সোমবার, ২১শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ || ৬ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ || ১০ই রবিউস সানি, ১৪৪৮ হিজরি

দর্শনায় ‘মাদক নির্মূল কমিটি’র সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক আত্মসাৎ ও ২০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ

দর্শনায় ‘মাদক নির্মূল কমিটি’র সদস্যদের বিরুদ্ধে মাদক আত্মসাৎ ও ২০ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ

চুয়াডাঙ্গার দর্শনা থানাধীন আকন্দবাড়িয়া গ্রামে ‘মাদক নির্মূল কমিটি’র কয়েকজন সদস্যের বিরুদ্ধে মাদক আত্মসাৎ, অর্থ আদায় এবং জব্দকৃত মাদকের পরিমাণ কম দেখানোর অভিযোগ উঠেছে।

মাদকসহ একটি মোটরসাইকেল আটকের পর সেটি ছেড়ে দেওয়ার কথা বলে ২০ হাজার টাকা নেয়া এবং পরে ৩৫ পিস স্কাফ সিরাপ ও মোটরসাইকেল উদ্ধারের ঘটনায় মামলা দেওয়ার অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট এক ব্যক্তি ও তার স্বজন।

জানা যায়, গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার দুপুরে আকন্দবাড়িয়া স্কুল এলাকার একটি বাঁশবাগানের মধ্য দিয়ে মোটরসাইকেলযোগে মাদক নিয়ে যাওয়ার সময় স্থানীয় ‘মাদক নির্মূল কমিটি’র কয়েকজন সদস্য মোটরসাইকেলটির গতিরোধ করে তল্লাশি চালান।

এ সময় কমিটির সদস্য জসিম, জুয়েল, রিপন ও রকিসহ কয়েকজন সেখানে উপস্থিত ছিলেন বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় মাদক কারবারের অভিযোগে অভিযুক্ত আকন্দবাড়িয়া গ্রামের বিকাশ (৩০) অভিযোগ করেন, তার মোটরসাইকেলে ১৩২ পিস আমদানি নিষিদ্ধ ভারতীয় নেশাজাতীয় স্কাফ সিরাপ ছিল। কমিটির কয়েকজন সদস্য সেগুলো নিয়ে নেন এবং মোটরসাইকেল ছেড়ে দেওয়ার জন্য তার কাছে ২০ হাজার টাকা দাবি করেন।

বিকাশ বলেন, টাকা না দিলে মোটরসাইকেল পুড়িয়ে দেওয়া এবং তাকে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়। একপর্যায়ে সুযোগ বুঝে তিনি সেখান থেকে পালিয়ে যান।

বিকাশের বোনের জামাই রাজা অভিযোগ করে বলেন, পরে জসিম তাকে ফোন করে বিকাশকে মাদকসহ আটকের কথা জানান। মোটরসাইকেল ছেড়ে দেওয়ার জন্য ২০ হাজার টাকা দাবি করেন। এরপর তিনি মোবাইল ব্যাংকিং বিকাশের মাধ্যমে ২০ হাজার টাকা পাঠান। এ লেনদেনের তথ্য তার কাছে রয়েছে।

রাজার অভিযোগ, টাকা দেওয়ার পর ১৩২ পিসের পরিবর্তে ৩৫ পিস স্কাফ সিরাপ ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার দেখিয়ে মামলা করা হয়। ওই মামলায় তাকেও আসামি করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।

রাজা আরও অভিযোগ করেন, জসিম, জুয়েল, রিপন ও রকিসহ কয়েকজন ‘মাদক নির্মূল কমিটি’র নাম ব্যবহার করে মাদক নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে মাদক সংশ্লিষ্ট কর্মকাণ্ডে জড়িত। তবে তার এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে আকন্দবাড়িয়া মাদক নির্মূল কমিটির সভাপতি মুন্নাফ বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই। তিনি খোঁজখবর নিয়ে বিষয়টি জানার চেষ্টা করছেন। অভিযুক্তরা মাদক সেবনও করেন না বলে তিনি জানেন। তবে অভিযোগের তথ্য সত্য হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এদিকে দর্শনা থানার ওসি নজরুল ইসলাম জানান, গত ১৯ সেপ্টেম্বর আকন্দবাড়িয়া এলাকা থেকে ৩৫ পিস স্কাফ সিরাপ ও একটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। ঘটনাস্থলে কোনো আসামি পাওয়া যায়নি। এ ঘটনায় দর্শনা থানায় একটি মামলা হয়েছে। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিষয়টি তদন্ত করে আরও খতিয়ে দেখবেন।

অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত জসিমের সঙ্গে তার মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন বন্ধ থাকায় তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

সিপি/ওএফ/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন