, || ||

৩৪ জুলাই: শহীদ মিনার থেকে আসে সরকার পতনের ঘোষণা

৩৪ জুলাই: শহীদ মিনার থেকে আসে সরকার পতনের ঘোষণা

ঢাকা: এক দফার দাবি ইতিহাসে বারবার ফিরে এসেছে। ঠিক ২০২৪ সালের ৩ আগস্টও (৩৪ জুলাই) দাবি ওঠে স্বৈরাচার সরকার পতনের এক দফা দাবি। সেদিন সারা দেশ থেকে মানুষ জড়ো হন কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে।

সেখান থেকেই সরকার পতনের এক দফা ঘোষণা দেন তৎকালীন ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম। একইসঙ্গে ঘোষণা আসে অসহযোগ আন্দোলনের।

তবে একদিকে সরকারের পক্ষ থেকে আলোচনার আহ্বান, অন্যদিকে প্রতিরোধের হুমকি; কোনোটিই ছাত্র-জনতাকে সরাতে পারেনি রাজপথ থেকে। লক্ষ্য ছিল একটাই; সরকার পতন।

২০২৪ সালের ক্যালেন্ডারে তখনও যেন চলছিল রক্তাক্ত জুলাইয়ের দিন গণনা। আন্দোলনকারীদের কাছে সেটি ছিল ৩৪ জুলাই। কারফিউ, গুলি কিংবা ভয়; কিছুই থামাতে পারেনি তরুণদের।

সেদিন শহীদ মিনার চত্বর পরিণত হয়েছিল জনসমুদ্রে। চারদিকে একটাই স্লোগান, ‘রক্তের সঙ্গে কোনো আপস নয়’। লাল-সবুজের পতাকা হাতে, মাথায় কিংবা বুকে ধারণ করে মৃত্যুভয় উপেক্ষা করে মানুষ নেমে আসে রাজপথে।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সেই বিশাল সমাবেশ থেকেই সরকার পতনের এক দফা ঘোষণা দেন ছাত্র আন্দোলনের তৎকালীন সমন্বয়ক নাহিদ ইসলাম।

তিনি বলেন, বাংলাদেশের মানুষের জীবনের নিরাপত্তা ও সমাজে ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার জন্য আমরা এক দফার সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছি। এই সরকার কোনোভাবেই আর এক মিনিটও ক্ষমতায় থাকার বৈধতা রাখে না।

সমন্বয়কদের জনসমাবেশে দেখে নতুন করে উজ্জীবিত হয় ছাত্র-জনতা। একই মঞ্চ থেকে ঘোষণা করা হয় অসহযোগ আন্দোলনেরও।

সাবেক সমন্বয়ক ও এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, অনেকেই ২ আগস্ট রাতেই ভিডিও বার্তার মাধ্যমে এক দফা ঘোষণার পরামর্শ দিয়েছিলেন। কিন্তু আমাদের সিদ্ধান্ত ছিল, দীর্ঘদিন বন্দি থাকার পর জনতার সামনে উপস্থিত হয়েই এই ঘোষণা দিতে হবে। কারণ মানুষকে জীবন বাজি রেখে রাজপথে নামার আহ্বান জানাতে হলে সেই সাহস নিজেদেরও প্রকাশ্যে দেখাতে হতো। তাই জনতার মাঝখান থেকেই নাহিদ ইসলাম এক দফা ঘোষণা দেন এবং একইসঙ্গে অসহযোগ আন্দোলনের ডাক দেয়া হয়।

এদিকে শত শত প্রাণহানির পরও সরকারের পক্ষ থেকে সেদিন আলোচনার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি কঠোর অবস্থানেরও বার্তা দেয়া হয় সরকারের পক্ষ থেকে। সে সময় শেখ হাসিনা বলেন, গণভবনের দরজা খোলা। যথাযথ তদন্ত করে তাদের বিচার হবে।

তবে ছাত্র-জনতা রাজপথ ছাড়েনি। বরং সরকার পতনের লক্ষ্য সামনে রেখে আন্দোলন আরও সংগঠিত হতে থাকে।

জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, আগস্টের শুরু থেকেই এক দফা নিয়ে আলোচনা চলছিল। জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সবচেয়ে বড় সাফল্য হলো জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করা।

২০২৪ সালের সেদিন একদিকে ছিল জনতার উত্তাল সমাবেশ, অন্যদিকে হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষ। একদিকে আলোচনার আহ্বান, অন্যদিকে বন্দুকের মুখোমুখি প্রতিরোধ। সেই দিনেও প্রাণ হারান অনেক মানুষ।

যে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার মাথা নত না করার শিক্ষা দেয়, সেই শহীদ মিনার থেকেই ২০২৪ সালের ৩ আগস্ট ঘোষণা করা হয়েছিল স্বৈরাচার পতনের এক দফা।

সেদিন পুরো বাংলাদেশ স্পষ্ট করে জানিয়ে দেয়, স্বৈরশাসকের পতন ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। সেই ঘোষণার মধ্য দিয়েই শুরু হয় ‘রক্তিম জুলাই’য়ের শেষ অধ্যায়ের চূড়ান্ত কাউন্টডাউন।

জান্নাতুল ফেরদৌস/এএস

শেয়ার করুন

এখনই

আরো পড়ুন