চুয়াডাঙ্গা : চুয়াডাঙ্গা পৌর শহরের শেখপাড়ার একটি ভাড়াবাসা থেকে মুমতাহিনা অহনার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।মরদেহের পাশথেকে একটি চিরকুটও উদ্ধার করা হয়। চিরকুটে উল্লেখিত প্রেমিক শ্রাবণ রহমান জিতুর পরিচয় মিলেছে। তিনি নিজেই অহনার সম্পর্ক, বিচ্ছেদ এবং সর্বশেষ যোগাযোগের বিস্তারিত তুলে ধরেছেন।
শ্রাবণ রহমান জিতু বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজ এলাকায় তাদের পরিচয় হয়। সেখান থেকেই সম্পর্কের সূচনা। দীর্ঘ পাঁচ মাস আমাদের মধ্যে সম্পর্ক ছিল। তবে সম্প্রতি জানতে পারি, অহনা ধূমপানসহ নেশাজাতীয় দ্রব্য সেবন করতো।
তিনি বলেন, ব্যাক্তিগত অন্যান্য কারণে ঈদুল ফিতরের দুদিন পর আমি তার সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করি। ব্রেকআপের পর, ১৫ দিন আগে সরকারি কলেজের সামনে দেখা হয়েছিল। সে সম্পর্কের কারণ জানতে চেয়েছিল, কিন্তু আমি তাকে ফিরিয়ে দিই। এরপর আর কোনো যোগাযোগ হয়নি।

চিরকুটে সংসারের কথা উল্লেখ করার বিষয়ে জিতু বলেন, আমাদের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক ছিল। এ জন্য সে মনে করেছিল এটা সংসারের মত। এ জন্য লিখতে পারে। তবে আমরা বিবাহ করিনি। সে যে এমন সিদ্ধান্ত নেবে, তা আমি কখনো ভাবিনি। এই কাজটি সে ঠিক করেনি।
জানা গেছে, শ্রাবণ রহমান জিতু আলমডাঙ্গা উপজেলার চিৎলা ইউনিয়নের কয়রাডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা এবং দর্শনা সরকারি কলেজের অনার্স প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।
এর আগে গতকাল বুধবার (২৯ এপ্রিল) বেলা ৩টার দিকে চুয়াডাঙ্গা শহরের শেখপাড়ার একটি ভাড়া বাসা থেকে মুমতাহিনা অহনার ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। তিনি ওই বাসায় একাই বসবাস করতেন। নিহত অহনা গোপালগঞ্জ জেলা সদরের বাসিন্দা এবং চুয়াডাঙ্গা সমবায় নিউ মার্কেট এলাকার ‘রংধনু গিফট গার্ডেন’-এ ব্র্যান্ড প্রমোটার হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া চিরকুটে আবেগঘন ভাষায় প্রেমিকের প্রতি ভালোবাসা, সম্পর্ক ভাঙার কষ্ট এবং ব্যক্তিগত জীবনের হতাশা ফুটে উঠেছে।
চুয়াডাঙ্গা সদর থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, প্রাথমিকভাবে এটি আত্মহত্যা বলেই ধারণা করা হচ্ছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি চিরকুট উদ্ধার করা হয়েছে, যেখানে এক ব্যক্তির প্রতি গভীর ভালোবাসার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে। তবে সেটি কাকে উদ্দেশ্য করে লেখা, তা নিশ্চিত হতে তদন্ত চলছে।
ইআর/এনডি/জেএন



