দর্শনা-লোকনাথপুর সড়কে রাতের আধারে গাছ কেটে রাস্তার ওপর ফেলে রাখার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। বুধবার দিবাগত রাতে কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা সড়কের পাশের একটি গাছ কেটে রাস্তার ওপর ফেলে রাখে বলে স্থানীয়দের ধারণা।
বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) সকালে পথচারীরা বিষয়টি দেখতে পান। এতে সড়কে যানবাহন ও মোটরসাইকেল চলাচলে বিঘ্ন সৃষ্টি হয়। তবে এ ঘটনা দামুড়হুদা থানার ওসি সারাদিনে কিছুই জানেন না।
স্থানীয়রা জানান, লোকনাথপুর-পরানপুর গ্রামের সংযোগ সড়ক দিয়ে চুয়াডাঙ্গার দিকে যাওয়ার পথে লোকনাথপুর এলাকায় সড়কের মাঝখানে গাছটি পড়ে থাকতে দেখা যায়। সড়কের পাশে থাকা গাছটি কেটে এমনভাবে ফেলে রাখা হয়, যাতে যানবাহন চলাচলে বাধার সৃষ্টি হয়। সকালে চলাচলকারী পথচারী ও মোটরসাইকেল আরোহীরা গাছটি পড়ে থাকতে দেখে বিপাকে পড়েন।

বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিনব্যাপী আলোচনা সমালোচনা হলেও নজরে আসেনি দামড়হুদা মডেল থানা পুলিশের।
কে বা কারা রাতের আধারে গাছটি কেটে সড়কের ওপর ফেলে রেখেছে, তা নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন। এটি কি ডাকাতির উদ্দেশ্যে সড়কে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি, নাকি অন্য কোনো কারণে গাছটি কাটা হয়েছে তা নিয়ে এলাকায় রহস্যের সৃষ্টি হয়েছে।
তবে ঘটনাটির সঙ্গে ডাকাতি বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সংশ্লিষ্টতার বিষয়ে এখন পর্যন্ত নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা চলছে। রাতের আধারে সড়কের ওপর গাছ ফেলে রাখার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এ বিষয়ে দর্শনা থানার ওসি নজরুল ইসলাম বলেন, আমি সকালে শোনা মাত্র ফোর্স পাঠিয়ে খোঁজখবর নিয়েছি। গাছ কেটে ফেলে রাখার ঘটনাটি দামুড়হুদা থানার আওতাধীন। তবুও বিষয়টি নিয়ে আমরা তদন্ত করছি।
অন্যদিকে দামুড়হুদা মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ রাসেল বলেন, আজকের সারাদিন গাছ কাটা-সংক্রান্ত কোনো ঘটনা আমার জানা নেই। এ ধরনের কোনো তথ্যও আমার কাছে আসেনি।
তবে তিনি আবার পুনরায় বলেন, গাছটি অনেক আগেই কাটা হয়েছিল। গাছ কাটা নিয়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটেনি বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্যও পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল দর্শনা থানা পুলিশ পরিদর্শন করেছে।
একদিকে রাতের আধারে গাছ কেটে সড়কের ওপর ফেলে রাখার অভিযোগ, অন্যদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের তথ্য না থাকার বক্তব্য সব মিলিয়ে ঘটনাটি নিয়ে রহস্য আরও ঘনীভূত হয়েছে। গাছটি কখন, কীভাবে এবং কী উদ্দেশ্যে কাটা হয়েছে, তা নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ বিরাজ করছে।
এমএস



