চুয়াডাঙ্গার দর্শনায় প্রেসক্লাবে হামলা, সাংবাদিককে নির্যাতন এরপর মাদক ব্যবসায়ীর পক্ষে ছাত্রদল নেতার মানববন্ধন পরপর তিন ঘটনায় তোলপাড় চলছে দর্শনায়। রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে মাদক ও সন্ত্রাসের প্রকাশ্য উত্থানে ক্ষুব্ধ সাধারণ মানুষ।
মাদক ব্যবসায়ীর পক্ষে ছাত্রদল নেতার মানববন্ধনের বিষয়ে জেলা ও থানা ছাত্রদল স্পষ্ট জানিয়েছে মাদক কারবারির সঙ্গে সংগঠনের কোনো সম্পর্ক নেই, দায় ব্যক্তির।
এদিকে এসব ঘটনার জেরে দর্শনা থানার ওসি মেহেদী হাসানকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে।

জানা যায়, শুক্রবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে মদ্যপ অবস্থায় মাদক কারবারি চঞ্চল দর্শনা প্রেসক্লাবের দেয়ালে উলঙ্গ হয়ে প্রস্রাব করে এবং সাংবাদিকদের অকথ্য ভাষায় গালাগালি শুরু করে। প্রতিবাদ করায় প্রেসক্লাবের দপ্তর সম্পাদক আব্দুল হান্নানের ওপর হামলা চালানো হয়।
পরে ১০-১২ জনের একটি দল প্রেসক্লাবে ঢুকে লাইট বন্ধ করে হান্নানকে মারধর করে, তার মোবাইল ভাঙচুর করে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
এদিকে রবিবার ২৬ এপ্রিল রেলবাজার বটতলায় ইয়াবাসহ আটক এক ব্যক্তিকে ‘বিএনপির কর্মী’ দাবি করে তার পক্ষে মানববন্ধন করে দর্শনা থানা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক রিয়েল ইসলাম লিওনের নেতৃত্বাধীন একটি অংশ।
অভিযোগ রয়েছে, নিজেকে ‘ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক’ দাবি করা লিওনের নেতৃত্বেই শুক্রবার রাতে প্রেসক্লাবে হামলা ও সাংবাদিক নির্যাতনের ঘটনা ঘটে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে পাল্টা অভিযোগ তোলার চেষ্টাও হয় মানববন্ধন থেকে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে মাদক ব্যবসায়ীদের রক্ষার অপচেষ্টা চরম ধৃষ্টতা। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও অনাস্থা তৈরি হচ্ছে।
দর্শনার সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো শুধু বিচ্ছিন্ন সহিংসতা নয় রাজনৈতিক পরিচয়ের অপব্যবহার, সাংবাদিক নির্যাতন এবং মাদকসংশ্লিষ্ট অপতৎপরতার উদ্বেগজনক চিত্র।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, এখনই দোষীদের জবাবদিহির আওতায় এনে সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত না করলে বড় সংকট তৈরি হতে পারে।
এ প্রসঙ্গে দর্শনা প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান সুমন বলেন প্রেসক্লাবে হামলা মানে স্বাধীন সাংবাদিকতার ওপর আঘাত। দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা না নিলে কঠোর কর্মসূচি দেওয়া হবে।
এ ঘটনায় দর্শনা থানা ছাত্রদলের আহ্বায়ক নাফিউল ইবনে লিমন বলেন, কেউ নিজেকে ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক দাবি করলে তা গঠনতন্ত্রবিরোধী। মাদক ব্যবসায়ী বা সেবীদের সঙ্গে ছাত্রদলের সম্পর্ক নেই। ব্যক্তিগত অপকর্মের দায় সংগঠন নেবে না।
জেলা ছাত্রদল সভাপতি শাহজাহান খান ও সাধারণ সম্পাদক মমিন মালিতা জানান, মাদক ব্যবসায়ীর পক্ষে মানববন্ধন দলীয় নীতির পরিপন্থী। তদন্ত করে জড়িতদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সাংবাদিকদের সঙ্গে ঘটে যাওয়া ঘটনায় তারা দুঃখ প্রকাশ করেছেন।
এদিকে দর্শনা থানার ওসি মেহেদী হাসানকে পুলিশ লাইনে ক্লোজড করা হয়েছে। দামুড়হুদা-দর্শনা-জীবননগর সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার আনোয়ারুল কোবির জানান, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এ পদক্ষেপ।
চুয়াডাঙ্গা পুলিশ সুপার রুহুল কোবির খান বলেন, পুলিশ কাজ করছে, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমএস/এনডি/এএস



