ঢাকা: ২৩ বছর পর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে প্রথম টেস্টে খেলতে নেমে দুইশ’র আগে গুটিয়ে দেয়ার পর প্রথম ইনিংসে বড় সংগ্রহ তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। বল হাতে দ্বিতীয় ইনিংসেও স্বাগতিকদের চাপে রেখেছেন টাইগার পেসাররা। তৃতীয় দিন শেষে তাই ডারউইনে ঝড় তুলেছে লাল সবুজরা।
শনিবার (১৫ আগস্ট) তৃতীয় দিন শেষে ৬৭ রানে পিছিয়ে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া। দ্বিতীয় ইনিংসে সেরা চার ব্যাটারকে হারিয়ে ১৬১ রান সংগ্রহ করেছে তারা। প্রথম ইনিংসে অজিদের ১৯৮ রানের বিপরীতে ৪২৬ রান করেছে বাংলাদেশ।
এর আগে তৃতীয় দিনে ৬ উইকেটের বিনিময়ে ৩৫১ রান নিয়ে ব্যাট করতে নেমেছিল বাংলাদেশ। এদিন তারা যোগ করেছে আরও ৭৫ রান। যেখানে বড় অবদান ছিল মেহেদী হাসান মিরাজের। ৬৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ ইনিংস খেলেছেন তিনি।

মিরাজকে সঙ্গ দিয়েছেন তাইজুল ইসলাম, তাসকিন আহমেদ ও এবাদত হোসেনরা। দ্বিতীয় সেশনের প্রথম ওভারেই মিরাজের প্রতিরোধ ভাঙেন জশ হ্যাজলউড। তার বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ৬৫ রান করা মিরাজ। শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ইনিংস থামে ৪২৬ রানে। শেষ ব্যাটসম্যান হিসেবে এবাদত হোসেনকে ফিরিয়েছেন হ্যাজলউড।
বাংলাদেশের বড় সংগ্রহে অবশ্য অবদান রেখেছেন একাধিক ব্যাটসম্যান। তানজিদ হাসান তামিম করেছেন সেঞ্চুরি। অধিনায়ক নাজমুল হোসেন শান্তর ব্যাট থেকে এসেছে ৮৪ রান। মুমিনুল হকের ৪৯ ও মুশফিকুর রহিমের ৩৬ রানও ছিল গুরুত্বপূর্ণ। এরপর মিরাজের ৬৫ রানের লড়াকু ইনিংস বাংলাদেশকে চারশ পেরিয়ে নিয়ে যায়।
এদিকে ২২৬ রানে পিছিয়ে দ্বিতীয় ইনিংস শুরু করেছিল অস্ট্রেলিয়া। এবারও শুরু থেকে তাদের চাপে ফেলেন প্রথম ইনিংসে ৬ উইকেট নেয়া টাইগার পেসার হাসান মাহমুদ। প্রথম ইনিংসের মতো দ্বিতীয় ইনিংসেও দুই ওপেনার জেক ওয়েদেরাল্ড (০) ও ট্রাভিস হেডকে (১৭) সাজঘরে ফেরান তিনি।
৩৭ রানের মধ্যে দুই উইকেট হারিয়ে চাপে পড়া দলকে তৃতীয় উইকেটে কিছুটা স্বস্তি এনে দিয়েছিলেন মার্নাস লাবুশেন ও স্টিভেন স্মিথ। তবে দলীয় ৭৩ রানে লাবুশেনকেও ফিরে যেতে হয় তাইজুলের ঘূর্ণিতে পর্যুদস্ত হয়ে। ৫৯ বলে ২ চারের মারে ৩১ রান করে বোল্ড হন তিনি।
এরপর ক্যামেরন গ্রিনকে নিয়ে কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন স্মিথ। প্রথম ইনিংসে অজিদের হয়ে সর্বোচ্চ ৭১ রানের ইনিংস খেলা স্মিথ এবারও ফিফটির পথে এগোচ্ছিলেন। তবে মিরাজ নিজের বলে ডানদিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে দারুণভাবে ক্যাচ নেন। তাতে ৮৮ বলে ৫ চারের মারে ৪৪ রানে থামে স্মিথের ইনিংস।
১২২ রানে চতুর্থ উইকেট হারানো অজিদের দিনের শেষ ভাগে আর বিপদে পড়তে দেননি গ্রিন ও অ্যালেক্স ক্যারি। দুজনের ৩৯ রানের অপরাজিত জুটিতে ভর করে দিন শেষ করে স্বাগতিকরা।
গ্রিন ৮৬ বলে ২ চারের মারে ৪৩ আর ৫০ বলে ৩ চারের মারে ১৯ রানে অপরাজিত রয়েছেন ক্যারি। হাতে এখনো দুদিন বাকি। অজিদের সেরা ৪ ব্যাটার সাজঘরে। বাংলাদেশের লক্ষ্য থাকবে আগামীকাল দ্রুত বাকি ৬ উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের পথ সুগম করা।
অস্ট্রেলিয়ার মাটিতে দ্বিপাক্ষিক সিরিজে প্রায় দুই যুগের ইতিহাসে ২ টেস্ট ও ৬ ওয়ানডে খেললেও কখনো জয়ের দেখা পায়নি টাইগাররা। তবে এবার সুযোগ এসেছে নতুন ইতিহাস গড়ার।
জেএন



