, || ||

টাইগাররা ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে কোনো সুযোগই দেয়নি অস্ট্রেলিয়াকে

টাইগাররা ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে কোনো সুযোগই দেয়নি অস্ট্রেলিয়াকে

ঢাকা: খোদ অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে তাদেরই মাটিতে এমন অবিশ্বাস্য টেস্ট জয়- কখনো স্বপ্নেও কল্পনা করতে পেরেছে কেউ? ডারউইনের মারারা ক্রিকেট স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচে রীতিমত ইতিহাস গড়ে। ৯ উইকেটের বিশাল ব্যবধানে হারিয়ে দিলো। ঠিক এমন মূহুর্তে বিশ্ব এখন হতবাক হয়ে তাকিয়ে আছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের দিকে।

ডারউইন টেস্টের চতুর্থ দিনের অর্ধেক খেলা হলো। পুরো খেলার মধ্যে ব্যাটে-বলে-ফিল্ডিংয়ে কোনো একটি অংশে অস্ট্রেলিয়াকে উপরে উঠতে দেয়নি বাংলাদেশের ক্রিকেটাররা। এতটা প্রভাব বিস্তার করে, এতটা ডমিনেটিং ক্রিকেট খেলে বাংলাদেশের টেস্ট জয় অবিশ্বাস্য নয় তো কি!

প্রথম ইনিংসে স্টিভেন স্মিথের ক্যাচটি মিস করেছিলেন তানজিদ তামিম। পুরো ম্যাচে হয়তো ওই একটিই ভুল। না হয়, পুরো ম্যাচের আর কোনো অংশেই কোনো ভুল করেনি বাংলাদেশ। বোলিংয়ে তো বিশ্বের সেরা পারফরম্যান্স দেখালেন হাসান মাহমুদ, তাসকিন আহমেদ, এবাদত হোসেন, মেহেদী মিরাজ এবং তাইজুল ইসলাম।

ম্যাচের প্রথম ইনিংসে স্মিথ এবং দ্বিতীয় ইনিংসে ক্যামেরন গ্রিন হয়তো মাথা তুলে দাঁড়াতে চেয়েছিলেন; কিন্তু তাদেরকে একেবারে মহীরুহ হয়ে উঠতে দেনটি টাইগার বোলাররা। স্মিথ ৭১ রান করেছিলেন, গ্রিন করেছিলেন ১০৪ রান। কিন্তু তাদের এই দুটি ইনিংস লড়াইয়ের সৌন্দর্য বাড়িয়েছে কেবল, অস্ট্রেলিয়ার পরাজয় ঠেকাতে পারেনি।

বোলিংয়ে যেমন বাংলাদেশের বোলাররা ছিলেন সবচেয়ে বিধ্বংসী, তেমনি ব্যাটিংয়ে ছিলেন বাংলাদেশের ব্যাটাররা ছিলো পারফেক্ট টেস্ট ব্যাটার। তানজিদ তামিম শুরুতেই একটা পাগলামি করতে গিয়েছিলেন। মাত্র ২ রানের মাথায় ক্যাচ তুলে দিয়েছিলেন। ভাগ্য ভালো, নাথান লায়ন সেই ক্যাচটা মিস করেছিলেন।

সেই ক্যাচ মিসটাই অস্ট্রেলিয়ার জন্য হয়ে গেলো ম্যাচ মিসের সমান। তানজিদ তামিম টেস্ট ক্যারিয়ারে প্রথম সেঞ্চুরি করলেন অস্ট্রেলিয়ার বিশ্বমানের বোলারদের মোকাবেলা করে। মিচেল স্টার্ক, জস হ্যাজেলউড, প্যাট কামিন্স, ক্যামেরন গ্রিন- এরা বিশ্বের যে কোনো ব্যাটিং লাইনআপের জন্য আতঙ্ক।

মুমিনুল হক ১ রানের জন্য হাফ সেঞ্চুরি মিস করলেও অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ৮৪ রান এবং শেষ দিকে মেহেদী মিরাজের ৬৫ রানের ইনিংস বাংলাদেশকে একটি বড় টেস্ট প্লেইং দেশের কাতারেই তুলে দিলে দিলো। সে সঙ্গে হাসান মাহমুদ ১৪ রান করলেও তার ৯২টি বল মোকাবেলা চাট্টিখানি কথা নয়।

১৯৮ রানের বিপরীতে ৪২৬ রানের ইনিংস। বাংলাদেশ যেন অস্ট্রেলিয়ার আসনটাই দখল করে নিয়েছিল প্রথম ইনিংসে। দ্বিতীয় ইনিংসে অস্ট্রেলিয়া পিছিয়ে ২২৮ রান। ঘরের মাঠে এমন পরিস্থিতিতে নিকট অতীতে তারা পড়েছে কি না সন্দেহ।

২২৮ রান পাড়ি দিতেই অস্ট্রেলিয়াকে খোয়াতে হয়েছিল ৭টা উইকেট। বাকি ৩ উইকেট দিয়ে যোগ করতে পারলো আর মাত্র ৫৬ রান। স্মিথ (৪৪), গ্রিন (১০৪), ক্যারে (৩০)- এরা চেষ্টা করেছিলেন- অস্ট্রেলিয়ার লজ্জা বাঁচাতে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তাদের লড়াই বৃথা গেলো বাংলাদেশের ঘূর্ণি মাস্টার মেহেদী হাসান মিরাজের সামনে।

প্রথম ইনিংসে বল হাঁতে কাঁপিয়েছিলেন হাসান মাহমুদ, দ্বিতীয় ইনিংসে ঘূর্নি বলের মায়াজালে বেধেছিলেন মিরাজ। সঙ্গে হাসান মাহমুদের বিধ্বংসী বোলিং তো ছিলই। অস্ট্রেলিয়া ব্যাটারদের কাঁপাকাঁপি ছিল দেখার মতো। বাংলাদেশ দলের ফিল্ডাররাও ছিলেন বেশ ক্ষিপ্র, সচেতন।

এমন একটি সুযোগ হেলায় হারিয়ে যেতে পারতো ফিল্ডারদের ব্যর্থতায়। দু-একটি ছোট-খাট ভুল হয়েছিল হয়তো। কিন্তু অস্ট্রেলিয়ার চেয়ে নিঃসন্দেহে ভালো ফিল্ডিং করেছে টাইগাররা। যার কারণে এমন ইতিহাস সৃষ্টি করতে পারলো তারা।

তুখোড় বাংলাদেশের সামনে লক্ষ্য মাত্র ৫৭ রানের। জয়ের লক্ষ তাড়া করতে নেমে তানজিদ তামিম শূন্য রানে আউট হলেও সাদমান ইসলাম এবং মুমিনুল হক আর বিপদ ঘটাতে দেননি। হেসেখেলে পাড়ি দেন ৫৭ রান। বাংলাদেশকে এনে দিলেন অস্ট্রেলিয়ারই ঘরের মাটিতে, হারানোর গৌরবময় একটি বিজয়।

জেএফজে

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন