চুয়াডাঙ্গার দর্শনার চণ্ডিপুরে পুলিশের ওপর হামলা চালিয়ে আসামি ছিনিয়ে নেওয়া, সরকারি কাজে বাধা ও সরকারি সম্পত্তি ভাঙচুরের ঘটনায় দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আবু সিদ্দিকসহ ৯ জনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাতে ও বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের বিভিন্ন ইউনিট যৌথ অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করে।
গ্রেফতারকৃতরা হলেন— চণ্ডীপুর পূর্বপাড়া গ্রামের মোঃ আবু সিদ্দীক (৭০), লক্ষণ (৩৮), মোঃ ফিরোজ হোসেন (১৯), মোঃ ফরহাদ হোসেন (১৯), সোনালী হালদার (৩০), কণা রাণী (২৫), মোছাঃ নাছিমা বেগম (৪০), আলম বাদশা (৫৫) এবং ফুলন হালদার (৩২)।

পুলিশ জানায়, বুধবার রাতে দর্শনা থানার রাত্রীকালীন মোবাইল ডিউটি টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনাকালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে জানতে পারেন, দর্শনা থানাধীন চণ্ডীপুর পূর্বপাড়া গ্রামের সর্বজনীন শ্রী শ্রী দুর্গা মন্দিরের সামনে সড়কের ওপর কয়েকজন ব্যক্তি অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হলে কয়েকজন ব্যক্তি সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করে। এ সময় একই গ্রামের তরিবত মন্ডলের ছেলে আবু সিদ্দীক (৭০) কে আটক করেন।

আটক আবু সিদ্দীককে থানায় নেওয়ার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত কয়েকজন ব্যক্তি সংঘবদ্ধ হয়ে পুলিশের কাজে বাধা প্রদান করে এবং একপর্যায়ে পুলিশের ওপর হামলা চালায়।
এ সময় সরকারি কাজে ব্যবহৃত ব্যক্তিগত মোটরসাইকেলের হেডলাইট ও লুকিং গ্লাস ভাঙচুরসহ ক্ষতিসাধন করে। এ ঘটিনায় দুইজন পুলিশ সদস্যকে আহত হন। সেই সাথে পুলিশের হেফাজতে থাকা আটক আসামী আবু সিদ্দীককে জোরপূর্বক ছিনিয়ে নেয়।
ঘটনার পরপরই জেলা গোয়েন্দা শাখা (ডিবি), সাইবার ক্রাইম ইনভেস্টিগেশন সেল (সিসিআইসি) ও দর্শনা থানা পুলিশ যৌথ অভিযান চালিয়ে ঘটনায় জড়িত ৮ জনকে গ্রেফতার করে।
পরে বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) পালিয়ে যাওয়ার সময় দুপুর আনুমানিক দেড়টার দিকে চুয়াডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে আবু সিদ্দীককে গ্রেফতার করে জেলা গোয়েন্দা পুলিশ।
পুলিশ জানিয়েছে, সরকারি কাজে বাধা ও পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িত আসামিদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃত আসামিদের আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে।
পুলিশ আরও জানিয়েছে, জেলার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং অপরাধীদের দমনে চুয়াডাঙ্গা জেলা পুলিশের এই কঠোর অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এমএস/এএস



