চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলার খাসপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. চাঁদ আলীর বিরুদ্ধে নিয়মিত বিদ্যালয়ে উপস্থিত না থাকা এবং শিক্ষার্থীদের দিয়ে ব্যক্তিগত বিভিন্ন কাজ করানোর অভিযোগ উঠেছে।
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের হাজিরা খাতায় স্বাক্ষার করার পর তিনি দীর্ঘ সময় বিদ্যালয়ের বাইরে থাকেন। কখনো কখনো শিক্ষার্থীদের দিয়ে নিজের বাড়ির ছাগলের জন্য ঘাস কাটানো, গাছের ফল-ফলাদি পাড়িয়ে নেয়া ও পুকুরে মাছের খাবার দেওয়াসহ পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ করান।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকালে সরেজমিনে বিদ্যালয়ে গিয়ে প্রধান শিক্ষককে পাওয়া যায়নি। এ সময় বিদ্যালয়ে উপস্থিত এক সহকারী শিক্ষকের কাছে প্রধান শিক্ষক কোথায় জানতে চাইলে তিনি জানান, প্রধান শিক্ষক বাড়িতে গেছেন এবং কিছুক্ষণের মধ্যে আসবেন।

পরে প্রধান শিক্ষক মো. চাঁদ আলীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, তিনি চুয়াডাঙ্গা শিক্ষা অফিসে একটি সভায় যোগ দিতে যাচ্ছেন। তবে পরে তার বাড়িতে গিয়ে তাকে সেখানে পাওয়া যায়।
জানতে চাইলে তিনি জানান, বিদ্যালয়ের কাজেই তিনি জেলা শিক্ষা অফিসে যাওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে জানায়, প্রধান শিক্ষক নিয়মিত বিদ্যালয়ে আসেন না। যেদিন আসেন, কিছুক্ষণ অবস্থান করে আবার চলে যান।
তাদের অভিযোগ, বিদ্যালয়ের পাশের মাঠ থেকে তার বাড়ির ছাগলের জন্য ঘাস কাটতে বলা হয়। এছাড়া তার বাড়ির আমগাছ থেকে আম পাড়ানো এবং পুকুরে মাছের খাবার দেওয়া ও পুকুর পরিষ্কারের কাজেও শিক্ষার্থীদের নিয়ে যাওয়া হয়।
শিক্ষার্থীদের আরও অভিযোগ, এসব কাজ করতে অনীহা প্রকাশ করলে পরীক্ষায় কম নম্বর দেওয়া কিংবা ফেল করিয়ে দেওয়ার ভয় দেখানো হয়। এমনকি প্রধান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের দিয়ে সিগারেট কিনিয়ে আনতেন বলেও কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেছে।
অভিভাবকদের কয়েকজনও একই ধরনের অভিযোগ করে বলেন, দীর্ঘদিন ধরে প্রধান শিক্ষক নিজের ইচ্ছামতো বিদ্যালয় পরিচালনা করছেন। শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পরিবর্তে ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে। বিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষক ও প্রধান শিক্ষকের আত্মীয়স্বজনের চাকরির বিষয় নিয়েও তারা প্রশ্ন তোলেন।
এছাড়া কয়েকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করে, প্রধান শিক্ষকের ছেলের কাছে প্রাইভেট না পড়লে তাদের বইয়ে দাগিয়ে দেওয়া হয় না এবং পরীক্ষায় নম্বর কম দেওয়া হয়। প্রধান শিক্ষকের ছেলেও মাঝে মাঝে বিদ্যালয়ে এসে ক্লাস নেন বলে শিক্ষার্থীরা দাবি করেছে।
তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করে প্রধান শিক্ষক মো. চাঁদ আলী বলেন, “আমি বিদ্যালয়ের নিয়মিত ক্লাস নিই। আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ করা হচ্ছে, সেগুলো সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমি বিদ্যালয়ের কাজেই শিক্ষা অফিসে মিটিংয়ে যাওয়ার জন্য বের হয়েছিলাম।”
অভিযোগের বিষয়ে চুয়াডাঙ্গা সদর উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা লাইলা তাসলিমা বলেন, “প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ আমি আজই প্রথম শুনলাম। বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে। অভিযোগগুলো তদন্তে প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ওএফ/এসএইচ/এআর



