চুয়াডাঙ্গার জীবননগর উপজেলার মেদিনীপুর ও ভারতের নদীয়ার কৃষ্ণগঞ্জ থানার টুঙ্গি সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে আহত বাংলাদেশি মনিরুল ইসলামের কাছ প্রায় ৩ কেজি সোনা উদ্ধার করা হয়েছে বলে দাবী করেছে ভারতীয় বর্ডার সিকিউরিটি ফোর্স বিএসএফ।
ভারতীয় একটি সংবাদ মাধ্যমের খবরে বলা হচ্ছে, মনিরুল
বর্তমানে শক্তিনগর জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বর্তমানে সেখানে পুলিশি পাহারায় তার চিকিৎসা চলছে।
এর আগে গত শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে জীবননগর উপজেলার হরিহরনগর গ্রামের লিয়াকত ইসলামের ছেলে মনিরুল ইসলামসহ ৭ জনের একটি চোরাকারবারি দল ডিঙি নৌকায় করে নদীপথে সীমান্ত পেরিয়ে ভারতে সোনা পাচারের উদ্দেশ্যে কাঁটাতারের কাছাকাছি এলাকায় যায়।

এ সময় টুঙ্গি ক্যাম্পের টহলরত বিএসএফ জওয়ানরা তাদের সন্দেহজনক গতিবিধি লক্ষ্য করে থামার নির্দেশ দেন। তবে জওয়ানদের সতর্কবাণী ও নির্দেশ উপেক্ষা করে তারা ভারতে প্রবেশের চেষ্টা চালিয়ে গেলে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিএসএফ শূন্যে গুলি ও রাবার বুলেট চালায়।
এতে মনিরুলের ডান পায়ে গুলি ও পিঠে রাবার বুলেটের আঘাত লাগে এবং তিনি গুরুতর আহত হয়ে মাটিতে লুটিয়ে পড়েন। পরে বিএসএফ তাকে আটক করে ভারতের অভ্যন্তরে টুঙ্গি ক্যাম্পে নিয়ে যায় এবং দেহ তল্লাশি করে প্রায় ৩ কেজি সোনা জব্দ করে।
এদিকে, মনিরুলের অপর ৬ সহযোগী সাঁতরে ও খালের পানিতে ঝাঁপ দিয়ে বাংলাদেশে পালিয়ে আসতে সক্ষম হন। পালিয়ে আসা সহযোগীরা হলেন—একই গ্রামের কামাল উদ্দিনের ছেলে রাশেদ (৩২), তৈয়ব আলীর ছেলে আনিছ (৩৫), বগের ছেলে সোহান (২৫), কিনার উদ্দিনের ছেলে শাওন (২৬), মৃত বদরুদ্দিনের ছেলে মিন্টু (৩৮) এবং মতেহার হোসেনের ছেলে মশিয়ার (৪০)।
ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের খবরে আরও বলা হলা হচ্ছে, কালীপুজোর ঠিক আগে সীমান্তে বড়সড় একটি পাচার চক্রের ছক ভেস্তে দিল বিএসএফ। উদ্ধার হওয়া এই বিপুল পরিমাণ সোনা কোথা থেকে আনা হয়েছিল এবং এই পাচারের নেপথ্যে অন্য কোনো বড় চক্র বা প্রভাবশালী ব্যক্তি জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।
এদিকে হরিহরনগর সীমান্তে গুলির ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে চাঞ্চল্য ও উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এমভি



