কক্সবাজার: বিরোধী দল বলছে এই বাজেট তারা মানে না। যে বাজেটে ট্যাক্স কমানো হয়, মদ ও সিগারেটের দাম বাড়ানো হয়, সেই বাজেটও বিরোধী দল মানে না। এ থেকে বোঝা যায়, দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শনিবার (১৩ জুন) কক্সবাজার সদরে পাতলী খাল পুনঃখনন কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে এ মন্তব্য করেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের মালিক জনগণ। দেশের মালিক কোনো পরিবার বা কোনো দল নয়। জনগণের কাছে প্রশ্ন, যেই বাজেটে জনগণের স্বস্তি আনার ব্যবস্থা করা হয়, তাকে যারা বিরোধিতা করে তারা কি জনগণের বন্ধু হতে পারে?

তারেক রহমান বলেন, প্রতিটি বাজেটের পরই জিনিসের দাম বাড়ে। কিন্তু বর্তমান সরকারের বাজেট দেয়ার পর নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসের দাম বাড়েনি।
তিনি বলেন, বাজেটে প্রতিটি ঘরে চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দেয়ার ঘোষণা দেয়া হয়েছে। সবকিছুর লক্ষ্য একটিই, জনগণের সেবা করা।
তিনি বলেন, অতীতের মতো এখন বিএনপি চেষ্টা করছে দেশ গঠনের। কিন্তু চক্রান্তকারীরা ষড়যন্ত্র করে অগ্রগতি আটকে দিয়েছিল। ভোটে জনগণ বিএনপিকে যে সমর্থন দিয়েছে, ততক্ষণ প্রাণ থাকবে ততক্ষণ দেশের উন্নয়নে কাজ করবে। কারণ দেশই বিএনপির প্রথম ও শেষ ঠিকানা।
দেশের চলমান উন্নয়ন বিষয়ে তিনি বলেন, ভোটের দাগ শুকানোর আগেই প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে শুরু করেছে সরকার। সবকিছুর লক্ষ্য একটিই, জনগণের সেবা।
দেশের গ্রামীণ অর্থনীতিকে চাঙা করা এবং নারীদের স্বাবলম্বী করতে আগামী এক বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলায় ৮ থেকে ১০ হাজার ‘কৃষক কার্ড’ এবং মায়েদের জন্য ‘ফ্যামিলি কার্ড’ বিতরণ করা হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তারেক রহমান বলেন, আমাদের দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকই নারী। দেশনেত্রী খালেদা জিয়া মেয়েদের ইন্টারমিডিয়েট পর্যন্ত বিনামূল্যে পড়াশোনার সুযোগ করে দিয়েছিলেন। মেয়েরা শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী না হলে দেশ এগোতে পারবে না। তাই বর্তমান সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, স্নাতক বা ডিগ্রি পর্যন্ত মেয়েদের শিক্ষা সম্পূর্ণ ফ্রি করা হবে। শুধু তাই নয়, যারা ভালো ফলাফল করবে তাদের জন্য উপবৃত্তির ব্যবস্থাও রাখা হয়েছে বাজেটে।
সদ্য প্রস্তাবিত বাজেটের প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাজেটের পর সাধারণত নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়ে। কিন্তু আল্লাহর রহমতে এবার কোনো পণ্যের দাম বাড়েনি। কারণ, চাল, ডাল, তেল, লবণসহ ৬০টি নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের ওপর থেকে বর্তমান সরকার ট্যাক্স প্রত্যাহার করেছে।
দেশীয় শিল্পের সুরক্ষায় বিদেশি পণ্যের ওপর কর বাড়ানোর বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমরা কৃষিপ্রধান দেশ হলেও শিল্প ও বাণিজ্য খাতকে আরও শক্তিশালী করতে হবে। তরুণদের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করতে হবে। তাই দেশে উৎপাদিত পণ্যের সমজাতীয় বিদেশি পণ্যের ওপর আমরা কর বাড়িয়েছি, যাতে দেশীয় শিল্পকারখানাগুলো প্রতিযোগিতায় এগিয়ে থাকতে পারে। পাশাপাশি মানুষের জন্য ক্ষতিকর মদ ও সিগারেটের ওপরও কর বৃদ্ধি করা হয়েছে।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে প্রধানমন্ত্রী ‘সবার আগে বাংলাদেশ’ স্লোগান উচ্চারণ করে দেশের সার্বিক উন্নয়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
শাহজাহান চৌধুরী শাহীন/এনডি/এএস



