ঢাকা: সম্প্রতি ঢাকাই সিনেমার চিত্রনায়িকা ববিকে ঘিরে ছড়িয়ে পড়া একটি গুঞ্জন নিয়ে ব্যাপক আলোচনা চলছে। এসব ভুয়া তথ্যের কারণে তার পরিবারও চরম মানসিক চাপে পড়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সম্রতি প্রতারণার অভিযোগে গ্রেফতার হওয়া ব্যবসায়ী মির্জা আবুল বাশারকে ববির ‘কথিত স্বামী’ হিসেবে উল্লেখ করে বিভিন্ন মাধ্যমে প্রকাশিত খবরকে সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট বলে দাবি করেছেন এই অভিনেত্রী।
তিনি জানান, গ্রেফতার হওয়া ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার কোনো বৈবাহিক সম্পর্ক নেই। অথচ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এবং কিছু অনলাইন প্ল্যাটফর্মে তাকে ববির ‘স্বামী’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়েছে।

ববি বলেন, কথিত স্বামী বলা হচ্ছে, এটা পুরোপুরি ভুয়া। শুরুতে বিষয়টি নিয়ে আমি খুব একটা মাথা ঘামাইনি। কারণ, আমি জানি অনেক সময় না জেনেই নানা ধরনের তথ্য ছড়িয়ে পড়ে।
তিনি বলেন, কিন্তু আমার পরিবারের সদস্যরা দেশের বাইরে থাকেন। তারা এসব খবর দেখে খুব কষ্ট পেয়েছেন। আমার মা এসব দেখে অসুস্থ হয়ে গেছেন। তাকে বারবার বোঝাতে হচ্ছে যে এগুলো ভুয়া খবর।
পরিবারের ওপর এর নেতিবাচক প্রভাবের কথা উল্লেখ করে অভিনেত্রী বলেন, একজন সন্তানের জন্য এর চেয়ে কষ্টের আর কী হতে পারে? পরিবার যখন অকারণে কষ্ট পায়, তখন বিষয়টি আর হালকাভাবে নেওয়া যায় না।
তিনি সাংবাদিকতার নৈতিকতার বিষয়টিও তুলে ধরেন। ববির মতে, যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য প্রকাশ করা হলে তা একজন মানুষের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক জীবনে মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে।
তিনি বলেন, সাংবাদিকতা একটি মহান পেশা। কিন্তু কিছু মানুষ এই পেশার নৈতিকতা ভুলে যাচ্ছেন। কোনো তথ্য যাচাই না করে প্রকাশ করলে একজন মানুষের সম্মান ও ব্যক্তিগত জীবন ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
ববি চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, সে আমার স্বামী-এটা কেউ যদি প্রমাণ করতে পারে, তাহলে সে যা চাইবে, তা-ই দেব। কারণ, এমন কোনো সম্পর্ক কখনো ছিল না। এই দাবির পক্ষে কারও কাছে কোনো প্রমাণও নেই।
অভিনেত্রীর ভাষ্য, সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীর সঙ্গে তার পরিচয় ছিল শুধুই কাজের সূত্রে। ওই প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে আমার কোনো আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক নেই। কাজের প্রয়োজনেই পরিচয় হয়েছিল।
তিনি বলেন, বিভিন্ন অনুষ্ঠানে বা অফিসে গেলে শিল্পী হিসেবে সম্মান জানিয়ে ছবি তোলা হয়েছে। পরে সেই ছবিগুলো ব্যবহার করে এমনভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে, যেন আমাদের মধ্যে ব্যক্তিগত সম্পর্ক রয়েছে। এটি সম্পূর্ণ মিথ্যা।
ববি আরও প্রশ্ন তোলেন, বন্ধু বলা হয়নি, পরিচিত বলা হয়নি, সরাসরি স্বামী বলা হলো কেন? কার স্বার্থে এসব করা হচ্ছে? আমার ব্যক্তিজীবন নিয়ে তেমন কোনো বিতর্ক নেই। তাই হয়তো অন্য কোনো উদ্দেশ্যে আমার নাম ব্যবহার করা হয়েছে।
জেএন



