চালিয়ে নিতে বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের প্রতারণার মাধ্যমে নিয়োগ দিচ্ছে। তাদের কেউ যুদ্ধক্ষেত্রে অংশ নিচ্ছেন, আবার কেউ কাজ করছেন অস্ত্র ও ড্রোন কারখানায়। এই নেটওয়ার্ক ভাঙতেই নতুন নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞার তালিকায় থাকা বাংলাদেশি প্রতিষ্ঠানটি হলো ড্রিম হোম ট্রাভেলস অ্যান্ড ট্যুরস লিমিটেড। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিদেশে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে লোকজনকে রাশিয়ায় পাঠাতো তারা। যদিও প্রতিষ্ঠানটি অনলাইন ট্রাভেল প্ল্যাটফর্ম হিসেবে বিমান টিকিট, হোটেল বুকিং, ভিসা সহায়তা ও ট্যুর প্যাকেজ সেবা দিয়ে থাকে।

নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি ওই প্রতিষ্ঠানের মালিকের যুক্তরাজ্যে থাকা যাবতীয় সম্পদ জব্দের নির্দেশ দিয়েছে ব্রিটিশ সরকার। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র দপ্তর স্পষ্ট করেছে যে, মানবপাচার ও অনিয়মিত অভিবাসনের মাধ্যমে যারা মানুষের জীবন বিপন্ন করছে, তাদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হবে।
যুক্তরাজ্যের দাবি, উন্নত জীবনের আশায় থাকা অভিবাসীদের প্রতারণার মাধ্যমে রাশিয়ায় নিয়ে গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্র ও সামরিক কারখানায় ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে রাশিয়ার ‘আলাবুগা স্টার্ট’ কর্মসূচির মাধ্যমে বিদেশি নাগরিকদের নিয়োগ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে।
ব্রিটিশ সরকার জানিয়েছে, ‘গ্লোবাল ইরেগুলার মাইগ্রেশন অ্যান্ড ট্রাফিকিং ইন পারসনস’ আইনের আওতায় এই প্রথম মানবপাচার ও অভিবাসনকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। ইউক্রেনের প্রতি তাদের সমর্থন অব্যাহত থাকবে এবং রাশিয়ার সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থা ও মানবপাচার চক্রের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক চাপ আরও জোরদার করা হবে।
উল্লেখ্য, ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি থেকে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ চলমান। এ যুদ্ধকে কেন্দ্র করে অভিবাসীদের যুদ্ধের ময়দানে ব্যবহারের যে অভিযোগ আন্তর্জাতিক মহলে বারবার উঠছিল, এই নিষেধাজ্ঞা সেই সত্যতাকেই আরও জোরালো করল।
জেএন



